বাংলার সময় ১১ বছরেও রেজাউল হত্যার বিচার পায়নি পরিবার

২৫-০২-২০২১, ১৪:০০

মো. সোহাগ আলী

fb tw
১১ বছরেও রেজাউল হত্যার বিচার পায়নি পরিবার
09
কীভাবে অস্ত্র চালাতে হয়, মানুষ হত্যা করতে হয় সেই কৌশল শেখানোর নাটক সাজিয়ে গলায় ফাঁস ও গলা কেটে হত্যা করা হয় ঝিনাইদহের ভ্যানচালক রেজাউলকে। পূর্বশত্রুতার জের ধরেই তাকে হত্যা করা হয়। এমন লোমহর্ষক হত্যার বর্ণনা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় কয়েকজন আসামি। কে ডেকে নিয়ে যায়, কত টাকায় হত্যার চুক্তি করা হয় তাও উঠে আসে জবানবন্দিতে। 
তবুও ১১ বছরেও বিচার পায়নি নিহত রেজাউলের পরিবার। হত্যায় অংশ নেওয়া, হত্যার পরিকল্পনাকারীরা এখন জামিনে মুক্ত হয়ে প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। মামলার বাদী স্ত্রীকে টাকা দিয়ে মীমাংসার নাটক সাজিয়েছে আসামিরা। বিচার না পেয়ে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন নিহতের ভাই-স্বজনরা।
জানা যায়, ২০১০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের পেছনে জনৈক দেলোয়ার হোসেনে বাগান থেকে মুরারীদহ গ্রামের মৃত গোলাম আকবরের ছেলে ভ্যানচালক রেজাউলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গলায় ফাঁস ও গলা কেটে হত্যা করা হয় তাকে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আনজিরা খাতুন বাদী হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে পরদিন ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় মুরারীদহ গ্রামের রাজ্জাক হোসেনের ছেলে আবুল কাশেম, মৃত রহিম বক্সের ছেলে বশির উদ্দিন, আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে কবির হোসেনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়।
এ মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে ঝিনাইদহ সদর থানার তৎকালীন এসআই নিরব হোসেন। পরবর্তীতে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এজাহার নামীয়সহ ১৭ জনের নাম আসে মামলায়। পুলিশ এর মধ্যে মামলার ২ নম্বর আসামি বশির বাবা রহিম বক্স ছাড়া বাকি আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। এর মধ্যে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদসহ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। এদের মধ্যে আরিফ হোসেন, মঞ্জুর আলম ও রাজু শেখ নামের ৩ আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পুলিশ তদন্তে বেরিয়ে আসে পরিকল্পিত এই হত্যার প্রধান হত্যাকারী রঞ্জিত। সে গ্রেফতার হলে একবার রিমান্ড নেয় পুলিশ। কিন্তু ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজি হয় না সে। তবে হত্যার দায় স্বীকার করে।
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দেখা যায় হত্যার বিস্তারিত ঘটনা। কয়েকজন আসামির স্বীকারোক্তিতে বলা হয়, রেজাউলকে হত্যার জন্য বশির ৫০ হাজার টাকা কন্ট্রাক্ট করে রঞ্জিতের সঙ্গে। সেই অনুযায়ী রঞ্জিত ওইদিন রেজাউলকে ফোনে ডেকে নিয়ে যায় ঘটনাস্থলে। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করে আকতার, আরিফ, রাজু শেখ, আরিফ। প্রথমে রঞ্জিত রেজাউলকে পাইপগান চালানো শেখায়। শেখানোর পর মানুষ হত্যা করতে কীভাবে হাত বাঁধতে হয় তা শেখায়। এই কৌশল শেখাতে গিয়ে তার হাত বাঁধে ও গলায় ফাঁস দেয়। এরপর সবাই মিলে কুপিয়ে ও গলায় ফাঁস দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পরদিন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মামলার তদন্ত, কল লিস্ট যাচাই করে হত্যার পরিকল্পনার মুল কারণ বেরিয়ে আসে।
পুলিশ ৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এ ঘটনার পর মামলার বাদী আনজিরা খাতুন ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রধান পরিকল্পনাকারী বশিরের সঙ্গে মীমাংসা করে। এর মাধ্যমে আদালত থেকে জামিন পায় বশির। মীমাংসার নাটক সাজানোর পর ঝিমিয়ে যায় মামলাটি। দীর্ঘ ১১ বছর পার হলেও বিচারকাজ এখনও শেষ হয়নি।
নিহতের ভাই আদিল উদ্দিন বলেন, বাদী আমার ভাইয়ের বউ টাকা নিয়ে মামলা চালাচ্ছে না। যে কারণে আমরা বিচার পাচ্ছি না। আসামিরা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জমাজমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে বশির পরিকল্পনা করে আমার ভাইকে হত্যা করায়। আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই। আমি আদালতের মাধ্যমে বাদীর পরিবর্তন চাই। আমার ভাইয়ের বউ টাকা নিয়ে মামলা চালাচ্ছে না। আমি তার স্থানে বাদী হতে চাই।
বিচারাধীন এ মামলার নিয়োজিত পি পি ইসমাইল হোসেন বলেন, এখনও ডাক্তার, ম্যাজিস্ট্রেট ও কেসের আইও এই তিনজনের সাক্ষী বাকি আছে। সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে রায় হবে। দেরিতে হলেও আইনি জটিলতা কাটিয়ে এ মামলার রায়ে প্রমাণিত হত্যাকারীর জেল হবে বলে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করে।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop