বাণিজ্য সময় স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হলে কমতে পারে রফতানি

২৮-০২-২০২১, ১৭:২৫

ঈষিতা ব্রহ্ম

fb tw
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হলে কমতে পারে রফতানি
05
১৯৭১ সালে ২৫ টি দেশ নিয়ে উন্নয়নশীল দেশের ক্যাটাগরি তৈরি করে জাতিসংঘ। বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরিতে আছে ৪৬ টি দেশ, বিশ্ব অর্থনীতির ১৩ শতাংশ মানুষ এ দেশগুলোতে থাকে। এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট সুবিধা পায়। এ মুহূর্তে বিবেচনার জন্য ছিল ৫টি দেশ। বাংলাদেশ, মিয়ানমার, লাওস, টিমোর লেস্টে আর নেপাল। 
বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে স্বল্পোন্নত দেশের কাতারে পৌঁছায়। মাথাপিছু আয়, অর্থনৈতিক ও পরিবেশের অবস্থা আর মানবসম্পদের দিক দিয়ে টানা ৩ বার স্বল্পোন্নত দেশের শর্ত পূরণ করেছে বাংলাদেশ।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্তভাবে বের হওয়ার কথা ২০২৪ সালে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার সে সময় বাড়িয়েছে। এখন বাংলাদেশের হাতে সময় আছে আর ৫ বছর। একই সুবিধা পেয়েছে নেপাল ও লাওস।  এই ৫ বছরে কি কি করতে হবে বাংলাদেশকে। সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ সিপিডি’র সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।  
এ তালিকা থেকে বের হলে আন্তর্জাতিক আর্থিকখাতে আস্থা ফিরে পাবে বাংলাদেশ। বাড়বে বিদেশি বিনিয়োগ, ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিকভাবে মানদণ্ড দেবে বাংলাদেশকে। নিরবচ্ছিন্ন বিদেশি ঋণ পাবে বাংলাদেশ। সাথে রেমিট্যান্সের পরিমাণও বাড়বে। তবে ইউরোপ আর কানাডায় পণ্য রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধাবঞ্চিত হবে দেশ। তবে শুল্কমুক্ত সুবিধা ২০৩১ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর ব্রিটেন দেবে বাংলাদেশকে। 
বিশ্বব্যাংক, এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক কিংবা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণ কাঠামো পরিবর্তিত হবে বাংলাদেশের জন্য। জলবায়ু পরিবর্তনেও তহবিল পাবে না বাংলাদেশ। ৭ বছরের মধ্যে ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিতে বিশেষ সুবিধা হারাতে হবে। ওষুধ রফতানিতে গুণতে হবে অতিরিক্ত অর্থ। তবে অব্যাহত থাকবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধা আর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। 
তবে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর তা ধরে রাখতে সঠিক এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। 
তিনি বলেন, উত্তরণকালীন কৌশল বা কর্মপরকিল্পনা আগে থেকেই তৈরি করতে হবে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কি হবে, সেই পদক্ষেপ আগেই নিতে হবে। বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছে সিপিডি।’
 
তিনি জানান, প্রথমটি, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সম্পদ সংগ্রহ করতে হবে। কর আদায়ের পরিমাণ বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত,  অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকে এ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হিসেবে ধরতে হবে এবং প্রতিবছর কি পরিমাণ কর্মসংস্থা্ন সৃষ্টি হচ্ছে, তার সুষ্ঠু পরিসংখ্যান থাকতে হবে। তৃতীয়ত, স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ আর পঞ্চম পরামর্শ, টেকসই আর পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করা। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। 
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হলে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৮ থেকে ১০ শতাংশ কমতে পারে। এতে বছরে প্রায় ২৫০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রফতানি আয় কমবে। বর্তমান বাজার দরে টাকার অংকের পরিমাণ ২১ হাজার কোটি টাকার বেশি। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন,  এলডিসি থেকে বের হলে রফতানি খাতের নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টিই বেশি আলোচনায় আসে। অন্য প্রভাবের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় একধরনের অনীহা আছে। নতুন শিল্পকে প্রণোদনা দেওয়ার শর্ত কঠিন হবে।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop