বাণিজ্য সময় ‘সরকারের রাজস্ব বাড়লে উন্নয়ন কাজ করতে পারবে’

১০-০৪-২০২১, ১৭:৫৭

হরিপদ সাহা

fb tw
‘সরকারের রাজস্ব বাড়লে উন্নয়ন কাজ করতে পারবে’
06
প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেছেন, সরকারের রাজস্ব দরকার, এটা বাড়লে অনেক উন্নয়নকাজ করতে পারবে। আবার রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব হয় না যদি কিনা অর্থনীতি সচল না থাকে ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর না করা যায়।
শনিবার (১০ এপ্রিল) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ আয়োজিত প্রাক বাজেট আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ঢাকা চেম্বারের আজকের আলোচনায় কর কমানোর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির তুলনায় রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি যদি বেশি না হয় তাহলে কিন্তু প্রকৃত আয় কমে যায়। আমাদের এখন ভাবতে হবে, কিভাবে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত না করে কোথায় কতটুকু করহার কমানো যাবে। শুল্ককর ও আয়করের হার একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্থিতিশীল রাখার কথা বলা হচ্ছে। সেখানে অন্যরকম অসুবিধা আছে তাহলো, একইখাতে বিভিন্ন সময়ে বিনিয়োগকারীদের সমান সুযোগ দেয়া যায় না। 
তিনি মনে করেন গ্রহণযোগ্য করহার কত হবে তা সামাজিক ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। যেমন সুপার মার্কেটে ১৫% ট্যাক্স ও ৪ % ভ্যাট মোট ১৯% করের বোঝা চাপে ক্রেতাদের ওপরেই। মূল্য সংযোজন কর বেড়ে গেছে। বিভিন্ন পর্যায়ে ট্যাক্স দিতে হচ্ছে, ১৫% এর বেশি হচ্ছে হয়তো সবমিলিয়ে।
তারমতে বিভিন্ন কারণে ট্যাক্সরেটে জটিলতা আছে। রেয়াত ঠিকমত সমন্বয় না করতে পারলে প্রকৃত করহার বেড়ে যায়। নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক নির্দিষ্ট নয়, পরিবর্তন হয় বিভিন্ন সময়। এতেও স্থানীয় শিল্পে প্রভাব পরে। কর বা শুল্কহার হঠাৎ করে কোনোবছর বেশি বাড়লে বাজারে বৈষম্য তৈরি করে। এজন্য সরকারের উচিৎ ধীরে ধীরে কর বাড়ানো।
আলোচনায় অর্থনীতিবিদ ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, করোনার অভিঘাত থেকে পুনরুত্থান হচ্ছিলো কিন্তু দ্বিতীয় ধাক্কায় তা আবারও ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় সামাজিক নিরাপত্তা খাতে জোর দিতে হবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ নজর দিতে হবে। অন্যদিকে এনবিআরের ভূমিকা নিয়ে বলতে হয়, ব্যবসার জন্য প্রনোদনার সুযোগ রেখেই রাজস্ব আদায় চালাতে হবে সরকারের প্রত্যাশা ও চাহিদা অনুযায়ী।
তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস এখন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতেও কাজ করছে। আমাদের প্রবৃদ্ধিতে অভ্যন্তরীণ বাজারের ভূমিকা অনেক বেশি। বাংলাদেশকে যদি মধ্য আয় বা উন্নত দেশে নিয়ে যেতে হলে, সস্তা শ্রমের জায়গা থেকে সরে এসে দক্ষ শ্রমিকের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে গেমচেঞ্জিং নীতিমালা দরকার। মানসম্পন্ন কারিগরি শিক্ষায় অগ্রগতি প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির বাধাও আছে। কেননা কারিগরি শিক্ষাকে এখনো গরীবের শিক্ষা মনে করা হয়। বাজেটে দুই জায়গায় গুরুত্ব দিতে হবে, করোনায় শহুরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অপ্রতুল দেখা গেছে। প্রাইমারি হেলথকেয়ারও তাদের জন্য যথেষ্ট নয়। এগুলোতে বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জমি চিহ্নিতকরণ ও উন্নয়নে পরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের ওপর তার প্রভাব বিবেচনা করতে হবে।
বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট -বিল্ড এর সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, গত বাজোটের মতো এবারো এনবিআর কর্পোরেট করহার ২.৫ শতাংশ কমাবে বলে আশা করি। কেননা করহার বাস্তবে নির্ধারিত মাত্রার বেশি হয়, কেননা নীতি জটিলতায় কোথাও কোথাও দ্বৈত কর দিতে হয় ব্যবসায়ীদের। এছাড়া আয়ের ১ শতাংশ গবেষণা ও উন্নয়নে খরচের সুযোগ দিয়ে তা করমুক্ত করা যেতে পারে।
বাংলাদেশ প্রাইভেট ইকোনমিক জোন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ এস এম মাইনুদ্দিন মোনেম বলেন, বিগত ৫-৭ বছর ধরে রুপপুর পাওয়ার প্লান্ট, পদ্মা সেতু ও সংযোগ সড়ক, বিআরটি, মেট্রোরেল, কর্নফুলি টানেলসহ বড় বড় মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। ইকোনোমিক জোনে পাওয়ার গ্রিড, গ্যাসের  সংযোগ, সমুদ্র বন্দরের সাথে যোগাযোগ উন্নত করা, জমির নিষ্কন্টক হওয়ার বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে দ্রুততার সাথে। তাহলে শিল্পায়ন গতি পাবে, কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে বহু মানুষের।
ইউনাইটেড হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, অনেক মানুষ বিদেশে চিকিৎসা নিতে যায়, আস্থা নিয়ে সংকট আছে দেশীয় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে। তবে করোনায় বিদেশ যাওয়ার সুযোগ না থাকায় এসময় দেশী হাসপাতালগুলো সুযোগ পেয়েছে বেশি রোগীর সেবা দেয়ার। এসময় তাদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছে, এ খাতকে অগ্রাধিকার দিলে অনেক সম্প্রসারণের সুযোগ আছে। নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন দরকার। এখাতে স্থানীয় সক্ষমতা বাড়াতে ডাক্তার ও নার্সের সংখ্যা ৪ থেকে ৬ গুণ করতে হবে। অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের দিকে যেতে হবে। সরকারের বাজেট বাড়াতে হবে স্বাস্থ্য খাতে। আগামি কয়েকবছরে বরাদ্দ ১০ থেকে ১২ শতাংশে নিয়ে গেলে উপযুক্ত হবে মনে করি। ভ্যাকসিনেশন হয় বড় জনগোষ্ঠীর, তাই ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউট এর মত একটা প্রতিষ্ঠানন গড়ে তোলা উচিৎ। বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা হাসপাতালগুলোকে প্রথম কয়েকবছর করমুক্ত রাখা উচিৎ, পরবর্তীতে করহার ১৫ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত না। যন্ত্রপাতি আমদানিতেও শুল্কহার সহনীয় করতে হবে। এসব উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবার মূল্য কমানো সম্ভব।
ডিসিসিআই এর সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম বলেন, এসএমই তালিকাভূক্তির পর ৫ বছর ১০ শতাংশ কর হার করা। পাশাপাশি করপোরেট কর কমানোর দাবি, এতে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানও আগ্রহ প্রকাশ করবে তালিকাভুক্ত হতে।
এসময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর নীতি বিভাগের সদস্য মো. আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা প্রায়ই অভিযোগ শুনি করহার ৩২.৫ শতাংশ। কিন্তু তা সঠিক নয়, শূন্য থেকে শুরু করে ১২, ১৫, ২০,২৫, ৩২.৫ বিভিন্ন রকম করহার আছে। আমরা করজাল সম্প্রসারন করতে পারলেই করহার আরও কমাতে পারবো। সে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে ভবিষ্যতেও। এক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বাজেটে গুরুত্ব দেয়া হবে।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে অবদান জিডিপিতে ২৫% হলেও কর্মসংস্থানে এর ভূমিকা অনেক বেশি। করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এসএমই খাত। দু:খের বিষয় ৫ বার সময় বাড়িয়েও সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ ২০ হাজার কোটি টাকার ঝণ এসএমই উদ্যোক্তাদের কাছে পুরোপুরি পৌছায়নি। মাত্র ৬৮ শতাংশ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। করোনায় এখাতের শ্রমিকদের কাজ হারানো, মজুরী গড়ে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমার ঘটনা ঘটেছে। এঅবস্থা চলতে থাকলে অভ্যন্তরীণ বাজারের পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ হুমকিতে পড়তে পারে। পাটজাত পণ্যে বড় রপ্তানীকারকরা প্রনোদনা পেলেও ছোটরা পাননা, এধরনের বৈষম্য দূর করতে হবে। এসএমইখাত ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে কাজ করে। তাই গুরুত্ব দিতে হবে রপ্তানীতে আমদানি নির্ভরতা কমাতেও। এদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেও কাজ করতে হবে এনবিআর, অর্থমন্ত্রনালয়কে।
ব্যবসায়ী নেতা ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. জসীম উদ্দিন বলেন, করোনার নেতিবাচক প্রভাব এতোটা দীর্ঘমেয়াদি হবে তা ভাবনায় ছিলোনা। ক্ষুদ্র শিল্পে ভ্যাট ও অন্যান্য কর আদায়ে হয়রানি, অবৈধ লেনদেন, দুর্নীতি আছে। এখাতে রাজস্ব আয়ও খুব বেশিনা, বিপরীতে কর আদায়ে এনবিআরকে খরচ করতে হয় অনেক। এক্ষেত্রে জটিলতা দূর করতে হবে। তাদের প্রথম ৫ বছর কর ছাড় দেয়া যেতে পারে।
বিকেএমইএ সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, যারা নতুন করে পরিবেশবান্ধব কারখানা করবেন তাদেরকে প্রণোদনা বাড়াতে হবে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব হবেনা। কারণ এসব কারখানায় বড় অংকের বিনিয়োগ করতে হয়।
বাংলাদেশ সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী ইনাম আহমেদ বলেন, সামনের ১০ বছরে বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে সুপারশপ সম্প্রসারণে সম্ভাবনা আছে। এখাত দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা, খাদ্যপণ্যের গুণমান ঠিক রাখতে কাজ করে। তবে ১৫ শতাংশ আয়কর আর ৪% ভ্যাট বড়বাধা। এখানে শীতলীকরণ যন্ত্রের দরকার হয়, কিন্তু তার আমদানিতে শুল্ককরহার অনেক বেশি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম তামিম বলেন, সরকার জ্বালানি ও বিদ্যুৎখাতে অনেক উন্নতি করেছে। গ্যাস আমদানি হচ্ছে, তবে এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে স্পট মার্কেট থেকে কেনা হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতেও কিনছে সরকার। এক্ষেত্রে স্পট মার্কেটে কেনার জন্য একটা বিশেষ সেল করতে হবে যাতে দ্রুততার সাথে কেনা যায়। এছাড়া এদেশে বিদ্যুতের দাম অস্থিতিশীল, দীর্ঘমেয়াদে দাম স্থির থাকেনা। যা ব্যবসায়ীদের চিন্তার কারণ। বাজেটে বিবেচনা করা যেতে পারে এলএনজিতে ট্যাক্স-ভ্যাট মওকুফ করার বিষয়টি। তাহলে সরবরাহ ভালো হবে, শিল্প উপকৃত হবে।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop