স্বাস্থ্য যেখানে সার্টিফিকেটহীন ডাক্তাররাই করে জটিল চিকিৎসা!

১৯-১১-২০১৭, ০৭:৪৫

স্বাস্থ্য সময় ডেস্ক

fb tw
সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় যত্রতত্র গড়ে উঠেছে বেসরকারি ক্লিনিক, প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। রোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞ চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র না থাকায় প্রায়ই ভুল চিকিৎসা ও আর্থিকভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় তাদের।
ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার আরো সতর্ক হলে অপচিকিৎসা রোধ সহজ হবে। অবশ্য, তদন্ত করে অবৈধ ক্লিনিক, প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসক।
নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার হলো মডার্ণ মেডিকেল সার্ভিসেস। সার্টিফিকেটহীন টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে চলছে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। একই চিত্র নোভা ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সের। এখানে এক্সরেসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন আরেকজন টেকনিশিয়ান, যিনি একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নামই জানেন না।
হাসপাতালের ল্যাবে কর্মরত ওই ব্যক্তির কাছে জানতে চাওয়া হয় এই রিপোর্টগুলো কে করবে, তিনি বলেন, 'হাসপাতালের রেডিওলজিস্ট আছে তিনি করবে, কিন্তু তিনি তার নামই জানেন না'।
জেলার খানপুর, মিশনপাড়া, ডনচেম্বার, কালির বাজার ও বালুর মাঠসহ বিভিন্ন উপজেলা শহরে চোখে পড়বে এমন যত্রতত্র ক্লিনিক, প্যাথলজি এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে অনভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান ও চিকিৎসকের মাধ্যমে। নেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত মেশিন ও যন্ত্রপাতিও।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন,'যারা লেখা-পড়া জানে না, তাদেরকে ভুল বুঝিয়ে এই ক্লিনিকে নিয়ে আসে। সেখানে গরীব ও নিরীহ রোগীদের গলাকাটা হয়।'
তারা আরও জানান, অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে ডিউটি ডাক্তার নাই।
রোগীদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও সেখানকার চিকিৎসকরা আর্থিক সুবিধা নিয়ে দালাল চক্রের মাধ্যমে ব্যক্তি মালিকাধীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বাধ্য করেন। এতে প্রায়ই ভুল চিকিৎসা ও মাত্রাতিরিক্ত বিলের কবলে পড়ে প্রতারিত হতে হয় তাদের।
রোগীরা জানান, 'সরকারি হাসপাতালে এসেছি ডাক্তার দেখানো জন্য, কিন্তু ওইখান থেকে সঙ্গে একজন লোক দেন। পরে উনারা এখানে নিয়ে আসছে,এখানে এসে ডাক্তার দেখায়ছি।'
আরেকজন জানান, 'তারা পরীক্ষা তো তারা নোভা ও মেডি প্লাসে দেন। আর যেখানে দেন; সেখানে করতে হয়।'
অপচিকিৎসা রোধ করতে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে জেলা ক্লিনিক মালিক সমিতির ছাড়পত্র বাধ্যতামূলকসহ সরকারকে নিয়মিত তদারকি করার পরামর্শ দিলেন সংগঠনটির নেতা।
নারায়ণগঞ্জ ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী বলেন,'  যদি তারা ক্লিনিক মালিক সমিতির সদস্য হয়। তাহলে ক্লিনিক মালিক সমিতির একটা দায়িত্ব থাকবে; সেটাকে একটু দেখাশুনা করা।'
তবে, জনস্বার্থে যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি তদন্ত করে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেন সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসক।
নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. এহসানুল হক বলেন, ' সরকারের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যাক্ট রয়েছে। সেটা বিএমডিসি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আর সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করে থাকি। '
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া বলেন, 'আইন ভঙ্গ করে কেউ যদি ক্লিনিকের ব্যবসায় করে। তাদের বিরুদ্ধে জেল জরিমানাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।'
সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য মতে, জেলায় সরকার অনুমোদিত ব্যক্তি মালিকানাধীন ৯২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ৫৬টি ক্লিনিক রয়েছে। আর অনুমোদনহীনভাবে চলছে আরো ১০টি প্রতিষ্ঠান।
/ফাএ

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop