মহানগর সময় পিকে হালদারের ‘১৩ মিনিটের বর্ডার ভাগ্য’

০১-০৩-২০২১, ১৮:১৮

মহানগর সময় ডেস্ক

fb tw
04
দেশত্যাগে দুদকের নিষেধাজ্ঞার চিঠি ইমিগ্রেশনে পৌঁছানোর ১৩ মিনিট আগে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পিকে হালদার দেশ ছাড়েন বলে আদালতে তথ্য দিয়েছে এসবি’র ইমিগ্রেশন শাখা।
সোমবার (০১ মার্চ) ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর পি কে হালদার বিদেশে পালিয়ে যান। বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে কানাডায় বিলাসী জীবনযাপন করছেন পি কে হালদার।
গত বছরের ২২ অক্টোবর ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠানো চিঠি পৌঁছায় ২৩ অক্টোবর বিকেল চারটায়। আর পিকে হালদার সীমান্ত অতিক্রম করেন বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিটে। বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়কে জানিয়েছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। দুদক আইনজীবী বলছেন, তার পালিয়ে যাওয়ার পেছনে দুদকের কোনো দায় নেই।
পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন আসামি। ইমিগ্রেশন অতিক্রম করে বসেছেন বিমানেও। কিন্তু বিমান থামিয়ে আসামি গ্রেফতারের এমন দৃশ্য হলিউড বলিউড সিনেমায় হরহামেশাই দেখা যায়। সীমান্ত পার হওয়ার আগে আসামি গ্রেফতারেরও নজির রয়েছে বাস্তবেও ।
ঠিক এরকম না হলেও হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা পিকে হালদারের দেশ ছাড়ার ঘটনার মিল পাওয়া যায়। চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে পথে বসিয়ে যখন কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচার করে পিকে হালদার দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন তিন যেন দেশ ছাড়তে না পারে ইমিগ্রেশনকে চিঠিতে জানায় দুদক। সরকারি ডাকের মাধ্যমে এ চিঠি পাঠায় দুদক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলছেন, চিঠিটি যখন ইমিগ্রেশনের হাতে পৌঁছে এর ১৩ মিনিট আগে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশ ছাড়েন প্রশান্ত কুমার হালদার।
পিকে হালদারের পালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দুদকের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উচ্চ আদালত। প্রশ্নের মুখে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও।
দুদক আইনজীবীর দাবি, পিকের পালিয়ে যাওয়া নিয়ে দুদকের কোনো দায় নেই।
ইমিগ্রেশন পুলিশের এ রিপোর্ট আগামী ১৫ মার্চ দাখিল করা হবে হাইকোর্টে। এরপরই নির্ধারিত হবে কার দায়ে সেদিন পালিয়ে গেলেন পিকে হালদার।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ পাচারের মামলায় আলোচিত ব্যাংকার প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারের প্রায় ৫৯ একর জমি জব্দের নির্দেশ দেয় আদালত। এসব জমির মধ্যে রাজধানীর পূর্বাচলসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা পিকের প্রায় ৫৯ একর জমি রয়েছে।
একইদিন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দীনের তত্ত্বাবধানে পিকে হালদারকে অর্থ লোপাটে সহযোগিতা ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের মামলায় রিমান্ডে আনা হয় অবন্তিকা বড়ালকে।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বলা হয়, পিকে হালদারের ধানমন্ডির সাড়ে চার কোটি টাকার ফ্ল্যাটটি অবন্তিকা বড়ালের নামে পাওয়া গেছে।
এছাড়া পি কে হালদারের নিয়ন্ত্রণাধীন সুখদা কোম্পানির শেয়ার হোল্ডারও তিনি। সুখদাসহ পারিবারিক বিভিন্ন কোম্পানির নামে পিকে হালদারের মা লীলাবতী হালদারের ব্যাংক হিসাবে যে ১৬৫ কোটি টাকার লেনদেন হয় এবং অর্থপাচার হয় সেখানেও অবন্তিকা বড়ালের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
গত ২৯ ডিসেম্বর পিকে হালদারের রাজধানীর ধানমন্ডির দুই ফ্ল্যাট ও রূপগঞ্জের প্রায় ৬ একর জমি ক্রোকের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। ক্রোক করা ফ্ল্যাট দুটি হচ্ছে- রাজধানীর ধানমণ্ডির ৩৯নং সড়কের ১২নং ফ্ল্যাট এবং পুরাতন ৬নং সড়কের ১৭নং প্লটে নির্মিত ভবনের ৭ম তলায় ২ হাজার ৬০৩ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট।
গত ২ ডিসেম্বর জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় পিকে হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত আসামি পিকে হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
কানাডায় অবস্থানকারী পি কে হালদার ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ফার্স্ট ফাইন্যান্স থেকে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা, পিপলস লিজিং থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে ২ হাজার ৫০০  কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। 

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop