অন্যান্য সময় আত্মহত্যা করতে চাওয়া ক্রিকেটার বীথি এখন মানুষের আস্থা

০২-০৩-২০২১, ১০:০২

ওয়েব ডেস্ক

fb tw
আত্মহত্যা করতে চাওয়া ক্রিকেটার বীথি এখন মানুষের আস্থা
10
নারী হয়ে ক্রিকেটে আসার গল্পটা একটু বেদনাদায়ক ছিল, আমি বিশ্বাস করি যারা এই বেদনাটুকু মেনে নিতে পারেন তারাই সফল হন- বলছিলেন ক্রিকেটার আরিফা জাহান বীথি।
দেশে নারীদের একমাত্র ক্রিকেট একাডেমি ‘ওমেন ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমির’ প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও ক্রিকেটার আরিফা জাহান বীথি।
ক্রিকেটে নিজের স্বপ্ন পূরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল অর্থ, পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন বীথি, নিজের স্বপ্নগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া ও মানুষের জন্য কাজ করার প্রবল ইচ্ছেই আত্মহত্যার পথ থেকে বাঁচিয়ে আনে তাকে। 
বীথি বলেন, পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে বাবা মায়ের সুখ ও আত্মসম্মানবোধের কথা চিন্তা করে আত্মহত্যা করা হয়নি, সেদিন আত্মহত্যা করলে আজ ক্রিকেটার বীথি হতে পারতাম না, হতাশায় যারা আত্মহত্যার মতো পথে যাওয়ার  চিন্তা করেন তাদের জীবনের শেষ থেকেই আবার শুরু করা উচিৎ, শেষ থেকে শুরুই সাফল্যে চূড়ায় পৌঁছে দেবে।
তিনি বলেন, মেয়ে হয়ে ক্রিকেট খেলায় পরিবার থেকে শুরু করে পাড়া-প্রতিবেশীর অনেকের কাছেই অনেক সময় বিভিন্ন কথা শুনতে হয়েছে, এবং এখনো শুনতে হয়। আমার মতো করে কোন মেয়ে যেন ক্রিকেটে আসতে বাধা বিপত্তির শিকার না হয়; এ জন্য আমার একাডেমির যাত্রা শুরু করি।
রংপুরের শৈশব কাটানো এই নারী নিজের শহরেই চালাচ্ছেন দেশের একমাত্র নারী ক্রিকেট একাডেমি। তার একক প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা এই ‘ওমেন ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি’তে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ২৫০জন নারী। ছেলেদের সাথে অনুশীলনের ইস্যু যেন পরিবার ও সমাজ থেকে না আসে এবং অর্থ সংকটে যেন কোন মেয়ে ক্রিকেট থেকে বঞ্চিত না হয় সেজন্য নিজেই নারীদের ক্রিকেটার হিসেবে তৈরি করতে বিনামূল্যে অনুশীলন করিয়ে যাচ্ছেন বীথি।
আরিফা জাহান বীথি বলেন, অনেক মেয়েই ক্রিকেটে আসে না ছেলেদের সাথে অনুশীলন করতে হয় সেজন্য। অথচ তাদের মনে লালিত স্বপ্ন ক্রিকেটার হবে, অনেকেই পড়েন অর্থ সংকটে, অর্থের অভাবে ক্রিকেট অনুশীলন করতে পারেনা, তাদের বিনামূল্যে অনুশীলন করানোর উদ্দেশ্য নিয়েই একাডেমির যাত্রা শুরু করি। 
সালেমা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ার সময় ক্রিকেটের সাথে জড়িয়ে পরেন আরিফা জাহান বীথি, এরপর ভালোবাসা আর ভালোলাগা তৈরি হয়ে যায় ক্রিকেটের প্রতি। স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ক্রিকেটে ভালো পারফারম্যান্স করায় জেলা পর্যায়ে খেলার সুযোগ পান। 
২০১০ সালে পেশাদার লিগ খেলা শুরু করেন বীথি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, ওরিয়েন্ট স্পোর্টিং ক্লাব, ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট একাডেমিতে ফার্স্ট ডিভিশন খেলেছেন বীথি। কিন্তু ২০১৭ সালে হঠাৎ করেই ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়। ঢাকা ফার্স্ট ডিভিশনের এক ম্যাচ চলাকালীন নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে বীথির। ডাক্তার সব পরীক্ষা করে বলেন নাকে ইনফেকশন হয়েছে। খেলা চালিয়ে গেলে বড় ক্ষতি হতে পারে, ফলে ক্রিকেট ছেড়ে দিতে হয় তার।
বীথি জানান, ক্রিকেট আসার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান স্কুলের। স্কুলের শিক্ষক ও বাবা মায়েরা সমর্থন না দিলে হয়ত এতো দূর আসা হতো না, ইচ্ছে ছিল আইনজীবী হয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর, তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট দিয়েই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ক্রিকেটের বাইরেও সমাজের নিবেদিত প্রাণ হয়ে অসহায় মানুষের জন্যে কাজ করে যাচ্ছেন বীথি।
তিনি বলেন, করোনার শুরুর দিকে রাস্তায় অসহায় মানুষদের রান্না করে খিচুড়ি দিয়েছি, কর্মহীন দিনমজুরদের মাঝে ৭ দিনের খাবার দিয়েছি। গর্ভবতী মায়েদের কাছে নিজে গিয়ে খাবার পৌঁছে দিয়েছি, মেয়েদের স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়া, ১১০ বছর বয়সের বৃদ্ধ মায়ের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া, রংপুরের বন্যা পরিস্থিতি মানুষদের ঘরে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া, কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য ১৯ জন শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেওয়া, কোরবানির ঈদে অসহায়দের ঘরে মাংস পৌঁছে দেওয়া, প্রতি ঈদে সিকিউরিটি গার্ডদের রান্না করে খাবার দেওয়া। ৫ জন বৃদ্ধ মায়ের ঘর করে দেওয়া, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য সেলাই মেশিন দেওয়া। পূজাতে শিশুদের নতুন জামা কাপড় উপহার দেওয়া, একজন মায়ের ৩টি যমজ সন্তান জন্মগ্রহণ করে করোনার সময়; তখন তাদের সাহায্য করার মতো কেউ ছিল না, তখন সেই পরিবারকে প্রতিদিন খাবার দিয়েছি, শিশুদের দুধ, কাপড় দিয়েছি। একটি ভিক্ষুকের ঘর করে দিয়েছি, তার মেয়েকে পোশাক দিয়েছি। দরিদ্র মানুষদের টিউবওয়েল, তোশক কম্বল দিয়েছি। 
জাতীয় ক্রিকেট লিগে কোচ হিসেবে গিয়ে রংপুরে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি আনাটাই ছিল এখন পর্যন্ত বড় অর্জন বলে জানান বীথি। তিনি আরো জানান, একাডেমী যেহেতু এবার দু’বছরে পা রাখলো, আমার স্বপ্ন আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ৫ জন আমার একাডেমী থেকে জাতীয় দলে খেলবে- এই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।
তিনি বলেন, নারীদের এগিয়ে নিতে কাজ করে যেতে চাই সবসময়। মেয়েরা চাইলে অনেক কিছুই করতে পারে, এখন সবক্ষেত্রে এগিয়ে মেয়েরা- এর বাস্তব উদাহরণ আজকের বাংলাদেশ। মেয়েরা যেহেতু সবই করতে পারে তাহলে ক্রিকেটে আসতে পারবে না কেন? ক্রিকেট শুধু খেলা নয়! ক্রিকেট যেমন দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যায়, তেমন নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎও গড়ে দেয়, তবে কেন ক্রিকেটে আসা মেয়েদের বাধা! 
বাধার দেয়াল ভেঙে মেয়েদের ক্রিকেটে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে পরিবারকে মেয়েদের অনুপ্রেরণা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop