মহানগর সময় মোদির বাংলাদেশে আসা নিয়ে আলোচনায় ‘ওড়াকান্দি’

০৪-০৩-২০২১, ২১:৪৫

মহানগর সময় ডেস্ক

fb tw
মোদির বাংলাদেশে আসা নিয়ে আলোচনায় ‘ওড়াকান্দি’
05
চলতি মাসেই বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। এ সফরে তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দিতে অবস্থিত মতুয়া সম্প্রদায়ের একটি মন্দির পরিদর্শনে যেতে পারেন এমন খবরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যে ওড়াকান্দিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছেন, মোদির এমন কর্মসূচির বিষয়ে তারা এখনও অবগত নন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রথীন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান ওড়াকান্দিতে, কিন্তু সেখানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যাবেন কিনা, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা তারা পাননি।
কাশিয়ানী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর নিজেও মতুয়া সম্প্রদায়েরই একজন এবং ‘মতুয়াবাদ’-এর প্রতিষ্ঠাতা হরিচাঁদ ঠাকুরের বংশধর।
সুব্রত সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে ওড়াকান্দিতে সরকারের নানা সংস্থার লোকজনকে আসা যাওয়া করতে দেখা যাচ্ছে, তবে নরেন্দ্র মোদি আসবেন কিনা তা তারা এখনও জানেন না।
তবে বাংলাদেশ মতুয়া মহাসংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুবল চন্দ্র রায় বলেন, মন্দির পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত এখনও না এলেও তারা আশা করছেন যে মোদির এই কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হবে।
তিনি বলেন, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর আসার খবরে তারা উচ্ছ্বসিত এবং আশা করছেন যে সফরের দ্বিতীয় দিনে মোদি ওড়াকান্দির মন্দিরে যাবেন।
মুজিব জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২৬ মার্চ দুদিনের সফরে ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।
সফরকালে তিনি গোপালগঞ্জেরই টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানাবেন বলে কথা রয়েছে।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার একটি ইউনিয়ন হলো ওড়াকান্দি। এখানেই ১৮১২ সালে জন্মেছিলেন হরিচাঁদ ঠাকুর। মূলত তিনিই সূচনা করেন মতুয়াবাদের, যা পরে বিস্তৃত হয় তার ছেলে গুরুচাঁদ ঠাকুরের হাত ধরে।
মতুয়া সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বিশেষ সম্প্রদায়, যারা হরিচাঁদ ঠাকুরকেই তাদের দেবতা মান্য করে।
মতুয়া মতবাদে বিশ্বাসীরা একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী এবং এতে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা ছাড়াও বিধবা বিবাহকে উৎসাহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুবল চন্দ্র রায়।
সুবল চন্দ্র সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ওড়াকান্দিতেই মতুয়াদের প্রধান মন্দির এবং প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের ত্রয়োদশী তিথিতে হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিনে সারা বিশ্ব থেকে লাখ লাখ মতুয়া এখানে সমবেত হন ও পুণ্যস্নানে অংশ নেন।
সুবল জানান, হিন্দু ধর্মে যারা ব্রাক্ষ্মণের শাসনে অবহেলিত ছিলো, যাদের নমঃশূদ্র বা চণ্ডাল বলা হতো, তাদের জন্যই জন্মেছিলেন হরিচাঁদ ঠাকুর। তিনি ব্রাক্ষ্মনদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন। তখন ব্রাক্ষ্মণ ছাড়া কারও শিক্ষার অধিকার ছিলো না, যোগ করেন সুবল রায়। তবে গুরুচাঁদ ঠাকুর বৃহত্তর ফরিদপুর, বরিশাল, যশোর ও খুলনায় প্রায় চার হাজার পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
সুবলের দেয়া তথ্য মতে, তখন নারীদের অধিকার ছিলো না। ঠাকুর সেখানে নারী শিক্ষার আন্দোলন করেছেন। বিধবা বিবাহ প্রচলনের পক্ষে কাজ করেছেন। আমাদের মধ্যে কোন জাতিভেদ নাই। আমরা একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী।
ওড়াকান্দির স্থানীয়রা বলছেন, আমরা আশা করছি নরেন্দ্র মোদী আসবেন। ঠাকুর বংশের সন্তান শান্তনু ঠাকুরও আসবেন। আমাদের এ অঞ্চলে হিন্দুদের অধিকাংশই মতুয়া। তাদের জন্য এটি অত্যন্ত আনন্দের।
সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা মন্দির এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
সূত্র: বিবিসি বাংলা।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop