মহানগর সময় মৌলভীবাজারে তিন পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগ

২৫-০১-২০২১, ১৭:৩৫

শাহ অলিদুর রহমান

fb tw
মৌলভীবাজারে তিন পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগ
11
গ্রাম্য মাতবরের নির্দেশ অমান্য করায় মৌলভীবাজার কুরবানপুর গ্রামের তিনটি পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে একঘরে করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে দুর্বিসহ জীবন কাটাচ্ছেন ওই পরিবারগুলোর লোকজন। 
সোমবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে মৌলভীবাজার কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমুল ইউনিয়নের কুরবানপুর গ্রামের কাজল আহমদ ও জুবেল আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে জানা যায়, কাজল আহমদের মাত্র দুই শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল তারই কাছে আত্মীয় পাখি মিয়ার সঙ্গে। এনিয়ে গ্রামের মাতবর নজরুল ইসলামের কাছে সালিশ চাওয়া হয়। এতে উভয়ের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা জামানত নিয়ে সালিশ বৈঠক করেন নজরুল ইসলাম। সালিশ বৈঠকে দুই শতাংশ জমির মালিকানা পাখি মিয়াকে ভোগ দখলের নির্দেশ দেন। এতে কাজল আহমদ তার এক শতাংশ জমির মালিকানার কাগজ দেখিয়ে তা দিতে আপত্তি জানান। 
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, এক পর্যায়ে কাজল আহমদ আইনের সহায়তা পেতে গত বছর ৩ ডিসেম্বর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব মামলা দায়ের করেন। 
এ মামলা দায়ের করায় গ্রামের মাতবর নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী চেরাগ মিয়া, চুনু মিয়া, হান্নান মিয়া ও কাদির মিয়াসহ অন্যরা বৈঠক করে তার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়।  
এরপর থেকে তাদের সমাজচ্যুত করে রাখা হয়েছে। মাতবর ও তার লোকজনরা গ্রামের কোনো ব্যক্তি যাতে তাদের সঙ্গে উঠবস, চলাফেরা ও কথাবার্তা বলতে না পারে এরকম আদেশ জারি করেছেন। 
অভিযোগ রয়েছে, এ পরিবারের লোকজন গ্রামের স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়তে গেলেও মাতবরের লোকজন তাদের বাধা দিচ্ছে। এছাড়া এ পরিবারের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাতে কোনো লোকজন না যায় এতেও বাধা বিপত্তি দেওয়া হয়েছে। 
সম্প্রতি এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে কী কারণে তাদের সমাজচ্যুত করা হয়েছে তা জানিয়ে মাতবরের কাছে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়। এতে করে মাতবর ও তার লোকজনরা সন্তোষজনক কোনো জবাব না দিয়ে আরও ক্ষিপ্ত হন এবং পুনরায় বৈঠক করে স্থায়ীভাবে পাঁচ বছরের সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 
এদিকে একইভাবে সংবাদ সম্মেলনে একই গ্রামের জুবেল আহমদ অভিযোগ করেছেন, দু’বছর আগে তাকে ও তার পরিবারকে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে সমাজচ্যুত করা হয়। 
এ অবস্থায় পুনরায় আবার তাকে মাতবরের নির্দেশ অমান্য করায় সমাজচ্যুত করা হয়েছে। একইভাবে কুরবানপুর গ্রামের মায়া বেগম নামে এক নারী অভিযোগ মাতবর ও তার সহযোগীদের সালিশ বৈঠকের নির্দেশ অমান্য করায় তাকেও সমাজচ্যুত করা হয়। অভিযোগে জানা যায়, মাতবর ও তার সহযোগীদের নির্দেশ অমান্য করলেই গ্রামে তাদের সমাজচ্যুত করা হচ্ছে। 
এ ব্যাপারে মাতবর নজরুল ইসলামের সাথে ফোনে কথা বললে তিনি পরবর্তীতে বিষয়টি জানাবেন বলে ফোন রেখে দেন।
ভূকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফজলু মিয়া পুরো বিষয়টি তার জানা নয় বলে জানিয়েছেন। 
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিনয় ভূষণ বিষয়টি তার অবগত জানিয়ে সময় সংবাদকে বলেছেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop