আন্তর্জাতিক সময় ধর্ষণ মামলায় বিচারপতির বিয়ের প্রস্তাব, তোলপাড় ভারতে

০৫-০৩-২০২১, ১১:৫৪

আন্তর্জাতিক সময় ডেস্ক

fb tw
ধর্ষণ মামলায় বিচারপতির বিয়ের প্রস্তাব, তোলপাড় ভারতে
01
ভারতে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলায় দেশটির সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর তার পদত্যাগের দাবি উঠেছে। প্রধান বিচারপতি শারদ বোবড়েকে লেখা একটি ‘খোলা চিঠিতে’ পাঁচ হাজারের ওপর নারীবাদী, নারী অধিকার কর্মী এবং উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে তার বিবৃতি প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা। সেখানে বলা হয়েছে, মূলত প্রধান বিচারপতির দুটি প্রশ্ন নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্ষণের মামলা নিষ্পত্তিতে আপস হিসেবে বিয়ের প্রস্তাব ‘ন্যক্কারজনক’ এবং ন্যায়বিচারের অধিকার এতে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
তিনজন বিচারকের একটি বেঞ্চের প্রধান হিসেবে বিচারপতি মি. বোবড়ে অভিযুক্ত ২৩ বছর বয়সী ব্যক্তির কাছে জানতে চান, তিনি ধর্ষণের অভিযোগকারী মেয়েটিকে বিয়ে করবেন কি না? যদি তিনি ওই মেয়েকে বিয়ে করতে চান, তাহলে সাহায্য করারও আশ্বাস দেন ওই বিচারপতি, অন্যথায় যুবক চাকরি হারাবেন এবং কারাগারে যাবেন বলে জানান।
বিচারপতির এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান নারী অধিকার কর্মীসহ অন্যরা। তারা বলেন, অভিযোগকারী নারী, ‍যিনি ২০১৪ থেকে ১৫ সালের মধ্যে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগ এনেছেন। সে সময় তার বয়স ছিল ১৬ বছর। অভিযুক্ত ব্যক্তি তার দূর-সম্পর্কের আত্মীয়।
ওই চিঠির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে মেয়েটির পিছু নিয়ে তাকে হয়রানি করে, তাকে বেঁধে রাখে, চিৎকার যাতে করতে না পারে তার জন্য তার মুখ কাপড় গুঁজে বন্ধ করে রাখে, স্কুলশিক্ষার্থী মেয়েটিকে বারবার ধর্ষণ করে এবং তার গায়ে পেট্রল ঢেলে গায়ে আগুন দেয়ার ও তার ভাইকে খুন করার হুমকি দেয়’।
এতে আরও বলা হয় যে, ‘ওই স্কুলছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করলে ধর্ষণের ঘটনা প্রথম প্রকাশ পায়।’
মেয়েটির পরিবার অভিযোগ করে বলে, ঘটনা প্রকাশ হলে অভিযুক্তের মা তাদের বলেছিলেন যে, মেয়েটি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর ছেলেটির সঙ্গে তারা মেয়েটির বিয়ে দেবে। তাই তারা পুলিশকে কিছু জানায়নি। কিন্তু অভিযুক্ত যুবক পরে সেই প্রতিশ্রুতি মানতে অস্বীকার করে আরেকজনকে বিয়ে করলে ধর্ষণের শিকার মেয়েটি পুলিশের কাছে অভিযোগ করে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি মহারাষ্ট্র রাজ্যে সরকারি কর্মচারী এবং তিনি গ্রেফতার হলে তার চাকরি হারাবেন- এই মর্মে নিম্ন আদালতে আবেদন জানালে তাকে জামিন দেওয়া হয়। কিন্তু বম্বে হাইকোর্ট এই নির্দেশকে ‘ন্যক্কারজনক’ আখ্যা দিয়ে তার জামিন বাতিল করে দেয়।
এরপর ওই যুবক সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সুপ্রিম কোর্ট সোমবার (১ মার্চ) তাকে চার সপ্তাহের জন্য গ্রেফতার হওয়া থেকে সুরক্ষা দেয়ার বিষয়টি অনুমোদন করে এবং সেই শুনানির সময় ওই ব্যক্তির আইনজীবী ও বিচারপতি বোবড়ের মধ্যে এই 'আলোড়ন সৃষ্টিকারী' কথোপকথন হয়।
নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, বিচারপতি বোবড়ের মন্তব্য ‘ধর্ষকদের এমন বার্তা দেবে যে, বিয়ে ধর্ষণের ব্যাপারে একটা লাইসেন্স। একজন ধর্ষক অপরাধ করে পরে বিয়ে করার লাইসেন্স ব্যবহার করলে অপরাধ থেকে আইনগতভাবে পার পেয়ে যেতে পারে।’
এই খোলা চিঠিতে দ্বিতীয় আরেকটি ধর্ষণের মামলার প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। বিচারপতি বোবড়ে একই দিনে আরেকটি মামলা শুনেছেন এবং সেখানেও ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য করেছেন বলে ওই চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।
বিবিসি বাংলা বলছে, দ্বিতীয় এই মামলাটি ছিল একজন পুরুষের আবেদনের শুনানি। তার বান্ধবী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের যে অভিযোগ এনেছিলেন, তা প্রত্যাখ্যান করে ওই পুরুষ আদালতে আবেদন করেছিলেন। ওই নারীর সঙ্গে ওই পুরুষের দু’বছর সম্পর্ক ছিল এবং তারা একসঙ্গে থাকতেন।
সোমবার (১ মার্চ) এই মামলার শুনানির সময় বিচারপতি বোবড়ে বলেন, ‘বিয়ের ব্যাপারে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া অন্যায়’। এরপর তিনি প্রশ্ন করেন, ‘যখন একজন পুরুষ ও নারী স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে বসবাস করেন, তখন তার স্বামী নিষ্ঠুর চরিত্রের হলেও, আইনগতভাবে বিবাহিত দম্পতির মধ্যে যৌন মিলনকে কি ধর্ষণ বলা চলে?’
বিচারপতির এই প্রশ্নকে ‘বিতর্কিত’ হিসেবে অখ্যায়িত করে তার পদত্যাগ দাবি করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
আইনি একটি ওয়েবসাইট বার অ্যান্ড বেঞ্চ বলছে, ওই নারী অভিযোগ করেন যে তিনি ‘বিয়ের আগে কোনোরকম যৌন সম্পর্ক প্রত্যাখান করার’ পর ওই পুরুষ ‘প্রতারণার মাধ্যমে’ তার অনুমতি আদায় করেন। ২০১৪ সালে তারা একটি মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেন এবং তখন ওই পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে তিনি মত দেন।
কিন্তু ওই ব্যক্তি বলছেন, তিনি তাকে বিয়ে করেননি এবং তিনি দাবি করেন যে, তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্কে ওই নারীর মত ছিল। ওই পুরুষ আরেকজন নারীকে বিয়ে করার পর ওই নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন।
নারীর অধিকার নিয়ে যারা কাজ করেন তারা বলছেন, ‘এ ধরনের মন্তব্য একজন স্বামীর হাতে যৌন, শারীরিক ও মানসিক যে কোনো রকম নির্যাতন ও সহিংসতাকে আইনি বৈধতা দেবে। ভারতীয় নারীরা যেখানে পরিবারের ভেতর তাদের ওপর চালানো নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধে আইনি ব্যবস্থা পেতে বছরের পর বছর ধরে ব্যর্থ হচ্ছেন, সেখানে একজন বিচারপতি এ ধরনের মন্তব্য করলে এ ধরনের আচরণ মানুষ স্বাভাবিক বলেই ধরে নেবে।’
যারা এই খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন তারা বলছেন, প্রধান বিচারপতি শারদ বোবড়ের মন্তব্যকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ অন্যরাও তখন এটাকে আইনে ব্যবহৃত যুক্তি হিসেবে ভবিষ্যতে দাঁড় করার চেষ্টা করবে।
প্রধান বিচারপতি শারদ বোবড়ে এই সমালোচনার কোনো জবাব এখনও দেননি।
সূত্র: বিবিসি বাংলা।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop