x

শিক্ষা সময় করোনায় তারা এখন উদ্যোক্তা

১৮-০৪-২০২১, ২১:৪৮

শিক্ষা সময় ডেস্ক

fb tw
করোনায় তারা এখন উদ্যোক্তা
05
দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত এক বছরে অনেক শিক্ষার্থীর জীবন পাল্টে গেছে। বিশেষ করে করোনা মহামারির কারণে তাদের অনেকে হারিয়েছে টিউশনি, পার্ট টাইম জব। এরই মাঝে কয়েকজন তরুণ প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তিতে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে নিয়েছেন, তারা এখন হয়েছেন উদ্যোক্তা।
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক ব্যবহার করে কয়েকমাস আগে ছোট পরিসরে যে ব্যবসা শুরু করেছিল, এখন সেটার পরিসর বাড়ানোর চিন্তা ভাবনা করছেন তারা। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসাটাও চালিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা তাদের।
বলছিলাম গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) চার শিক্ষার্থীর কথা। অল্প কয়েকদিনে যারা হয়েছেন সফল উদ্যোক্তা। তারা হলেন- সাব্বির খান আকাশ, বৃষ্টি ঘোষ, রাকিব হুসাইন সজীব ও অপু দাস।

'কুষ্টিয়ার কুমারখালির মৃৎশিল্প নিয়ে সাব্বিরের ই-বিলাস'
উদ্যোক্তা হওয়ার বাসনা অনেক আগে থেকেই সাব্বির খান আকাশের মনের মধ্যে উকি দিতো। করোনা মহামারির সময় যখন পুরো পৃথিবী থমকে গেছে তখন নিজের প্রয়াসে কিছু একটা করার ইচ্ছা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে সাব্বিরের। 
একসময় তিনি ভাবলেন এভাবে দিনের পর দিন বাড়িতে বসে থাকার চেয়ে সাহস করে কোন কিছু নিয়ে কাজ শুরু করবেন এবং এইসব চিন্তা থেকেই বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প নিয়েই তার কাজ শুরু। বাসা কুষ্টিয়া হওয়াতে কুমারখালির মাটির তৈরি তৈজসপত্র গোপালগঞ্জে নিয়ে বিক্রির আইডিয়া মাথায় চাপলো।
এরপরই গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে ই-বিলাস নামে একটি পেজ খুলে অনলাইন ভিত্তিক ব্যাবসার যাত্রা শুরু করেন তিনি। ১৬ সেপ্টেম্বর মো: খাইরুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের মাটির ডিনার সেটের প্রথম অর্ডারটি পান।
সাব্বিরের ই-বিলাস ফেসবুক পেজে মিলবে নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারযোগ্য মাটির চায়ের কাপ, গ্লাস, মগ, কোক গ্লাস, জগ, হাড়ি, কারি বাটি, বড়-ছোট বাটি, বগি প্লেট, বিরিয়ানী প্লেট, মাটির ফিল্টার, মাটির ব্যাংক, ফুলের টব, কলমদানি, ফুলদানিসহ সব ধরনের তৈজসপত্র। 
সাব্বির বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, 'আলহামদুলিল্লাহ, আমার উদ্যোক্তা হওয়ার প্রায় ৫ মাস হয়ে গেছে। উদ্যোক্তা হবার আগে মনে একটা প্রশ্ন সবসময় উদয় হতো, আসলে আমি পারবো কিনা বা আমার পণ্য কেউ কিনবে কিনা। তবে যখন শুরু করি তখন আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি এবং অনেক লাভের মুখ দেখেছি। আমার বেশীরভাগ ক্রেতাই বিভিন্ন জেলার, সবচেয়ে বেশি ক্রেতা ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের। আসলে আমি নিজ উদ্যোগে কাজ করা বিষয়টা অনেক বেশির সম্মানের ও ভালবাসার মনে করি এবং আমি আমার কাজকে যথেষ্ট সম্মান করি এবং নিজ জায়গা থেকে কাজকে অনেক ভালবাসি। আমার কাজের ক্ষেত্রে আমার মায়ের অনেক সাপোর্ট রয়েছে। খুব কাছ থেকে মা আমাকে মানসিক ভাবে সাহায্য করেছেন।'
নতুন যারা উদ্যোক্তা হতে চান তাদের উদ্দেশ্যে এই তরুণ বলেন, 'আসলে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে চাইলে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো নিজের মধ্যে সাহস এবং প্রচুর ধৈর্য থাকতে হবে। তাহলে উদ্যোক্তা হওয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে। একটা ছোট কথা আছে, জীবনে কোন কিছুতে রিস্ক না নিলে সেখানে সফলতা বা ব্যর্থতার গল্প শুনানো যায় না। আমিও আমার কাজে ঝুঁকি নিয়েছি এখন আলহামদুলিল্লাহ আমি সফল। যেকোন কাজ করতে গেলেই তার আগে পিছে সমালোচনা থাকবেই তবে সকল সমালোচনাকে পজিটিভ ভাবে নিতে হবে। আমরা যদি তথাকথিত চাকুরির পিছনে না ছুটে নিজ নিজ জায়গা থেকে উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করি, ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে যায়, ইনশাআল্লাহ সফলতা আসবে।'
সাঁজবিলাসে সেজেছে বৃষ্টির স্বপ্ন
উদ্যোক্তা হবেন এমন ইচ্ছা প্রথমে ছিলোনা বৃষ্টির। তবে ভালো লাগা থেকে শখের বশে কাজটা শুরু করবেন ভেবে ব্যপারটা বান্ধবীদের সাথে শেয়ার করলে তারাও আগ্রহ দেখায়, কিন্তু শেষমেশ তাদের আর একসাথে কাজটা শুরু করা হয়ে উঠেনি। 
অবশেষে একাই প্রস্তুতি নিয়ে 'No risk, no gain' কথাটা মাথায় রেখে গত বছরের ২২শে জুলাই ফেইবুকে ‘সাঁজবিলাস’ নামে একটি পেজ খুলে শাড়িসহ মেয়েদের বিভিন্ন সাঁজের কাঠের ও মেটালের গহনা বিক্রি শুরু করেন বৃষ্টি।
গত ২৭ জুলাই বন্ধু প্রীতম চৌধুরী থেকে একটা হ্যান্ড পার্সের প্রথম অর্ডারটি পান। এখন সাঁজবিলাসে মেয়েদের গলার হার, কানের দুল, গাজরা, টিকলি, হাতের চুড়ি, পায়েল প্রভৃতি গহনার পাশাপাশি বিভিন্ন শাড়ি যেমন- খেশ, হাফ সিল্ক, জুম, নকশীপাড় মিলবে।
বৃষ্টি ঘোষ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, 'কাজটি শুরু করার আগে পারব কি পারব না এমন চিন্তা যতটা এসেছিল তার থেকেও বেশি এসেছিল আমার জিনিস কেউ কিনবে কিনা। আমার মায়েরও ছোট খাটো একটা শাড়ির ব্যবসা ছিল যেটা আমাকে নতুন কিছু শুরু করার জন্য সব থেকে বেশি অনুপ্রেরণা আর সাহস যুগিয়েছিলো। বার বার মনে হতো, আমার মা পারলে আমি কেন পারব না। শেষমেশ বান্ধবীরা মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম কেউ যদি না কিনে তবে আমরা নিজেরাই ব্যবহার করব। এই কারণে কোন চিন্তা ছাড়াই কাজটা শুরু করতে পেরেছি।
এখন কাজটি করতে আমার বেশ ভালোই লাগে। বিরক্তিকর ভাব আসে না কখনো। আর এখনো পর্যন্ত তেমন কোন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির শিকার হতে হয়নি আমাকে। কাজটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে, সেকারণে এখনো পর্যন্ত লাভের দিকে বেশি নজর না দিয়ে কম লাভে প্রোডাক্ট সেল দিয়ে দিই। যাতে করে এক ক্রেতার মাধ্যমে অন্য ক্রেতার কাছে আমার প্রোডাক্টের ব্যাপারে জানাতে পারি। এখন আমার পেজে মেটালের গহনার পাশাপাশি খেশ শাড়ি আর নকশীপাড় শাড়িও বেশ বিক্রি হচ্ছে।'
এই ধরনের কাজের জন্য পরিবার থেকে সাপোর্ট পেয়েছেন কিনা প্রশ্নে বৃষ্টি জানান, সাপোর্ট না থাকলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায়। আর আমি এই দিক দিয়ে খুবই ভাগ্যবতী যে, আমার পরিবারের সবাই আমাকে সাপোর্ট দিয়েছে। বিশেষ করে আমার বাবা। আর পরিবারের সবার সাপোর্ট পেলেও গহনা বানাতে সবচেয়ে বেশি হেল্প করেছে আমার দিদি।
পরিবারের পরে সব থেকে বেশি সাপোর্ট আর সহযোগিতা পেয়েছি আমার বন্ধুদের কাছে থেকে। ওরা না থাকলে এতটা উৎসাহ পেতাম না কখনো। আর উৎসাহ না থাকলে কাজটা হয়তো অনেক আগেই থেমে যেতো। আমার কাজের পিছনে সমালোচকও ছিল। তবে ভালো লাগে এই ভেবে, যারা আমার কাজটা নিয়ে সমালোচনা করতো তারাই এখন আমার কাজের প্রসংশা করে।
যেসব মেয়েরা এমন উদ্যোক্তা হতে চায়, তাদের উদ্দেশ্যে এই তরুণীর পরামর্শ, আত্নবিশ্বাস না থাকলে কোন কাজেই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না। তাই নিজেকে উদ্যোক্তা হিসবে দেখতে চাইলে সবার প্রথমে আত্নবিশ্বাসী হওয়া আর সেইসাথে কঠোর পরিশ্রম আর কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকাটা খুব বেশি জরুরি। ছাত্রদের অলস সময়কে সঠিক ভাবে কাজে লাগানোর জন্য এন্টারপ্রেনারশিপের থেকে ভালো পন্থা বর্তমান সময়ে নেই। উদ্যোগ হতে হবে ইনোভেটিভ। আমি কোনো নির্দিষ্ট খাতের কথা উল্লেখ করতে চায়না। তবে সবারই উচিত তার প্যাশন ও দক্ষতার জায়গা গুলো নিয়ে কাজ করা। যার যে সকল বিষয়ে দক্ষতা আছে সে সেকল বিষয় নিয়ে একটু চিন্তা করলেই নতুন কিছু শুরু করতে পারবে সহজেই।
সজীবের 'আরবর হানি'র যাত্রা সুন্দরবনের খাঁটি মধু দিয়ে
শৈশব থেকেই নিজে কিছু করবেন এমন ইচ্ছে ছিল সজীবের, করোনা যেন সেই স্বপ্ন নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিল। গত বছরের ২৪ অক্টোবর থেকে আরবর হানি নামে একটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ইঞ্জিনিয়ার এক ভাইয়ের সাথে দাঁড় করিয়েছে সজীব।
এরপর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে 'আরবর হানি'র পেজে সুন্দরবনের খাঁটি মধুর সাথে সরিষার তেল ও গাওয়া ঘি বিক্রির ব্যবসাটা শুরু করলেন। নভেম্বরের ১ম সপ্তাহে বন্ধুর বাবার মাধ্যমে পেয়েছেন প্রথম অর্ডার, যেটি ছিলো ১৪ হাজার টাকা মূল্যের এক মণ বরই ফুলের মধুর অর্ডার। 
বাসা সাতক্ষীরাতে হওয়ায় সুন্দরবনের খাঁটি মধু নিয়ে ব্যাবসাটা এখন হয়েছে জমজমাট। বর্তমানে সজীবের আরবর হানিতে মিলবে কালোজিরা ফুলের মধু, সুন্দরবনের খলিশা ফুলের মধু, গরান ফুলের মধু, মিশ্র ফুলের মধু, এলাকার প্রাকৃতিক চাকের মধু, সরিষা ফুলের মধু, বরই ফুলের মধু, লিচু ফুলের মধু, বান্দরবানের পাহাড়ি মধু, তেঁতুল কাঠের ঘানিতে ভাংগানো দেশি সরিষার তেল ও খাঁটি গাওয়া ঘি।
সজীবও ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষার্থী, তিনি জানান, 'উদ্যোক্তা হওয়ার শুরুটা ছিল অপ্রত্যাশিত একটি ঘটনার মাধ্যমে। করোনা পরিস্থিতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়, যার ফলে অন্য সব শিক্ষার্থীদের মতো আমিও বাড়িতে চলে আসি। বাড়িতে এসে অনলাইন ক্লাস ও পড়াশোনার পাশাপাশি এলাকায় একটি টিউশনি করাতাম। টিউশনি ছিল সন্ধ্যায়, যেটা শেষ করতে করতে এশার আযান দিয়ে দিত। যার ফলে ঐ এলাকার একটি মসজিদে এশার নামাজ পড়তে যেতাম। 
ঐ মসজিদেই একদিন পরিচয় হয় মো: দিদারুল আলম নামের এক ভাইয়ের সাথে। যিনি একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পরও চাকুরির পিছনে না ছুটে শুরু করেছেন ব্যাবসা। তার সাথে পরিচয়ের এক পর্যায়ে জানতে পারি তার ব্যাবসার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সহ সকল বিষয়ে যা আমাকে তার সাথে কাজ করতে আগ্রহী করে তোলে। ব্যাবসার প্রতি আমার আগ্রহ ও আন্তরিকতা দেখে তিনি আমাকে তার সাথে কাজ করার প্রস্তাব দেন। এভাবেই আমার উদ্যোক্তা হিসেবে পথ চলা শুরু।'
আমি কি পারব, আমার জিনিস কেউ কিনবে, এমন চিন্তা প্রথমে সজীবের মাথায়ও এসেছিল। এজন্য ব্যাবসা শুরুর আগেই সে মধু সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিপনণ, ক্রেতার চাহিদা ইত্যাদি বিষয়ে যথেষ্ট ধারণা নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে। 
সজীব , 'এখন ব্যাবসা পরিচালনার সুবিধার্থে আমরা ব্যবসাটিকে কালেকশন এন্ড স্টোরেজ, কোয়ালিটি কন্ট্রোল এন্ড প্যাকেজিং, সেলস এন্ড প্রমোশন সেক্টর অনুযায়ী ভাগ করে নিয়েছি। বর্তমানে আমি কোম্পানিতে পার্টনারশিপে থাকার পাশাপাশি সেলস এন্ড প্রোমোশন ডিপার্টমেন্ট এর প্রধান হিসেবে কর্মরত। যার ফলে আমাকে কোম্পানির অনলাইন ও অফলাইন ভিত্তিক অর্ডার গুলার ডেলিভারি, ডিলারদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করা, পেজ মেইনটেইন করা সহ কোম্পানিকে জনপ্রিয় করার জন্য কাজ করতে হয়।'
ব্যাবসার পরিধী বড় হতে থাকায় সাতক্ষীরাতে সজীবের প্রতিষ্ঠান রিসেপশনিস্ট হিসেবে আগামী জুন থেকে অনার্স অধ্যায়নরত একজন শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া এই কোম্পানির ডিলারশিপ নিয়ে যে কেউ চাইলেই অনলাইন পেজ বা অফলাইনে মধু নিয়ে কাজ করতে পারবে। সাথে মৌ-খামার এ নিয়োগ এর ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ আছে।
নতুন যারা এমন উদ্যোক্তা হতে চায়, তাদের জন্য সজীবের পরামর্শ, কোনো বিষয় নিজের আগ্রহ বা দক্ষতা আছে সেটা অনুধাবন করতে হবে, সেবা বা পন্যটির ক্রেতা চাহিদা যাচাই করতে হবে। সুনির্দিষ্ট ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, প্রথমে ছোট পরিসরে কাজ শুরু করায় ভাল। পন্যের সর্বোচ্চ গুণগত মান বজায় রাখতে হবে। 
এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি এমন প্রশ্নে সজীব জানান, 'আমাদের সকলের চেষ্টায় কোম্পানি অনেক দ্রুত বড় হচ্ছে। যার ফলে আমরা অতি দ্রুত সময়ের ভিতর ট্রেড লাইসেন্স, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) থেকে মৌ-খামার লাইসেন্স এবং কোম্পানির লাইসেন্স নিতে পেরেছি। অতি শিগগিরই বিএসটিআই এর অনুমোদনও নিতে পারব আশা করি।
এর বাইরে আমরা চায়না থেকে দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন 'হানি প্রসেসিং মেশিন ও গ্রেড টেস্টিং মেশিন' সহ যাবতীয় সকল মেশিন নিয়ে এসেছি। শিগগিরই আমরা সরিষার তেলের মিল স্থাপন, দেশের প্রতিটি জেলায় ডিলার নিয়োগ, সাতক্ষীরা বিসিক এ কোম্পানি স্থানান্তর, কোম্পানির অধীনে কোন স্বনামধন্য কুরিয়ারের এজেন্ট পয়েন্ট সাতক্ষীরায় স্থাপনের পরিকল্পনাও আছে।'
শ্রীমঙ্গলের চা পাতা'তে অপুর পাতাকুঁড়ি
লক ডাউনে খারাপ সময় পার করছিলেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অপু দাস। নিজের সময়গুলো বিনা কাজে নষ্ট হতে দেখে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে কিছু একটা করবেন বলে ভাবলেন। বাসা সিলেট হওয়ায় শ্রীমঙ্গলের চা পাতা নিয়ে কাজের আইডিয়া মাথায় এলো। কিন্তু তার চা পাতা কেউ কি কিনবে? 
এমন চিন্তা থেকে প্রোডাক্ট আনার আগে, নিজেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পরিচিত করানোর চেষ্টা চালিয়ে যান অপু। করেছেন বেশকিছু অনলাইন ভিত্তিক কর্মশালা। যারমধ্যে ছিল উইমেন এন্ড ই-কমার্স (উই)'র বেশ কিছু অনলাইন ভিত্তিক কর্মশালা ছাড়াও ডিজিটাল মার্কেটিং এর ওপর কোর্সেরার মাধ্যমে ৪ টা কোর্স।
এরপর গত বছরের ১৫ জুলাই-এ ফেসবুকে পাতাকুঁড়ি নামে পেজ খুলেন ব্যাবসাটা চালিয়ে নেবার জন্য। অপু প্রথম অর্ডারটি পেয়েছিল ওই বছরের ২১ জুলাই, এই ৮০০ টাকার প্রথম অর্ডারটি পেজে প্রোডাক্ট আপলোড করার আগেই পেয়েছিলেন নাইমা নামের অপরিচিত একজনের থেকে। বর্তমানে অপুর পাতাকুঁড়ি পেজে সব ধরনের ব্ল্যাক ও গ্রিন টি পাওয়া যাবে।
উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনের গল্প নিয়ে অপু দাস জানান, 'চা পাতা নিয়ে কাজ শুরু করেছি প্রায় নয় মাস হলো। লাভের ব্যাপারে আসলে শুধু এতটুকু বলতে পারি, সামান্য একটা মূলধন নিয়ে শুরু করেছিলাম, এখন সেটা বেশ বড় অংকে দাঁড়িয়েছে। বিজনেসটা আমি পড়ালেখার পাশাপাশি চালিয়ে নিতে চাই। এই কাজের সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো অনেক মানুষের সাথে সহজে পরিচিত হওয়া যায়। আগে যে সময়টা মোবাইল গেমিং বা অন্য কোন কাজে কাটাতাম এখন সেটা বিজনেসে দিচ্ছি।'
পরিবার থেকে সার্পোট সবসময়ই পেয়েছি। সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা পেয়েছি আমার কো-ওনার ফারহানা আহমেদ থেকে। মার্কেটিং নিয়ে ও প্রচুর প্ল্যান করেছে। শুরুর দিকে অর্ডারগুলো আমাদের দুজনের আত্মীয় এবং কাছের বন্ধুদের থেকে পেয়েছি। আর এখন তো সারা দেশ থেকেই অর্ডার পাই। পুরো কাজটা আসলে আমাদের দুজনের প্ল্যানিংয়ের মাধ্যমেই হয়েছে। 
এছাড়া, আমাদের বন্ধুদের থেকেও দারুণ সহযোগিতা পেয়েছি। ছোট বড় সব কাজেই আসলে কম বেশী ঝুঁকি থাকে। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে আর্থিকমূল্যে পরিমাপযোগ্য ক্ষতিকেই আমি ঝুঁকি বুঝি। আমাদের আসলে সেরকম ভাবে কোন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়নি। তবে শুরুর দিকে প্রচুর সমালোচনা শুনেছি। আশেপাশের পরিচিত-অপরিচিত অনেকেই বিদ্রুপ করেছেন।
এখন ব্যবসাটা আগের চেয়ে বড় হয়েছে। পেজে এখন সব ধরনের চা যেমন-  ব্ল্যাক ডায়মন্ড টি, প্রিমিয়াম টি গোল্ড, বড় দানা, মাঝারি দানা, ক্লোন টি প্রভৃতি ব্ল্যাক টি পাওয়া যাবে। 
এছাড়া স্পেশাল গ্রিন টি (এক্সপোর্ট কোয়ালিটির, তৈরি হয় হাতের মাধ্যমে রোলিং করে চা গাছের একদম কুঁড়ি পাতা দিয়ে। এই গ্রিন টি তে আস্ত আস্ত পাতা থেকে চায়ের। চা রান্নার পর এই পাতা গুলো কাঁচা অবস্থায় যেই রকম থাকে সেই রকম হয়ে যায়) ও রেগুলার গ্রিন টি পাওয়া যাবে। আরও একটি স্পেশাল চা মিলবে যেটির নাম অর্থডক্স টি। এই চা দিয়ে গ্রিন টি এবং রং চা দুইটি হয়। যেটি ড্রাগন টি নামেও বেশ জনপ্রিয়।
নতুন যারা উদ্যোক্তা হতে চান তাদের উদ্দেশে অপু দাস বলেন, এক্ষেত্রে প্রচুর ধৈর্য জরুরি। অনেকেই ভাবেন অনলাইনে ছবি পোস্ট করলাম আর সব সেল হয়ে গেল, বিষয়টা আসলে তেমন নয়। অনলাইনে যেহেতু প্রোডাক্টটা হাতে ধরে দেখার সুযোগ নেই, সেক্ষেত্রে আপনাকে আগে বিশ্বস্ত হয়ে উঠতে হবে ক্রেতার কাছে।
এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে কাজে লাগানো যেতে পারে। প্রোডাক্টের মান এবং আপনার ব্যবহার এ দুটো জিনিস খুব বেশী জরুরি অনলাইনে কাজ করার ক্ষেত্রে। যে কোনো কাজে সময় দিয়ে লেগে থাকলে ভালো একটা ফলাফল অবশ্যই পাওয়া যায়।
নতুন কিছু করার মাঝে সবসময় ঝুঁকি থাকবেই। ঝুঁকিকে আমাদের সমাজের বেশিরভাগ তরুণ মেনে নিতে পারেন না। তাদের চাহিদা থাকে পড়ালেখা শেষে নিরাপদ একটি আয়ের উৎস নিশ্চিত করতে হবে। এর পিছনে মূল কারণ হিসেবে দায়ী করা যায় আমাদের সামাজিক নিরাপত্তার অভাবকে। 
এই সবকিছুকে পিছনে ফেলে যে কোনো খারাপ পরিস্থিতি সামলে ওঠা ও ব্যর্থতা গ্রহণের ইচ্ছাশক্তি নিয়ে করোনা মহামারিতে কাজ শুরু করা এই চার তরুণ আজ হয়েছে সফল। তারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে মেধাবীরা যা করবে সেটাই সুন্দর হতে বাধ্য, কর্মপরিকল্পনাগুলোর সঠিক বাস্তবায়নে যে কেউ হতে পারে সফল উদ্যোক্তা।
মাহমুদ/

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop