বাংলার সময় আগেও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মুজাক্কির, দাবি পরিবারের

২৫-০২-২০২১, ১৩:৩১

সাইফুল্যাহ কামরুল

fb tw
আগেও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মুজাক্কির, দাবি পরিবারের
09
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার পরিবার।
বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা নোয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের বড় ভাই নূর উদ্দিন।
তিনি বলেন, নিহত মুজাক্কির সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। অসুস্থ ও মুমূর্ষ রোগীদের পাশে দাঁড়াতেন। তিনি রোগীদের প্রয়োজনে এ নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত ২৬ জনকে দিয়েছেন। করোনাকালীন নিজ এলাকার অসহায় ও গরিব মানুষের দ্বারে দ্বারে খাবার এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। ঈদে দুস্থ ও এতিমদের গোপনে সহযোগিতা করতেন। 
নূর উদ্দিন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, গত শুক্রবার উপজেলার চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষের সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন মুজাক্কির। এ সময় আহত মুজাক্কির বাঁচার জন্য বার বার আকুতি জানালেও উপস্থিত স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সদস্যরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘ সময় বাজারে পড়ে থাকার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মুজাক্কির মৃত্যুবরণ করেন বলে জানিয়েছেন ঢামকের চিকিৎসক। 
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বুরহান পড়া লেখার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করত। কিন্তু সে কোন দলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পিতা মাওলানা নূরুল হুদা মো. নোয়াব আলী মাস্টার বলেন, ওইদিন ঘটনাস্থলে তিনি বা তার পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তাই কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা দেখিনি। তবে যারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার করে বিচারের দাবি করেন। খুনিদের ফাঁসির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান তিনি।
নিহতের মা মমতাজ বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার আদরের ছোট ছেলে মারা যাওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একটি ভিডিও দেখেছিলাম। ভিডিওতে দেখা যায়, গত কয়েক মাস আগে একজন ব্যক্তি তাকে অকথ্যভাষায় গালাগালি করে মারধর করে। ওই হামলাকারী তাকে বলে ‘তোর কোন বাবা আছে?। আমি ওই হামলাকারীকে গ্রেফতার করার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করছি। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন নিহতের ভগ্নিপতি আবদুস সাত্তার।
আগেও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মুজাক্কির:
আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর আগেও একবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির। ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরের মুজাক্কিরকে নির্যাতনের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এখন ভাইরাল। যে ভিডিওটি বর্তমানে সংবাদকর্মী ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলের কাছে সংরক্ষিত আছে।
ওই ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, হাসান ইমাম রাসেল নামের কোম্পানীগঞ্জের এক ব্যক্তি বসুরহাট বাজারের একটি ইলেকট্রিক দোকানে বসিয়ে রেখে সাংবাদিক মুজাক্কিরকে মারধর করে। এ সময় মুজাক্কিরকে মারধর করতে করতে অকথ্যভাষায় গালমন্ধ করে হাসান ইমাম রাসেল। মুজাক্কিরকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী হিসেবে চিহ্নিত করে নির্যাতন করা হয় বলে আওয়ামী লীগের অনেকে দাবি করেছেন। অপরদিকে মুজাক্কির হত্যাকাণ্ডের পর মিজানুর রহমান বাদলও তাকে তার কর্মী বলে দাবি করে আসছেন।  
এ বিষয়ে জানতে হাসান ইমাম রাসেলের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি লাইনটি কেটে দেন। তবে তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডির একটি পোস্টে তিনি লিখেন, মুজাক্কির আমাদের সাথে কাজ করতো, তখন সে মাঝে মাঝে অসতো, নোয়াখালীতে পড়াশোনা করতো, কারো প্ররোচনায় পড়ে সে আমার ফেসবুকে ফেক আইডি থেকে বাজে কমেন্ট করতো, তখন রনির দোকানে তাকে জিজ্ঞেস করলাম কেনো এসব করছো। সে বললো বাদল ভাইয়ের বিরোধিতা করেন সে জন্য আমি এমন করছি, তখন রাগ করে তাকে বকাঝকা করছি। আবার ৫ মিনিট পরই আবার তাকে বুকে টেনে নিয়েছি। তিনি দাবি করেন, মুজাক্কিরের মৃত্যুর ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি বলেন, মুজাক্কিরকে নির্যাতনের ভিডিওটি ইতোমধ্যে আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। ভিডিওটিতে দেখা গেছে উপজেলার কথিত সাংবাদিক রাসেল (হাসান ইমাম রাসেল) মুজাক্কিরকে গালমন্ধ ও মারধর করছে। ওই দোকানটা বসুরহাট বাজারের অন্য একজন সাংবাদিকের। ওই সাংবাদিক আমাদের জানিয়েছেন, মুজাক্কিরকে রাসেল মারধর করতে দেখে তিনি এসে বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছিলেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভিডিওটি দেখছেন। অপরাধী যেই হোকনা কেন তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি যা ঘটেছিল:
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলার চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে বসুরহাট পৌরসভার ময়র মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষের মুখে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক মুজাক্কিরসহ ৭-৮ জন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুজাক্কিরকে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। মুজাক্কির অনলাইন নিউজ পোর্টাল বার্তা বাজারের নোয়াখালী প্রতিনিধি ছিলেন।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop