প্রবাসে সময় ইতালিতে করোনার ১২ মাসের আদ্যোপান্ত

০২-০৩-২০২১, ০৪:৩৬

মাকসুদ রহমান

fb tw
ইতালিতে করোনার ১২ মাসের আদ্যোপান্ত
05
হঠাৎ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার এবং মৃত্যুর পরিসংখ্যানের চিত্রটা অনেক ব্যতিক্রম ছিল ইতালির জন্য। উন্নত বিশ্বের এই প্রাচীন ঐতিহ্যের দেশটির দিকে নজর পড়েছিল সমগ্র পৃথিবীর। গত বছরে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে যখন ভেনিস কার্নিভাল অনুষ্ঠানটি শেষ হবার পূর্বেই কর্তৃপক্ষ দু’দিন আগে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। গত বছরের মার্চের এর প্রথম সপ্তাহে সমগ্র ইতালি জুড়ে করোনার ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিলো। ৬ কোটি মানুষের দেশ ইতালিতে একদিনে রেকর্ড ৯৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪০ হাজার ৮৯৬ জন রেকর্ড সর্বোচ্চ একদিনে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এমন কঠিন আঘাত সহ্য করা ইতালির জন্য মর্মান্তিক ছিল।
২০২০ সালের মার্চে-এপ্রিলে উওর ইতালির সমৃদ্ধ উন্নত শহরগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিন হু হু করে বেড়ে চলছিল। দেশটির সকল শ্রেণির মানুষের মাঝে অজানা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিলো। ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরাও এতে বাদ যায়নি। ইতালিতে মৃত্যু তালিকায় ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা ছিলো উল্লেখযোগ্য। অদৃশ্য অচেনা এই শত্রুর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রশংসা অর্জন করেছে ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
ইতালির চিকিৎসা ব্যবস্থা বিশ্ব মানের। বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে দ্বিতীয়। ঠিক ফ্রান্সের পরেই ইতালির অবস্থান। তারমধ্যে উওর ইতালির লোম্বার্ডিয়া ও ভেনিস প্রদেশের স্বাস্থ্যসেবার মান ইতালির মধ্যে প্রথম সারির। আর করোনাভাইরাস সরাসরি আক্রমণ করে বসে সেই সকল উন্নত অঞ্চলে এবং অসহায় করে তুলে ইতালির উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থাকে। ইতালির স্বাস্থ্য সেবা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে যারা জ্ঞান রাখেন তাদের নিকট ভয়ঙ্কর বার্তা নিয়ে আসেন করোনা ভাইরাসের ভবিষ্যৎ আগ্রাসনের মাত্রা কোথায় পৌঁছতে পারে সেই কথা চিন্তা করে।
গত বছরের মার্চের লকডাউন চিত্রটা ছিলো ইতালির জন্য মর্মান্তিক। সমগ্র দেশটিতে তখন চলছিল শুনশান নীরবতা। কিন্তু এপ্রিল শুরু হবার পরপরই মানুষ ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে থাকে। সেই সময় ৪৮ লাখ মানুষকে পুলিশ রাস্তায় আটক করে এবং ২ লক্ষ ৫৬ হাজার মানুষকে লকডাউন অমান্য করার অপরাধে জরিমানা করে। যদিও গত জানুয়ারিতে প্রায় ২৮ লক্ষ মানুষকে আটক করে প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি মানুষকে জরিমানা করা হয়েছে।
গত বছরের মার্চের লকডাউনের প্রথম সপ্তাহগুলোতে রেস্তোরাঁ, বার, কফিশপ এবং অন্যান্য অবসর কাটানোর জায়গাগুলিতে পরিদর্শন কমেছিল ৯৯ শতাংশের বেশি। খাবার দোকান ও ফার্মেসিগুলিতে  ৮৫ শতাংশ কম ছিল মানুষের যাতায়াত। অন্যদিকে পার্ক ও সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণ কমেছিল ৯০ শতাংশ।
ইতালি জুড়ে করোনা ভাইরাস আক্রমণ ও লকডাউনের জন্য যেই বিষয়টি সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সৃষ্টি করেছে তা হলো অর্থনৈতিক দুরবস্থার।
ইতালির অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে প্রাক্তন জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তে ৭৫০ বিলিয়ন ইউরোর বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেন। কর্মজীবীদের মূল বেতনের ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ৬০০ থেক ১০ হাজার ইউরো করে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হয়। এর বাইরে আরও বিভিন্ন খাতে ও স্থান ভেদে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন সরকার ও স্থানীয় সরকারগুলো। ব্যবসায়ীদের নিজ লাইসেন্সের উপর পূর্ববর্তী বছরের বিক্রয়ের ২০ শতাংশ পরিমাণের ব্যাংকিং লোনের ব্যবস্থা করেন। যেই লোনের কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে দুই বছর পর হতে এবং মাত্র ১ শতাংশ সার্ভিস চার্জ সহ ১০ বছরে এই টাকা পরিশোধ যোগ্য।
‘আমি কোন কিছুতেই হাল ছাড়ি না’। উক্তিটি করতেন ইতালির সদ্য পদত্যাগী জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তে। তিনি ইউরোপের সেন্ট্রাল ব্যাংক হতে ২০৯ বিলিয়ন ইউরোর রিকভারি ফান্ড চেয়ে পরপর তিন বার ব্যর্থ হয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে সফলতা অর্জন করেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এই ২০৯ বিলিয়ন ইউরোর ব্যবহারিক খাত নির্ধারণ নিয়ে শরিকদের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে ইতালির সর্বকালের অন্যতম জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
তার পরও কিছুটা আশার প্রদীপ হয়ে ক্ষমতায় আসেন প্রফেসর মারিও দ্রাঘী। অর্থনৈতিক সফল এই প্রফেসর ছিলেন সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইউরোপের প্রেসিডেন্ট এবং ইতালির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর। গত এক বছরে ইতালির জিডিপি কমেছে ৮.৯ শতাংশ। প্রতিদিন চাকরি হারিয়ে বেকার হচ্ছে হাজার হাজার কর্মজীবী ইতালির নাগরিক ও বেকার হয়েছেন ইতালিতে বসবাসকারী প্রবাসী শ্রমিকরাও। ইতালির বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশে। কিন্তু হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে  অর্থনীতির কোন সূচকেই ইতালির অনুকূলে নেই। তাই ধরে নেওয়া যায় ইতালির অর্থনৈতিক সুবাতাস বইতে আরও অনেক সময় লাগবে বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সবকিছুর উপরে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতিকে সচল করা। ইতালি জুড়ে প্রায় ২৯ লক্ষ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত মৃত্যু বরণ করেন প্রায় ৯৭ বাজারের অধিক মানুষ। ইতালিতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন কার্যক্রম। ৩৬ লক্ষ ডোজ টিকা ইতালিতে পৌঁছেছে এবং ১৩ লক্ষাধিক মানুষের মাঝে তা ইতোমধ্যে প্রয়োগ করা হয়েছে। ইতালির জন্য দুঃ সংবাদ হয়ে উঠেছে নতুন ধরনের ব্রিটিশ করোনাভাইরাস। ইতোমধ্যে দেশটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে এবং এই সংখ্যার প্রায় অর্ধেক ব্রিটিশ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বলে নিশ্চিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
পর্যটন শিল্পের প্রায় সবকিছু মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবস্থান। কিন্তু ইতালির সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাত হলো পর্যটন শিল্প। তাই ইতালিতে সার্বিকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
তারপরও সকল সাধারণ ইতালিয়ানদের সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বপ্ন দেখেন ইতালিতে আবার ফিরবে সুখের নতুন ১২ মাস।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop