আন্তর্জাতিক সময় আত্মীয়ের মরদেহ রক্ষায় খুনির থেকে মরদেহ ক্রয়

১৪-০৪-২০২১, ১৫:৩০

ওয়েব ডেস্ক

fb tw
আত্মীয়ের মরদেহ রক্ষায় খুনির থেকে মরদেহ ক্রয়
05
চীনের একটি পরিবারের এক সদস্য মারা গেলে ঐতিহ্য মেনে তাকে দাফন করতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু আইন অনুসারে সেখানে মরদেহ দাফনে বারণ। এতে বিকল্প উপায় খুঁজতে গিয়েই অঘটনটি ঘটেছে।
তারা এক ব্যক্তির সঙ্গে বিকল্প একটি মরদেহ ক্রয়ের চুক্তি করেন। সে অনুসারে ওই ব্যক্তি তাদের কফিনবন্দি একটি মরদেহ হস্তান্তরও করেন।
কিন্তু অঘটনটি হল, ডাউন সিন্ড্রমের এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর হত্যা করে সেই মরদেহ তাদের দেওয়া হয়েছে।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে এমন মর্মান্তিক খবরটি দিয়েছে। 
ভূমি সুরক্ষাসহ বিভিন্ন কারণে চীনে লাশ দাফনে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।
এতে প্রয়াত স্বজনের মরদেহ দাহ না করে দাফন করতে একটি বিকল্প মরদেহ দরকার ছিল পরিবারটির।
হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে ২০১৭ সালে। গুয়াংডং হায়ার পিপলস কোর্টের তথ্যানুসারে, অপহরণকারী ব্যক্তির ডাকনাম হুয়াং। অপরাধের সাজা হিসেবে তাকে স্থগিত মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়।
আদালতের নথি থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালে পরিবারটির এক সদস্য মারা গেছেন। ঐতিহ্য অনুসারে তার মরদেহ দাফন করতে তারা আরেকটি লাশের খোঁজ করছিলেন। তারা হুয়াংকে অর্থ দেয় একটি বিকল্প মরদেহ পেতে।
গুয়াংডং প্রদেশের সানওয়াই শহরে বাস করে এই পরিবার। প্রদেশটিতে বিধান অনুসারে সব মরদেহই পুড়িয়ে ফেলতে হয়। পরিবারটির ধারণা, ওই লোক তাদের একটি বিকল্প মরদেহের ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন। এ জন্যই তার দারস্থ হয়েছিলেন তারা।
কিন্ত হুয়াং এক ব্যক্তিকে হত্যা করে তার মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করেন। নিহত ব্যক্তি ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন।
ডাউন সিনড্রোমকে সংক্ষেপে ডিএনএস বলে। এটি ট্রাইসোমি ২১ নামেও পরিচিত। এটি একটি জেনেটিক রোগ যেখানে ২১ নম্বর ক্রোমোজোমে আরেকটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোম থাকে।
এই রোগে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ও বুদ্ধিমত্তা স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকে। ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক তরুণের গড় আইকিউ ৫০ যা ৮-৯ বছরের সুস্থ শিশুর সমান।
ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিটি রাস্তায় আবর্জনা কুড়াচ্ছিলেন। হুয়াং তাকে গাড়িতে উঠতে বলেন—অচেতন হওয়ার আগ পর্যন্ত অ্যালকোহল পান করাতে থাকেন।
তার মরদেহ একটি কফিনে ভরে অর্থের বিনিময়ে ওই পরিবারটির কাছে হস্তান্তর করেন হুয়াং। পরিবারটি তাকে এক লাখ ৭০ হাজার ইউয়ান দিয়েছিলেন।
পরিবারটি এই মরদেহ এমনভাবে দাহ করেন, যেন সে তাদেরই প্রয়াত সদস্য। আর স্বজনের মরদেহ ব্যাপক গোপনীয়তার সঙ্গে ঐতিহ্য অনুসারে দাফন করেন।
২০১৭ সালে ডাউন সিনড্রোমের ওই ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার পর তার হদিস বের করা ও অপরাধীকে শনাক্ত করতে পুলিশের দুই বছর সময় লেগেছিল। পরে আদালত তাকে স্থগিত মৃতুদণ্ডের সাজা দিয়েছিল।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে গুয়াডংয়ের হায়ার পিপলস কোর্টে তার সাজা বহাল থাকে। এর অর্থ হচ্ছে, সে যদি পরবর্তী দুবছরের মধ্যে কোনো অপরাধ না করেন, তবে তার সাজা আজীবন কারাদণ্ডে রূপ নেবে।
ওই পরিবারটিকেও মরদেহ অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়, তবে তাদের কোনো কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি। তাদের কোনো জরিমানা গুণতে হয়েছে কিনা; তা জানা সম্ভব হয়নি।
চীনে কেউ মারা গেলে ঐতিহ্যবাহী দাফন প্রক্রিয়াই মানুষের বেশি পছন্দ। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও কফিনের পেছনে লোকজন মোটা অংকের টাকা ব্যয় করেন। এটিকে পূর্বপুরুষদের প্রতি সন্তানদের কর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কিন্তু এখন মরদেহ দাফন থেকে বিরত রাখতে প্রচার চালাচ্ছে চীন সরকার। কোনো অঞ্চলে মরদেহ দাফন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ভূমি সুরক্ষা ও দাফন অনুষ্ঠানের অতিরিক্ত ব্যয় এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop