x

বাংলার সময় শাস্তি প্রত্যাহারের আশ্বাস, সাতদিন পর অনশন ভাঙলেন দুই শিক্ষার্থী

২৬-০১-২০২১, ২১:২১

বাংলার সময় ডেস্ক

fb tw
শাস্তি প্রত্যাহারের আশ্বাস, সাতদিন পর অনশন ভাঙলেন দুই শিক্ষার্থী
03
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আশ্বাসে ৭দিন পর আমরণ অনশন ভাঙলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) রাত ৮টায় অনশন ভাঙালেন খুবি ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। খুব কম সময়ের মধ্যে তাদের শাস্তি মওকুফপত্র দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন উপাচার্য।
এসময়ে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর মো. শরীফ হাসান লিমনসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
সূত্রমতে, গত বছরের ১ ও ২ জানুয়ারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামে। এর দেড় মাস পর ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি দুইজন অধ্যাপকের পথ আটকে গুরুতর অসদাচারণের অভিযোগে খুবি প্রশাসন মোহাম্মদ নোমান (বাংলা ডিসিপ্লিন) ও ইমামুল ইসলাম সোহানকে (ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিন) পত্র প্রেরণ করে। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি  ছাত্রবিষয়ক পরিচালকের দপ্তরে উক্ত পত্রের জবাব দেয়ার জন্য উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদ্বয় তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের পূর্নাঙ্গ অনুলিপি চায়। এরপর দীর্ঘদীন চলে গেলেও তাদের কোন অনুলিপি দেয়নি প্রশাসন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ওই দুই শিক্ষার্থীকে ১ ও ২ বছর বহিস্কার করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর পর থেকে ক্ষোভ দানা বাঁধে বহিষ্কৃত ও আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের।
এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করায় শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও অসদাচরণের অভিযোগে তিনজন শিক্ষককে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষকরা হলেন- বাংলা ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক আবুল ফজল, একই ডিসিপ্লিনের শাকিলা আলম এবং ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের প্রভাষক হৈমন্তী শুক্লা কাবেরী। সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায়ও শিক্ষকদের ব্যাপারে অনঢ় সিদ্ধান্ত বজায় ছিল।
এদিকে, গত ১৮ জানুয়ারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর মোঃ শরীফ হাসান লিমন স্বাক্ষরিত তার দপ্তর থেকে (খুবি/ছাপ-১/৯৪(২১)-১৬৯৮) স্মারকে প্রতিস্থাপিত সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী ইমামুল ইসলামকে দেয়া স্মারকের পূর্বের শাস্তির স্থলে এক বছরের স্থানে দুই বছরের (চার টার্ম) জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার (শিক্ষাবর্ষ ২০১৯-২০২০ ও ২০২০-২০২১) উল্লেখ করা হয়েছে। 
এ পত্রের শেষাংশে বলা হয়েছে, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে লিখিত জবাব সরাসরি অথবা রেজিস্টার্ড ডাক যোগে নিম্ন স্বাক্ষরকারীর দপ্তরে পেশ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হল। নোটিশের জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে উক্ত শাস্তি বহাল থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর অনশন কর্মসূচিতে বসেন শিক্ষার্থীদ্বয়। শাস্তি বৃদ্ধির আমরণ অনশনে যান তারা। এরমধ্যে সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, ভিসি, প্রো-ভিসিসহ শিক্ষকরা একাধিকবার অনশন ভেঙে নিয়মতান্ত্রিক ক্ষমা প্রার্থনার আহবান জানিয়েছিলেন। কিন্তু বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় ছিলেন তারা।
 
টানা ছয় দিনের অনশনে গত ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে মোহাম্মদ মোবারক হোসেন নোমানকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর আগের দিন ২৩ জানুয়ারি দুপুরে ইমামুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল। অনশনরত এ দু’জন অসুস্থ হয়ে পড়ায় পর্যায়ক্রমে পাঁচদফা আন্দোলনের সমর্থিত শিক্ষার্থীরা অনশনে অংশ নেয়। 
অন্যদিকে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী ছাড়াও সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক, সুশীল সমাজ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত শুরু হয়। মানববন্ধন ও মিছিল করেছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবিসমূহ ছিল- আবাসন সংকটের সমাধান, বেতন ফিস কমানো, প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উৎকর্ষ সাধন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অবকাঠামো নির্মান করা, ছাত্র বিষয়ক যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তকরণ এবং অবহিত করা।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop