অন্যান্য সময় ভাতিজির আত্মহত্যার পর ১৪১টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন কেশব রায়

১২-০৪-২০২১, ১৭:৪১

অন্যান্য সময় ডেস্ক

fb tw
ভাতিজির আত্মহত্যার পর ১৪১টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন কেশব রায়
08
ঘটনাটি ২০০৭ সালের, আমার জেঠাতো ভাইয়ের মেয়ের বাল্যবিয়ে ঠিক করা হয়েছিল তার অমতে। এ ঘটনায় আত্মহত্যা করে আমার ভাতিজি। খুব কষ্ট পাই তখন, পরিবারের সচেতনতার কারণে ঝরে যায় তার প্রাণ, সেদিনের পর থেকে বাল্যবিবাহ বন্ধের পথে নামি। আলাপচারিতায় এমনটিই জানান নীলফামারি সরকারি কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী কেশব রায়।
নীলফামারি জেলার জলঢাকা উপজেলায় যেন কোনো মেয়ের বাল্যবিবাহ না হয়, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেন কেশব, প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে বাল্যবিবাহের কুফলের ঘটনা ও ইতিবৃত্ত তুলে ধরে উঠানে নাটক করা শুরু করেন কেশব ও তার দল, এতে করে গ্রামের অনেক মানুষ সচেতন হওয়া শুরু করে। বিভিন্ন সময় কেশব রায়ের কাছে তথ্য আসতে শুরু করে বাল্যবিবাহের, সেই তথ্যের ভিত্তিতে কেশব রায় ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৪১টি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করেছেন।
কেশব জানান, বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া অনেক মেয়ে অনার্স, মাস্টার্সে পড়াশোনা করছেন, কেউবা ভালো উদ্যোক্তা হয়েছেন। 
কেশব রায় জানান, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর কর্মী চুনি ইসলাম ও মাহাতব লিটন ইসলাম প্রায়ই বিকেলে গ্রামের মানুষের সাথে গ্রামের পরিচিতি ও সচেতনতা নিয়ে আলোচনা করেন। একদিন আমরা আলোচনা করে সংগঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। আমাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও নীতিমালা তৈরি করি শিশু অধিকার, শিশু শ্রম, স্যানিটেশন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখি করা ও নাটকের মাধ্যমে অসচেতন মানুষদের সচেতন করে আলোকিত করার, সেই হিসেবে সংগঠনের নাম দেই ‘আলোকিত উন্নয়ন সমাজ কল্যাণ সংস্থা’। ২০১৩ সালে সংগঠন যাত্রার করার সময় আমাদের কোনো অর্থ ছিল না, তবে নিজেদের মেধা সততা ও আস্থা ছিল। আমরা নিজেদের পরিকল্পনায় নাটকের প্রশিক্ষণ, নিজেদের দক্ষতার প্রশিক্ষণ নিয়ে যাত্রা শুরু করি। নাটক করে আমরা কিছু টাকা উপার্জন করি এবং সদস্যদের কাছ থেকে সঞ্চয় নেওয়া শুরু করি। আমাদের লক্ষ্য অনুযায়ী কার্যক্রম চলতে থাকে। আমাদের কাজ দেখে প্রসাশনও সহযোগিতা করে। বালাবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করি। ই-শপ সেন্টার বাস্তবায়ন করি। তরুণদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করি। নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ দেই। নাটকের মাধ্যমে সচেতন করাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। 
কেশব রায় আরও জানান, আমাদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৩ সালে জাতিসংঘ থেকে ইয়্যুথ ক্যারেজ এ্যাওয়ার্ড, ২০১৪ প্ল্যান ইন্টারনেশন্যাল গ্লোবাল এ্যাওর্য়াড,  ২০১৫ সালে জয় বাংলা ইয়্যুথ এ্যাওর্য়াড, ২০১৬ সালে ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার, জনতা ক্লাব ঢাকা, বাংলাদেশ পাঠাগার আন্দোলন পুরস্কার অর্জন করি।
এছাড়া ২০১২ সালে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় শ্রীলংকাতে ২০১৩ সালে ব্যাংককে শিশু সুরক্ষা বিষয়ক সেমিনারে অংশ নেন, ২০১৮ সালে ইয়াং বাংলা সিআরআই ও ভারত হাইকমিশনের সহযোগিতায় ভারতে এই তরুণ অংশগ্রহণ করেন হান্ড্রেড ডেলিগেটস সেমিনারে। 
কেশব রায় বলেন, ২০১৫ সালে জয় বাংলা পুরস্কার পাওয়ার পর সংগঠনের কার্যক্রম উন্নতির দিকে আসে। ইয়াং বাংলার সহযোগিতায় প্রত্যান্ত এলাকায় গড়ে ওঠে মাইক্রোসফট কম্পিউটার ল্যাব এবং ই-শপ সেন্টার। এখান থেকে শতাধিক শিক্ষার্থীকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ই-শপের মাধ্যমে ১৮জনকে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করা হয়।
‘আলোকিত উন্নয়ন সমাজ কল্যাণ সংস্থা’ এর সভাপতি কেশব রায় আগামী দিনে কাজ করতে চান অসহায় দরিদ্র নারীদের এগিয়ে নিতে, যারা পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়িতে বসে থাকে তাদের হস্তশিল্পের কাজ শিখিয়ে উদ্যোক্তা বানানোর স্বপ্ন কেশবের, এতে বাল্যবিবাহ কমে আসবে ও দারিদ্র বিমোচন হবে বলে মনে করেন তিনি।
মোশারফ হোসাইন/

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop