বাণিজ্য সময় আবারও প্রশ্নের মুখে বোয়িংয়ের ম্যাক্স মডেলের নিরাপত্তা

২৫-০১-২০২১, ১৫:৪৮

ঈষিতা ব্রহ্ম

fb tw
আবারও প্রশ্নের মুখে বোয়িংয়ের ম্যাক্স মডেলের নিরাপত্তা
12
উড্ডয়ন শুরু হলেও আবারও প্রশ্ন উঠেছে বোয়িং সেভেন থ্রি সেভেন ম্যাক্স মডেলের বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে। এবার বোয়িংয়ের বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বোয়িংয়েরই একজন সাবেক কর্মকর্তা। 
প্রায় ২ বছর বন্ধ থাকার পর ২০২০ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র আর ব্রাজিলে উড্ডয়নের অনুমতি পায় বোয়িং সেভেন থ্রি সেভেন ম্যাক্স। চলতি বছরের জানুয়ারিতে অনুমতি মেলে ইউরোপে উড্ডয়নের। কিন্তু ভয়াবহ দু’টি বিমান দুর্ঘটনা আর ৩৪৬ জনের প্রাণহানির কলঙ্ক কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না এই বিমান পরিবহন সংস্থাটির। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও আবারও প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা নিয়ে। এবার এই প্রশ্ন তুলেছেন বোয়িংয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক এডি পিয়ারসন। তার তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তিনি জানান, বৈদ্যুতিক ইস্যু আর বোয়িংয়ের প্ল্যান্টে সেভেন থ্রি সেভেন মডেলের বিমানের উৎপাদন ব্যবস্থা আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।  
এডি পিয়ারসনের দাবি, নীতি নির্ধারক আর তদন্ত দলের সদস্যরা কয়েকটি বিষয় এড়িয়ে গেছেন, যা আভাস দেয় দুর্ঘটনার জন্য তারাই দায়ী। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের কাছে রেন্টনে বোয়িংয়ের যে কারখানা আছে, ওই কারখানায় বিমানের উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে, এ অভিযোগ এড়িয়ে গেছে বোয়িং।  
২০১৮ সালের অক্টোবরে লায়ন এয়ারের জে টি ৬১০ ফ্লাইটের বোয়িংয়ের বিমানটি ইন্দোনেশিয়ার সাগরে বিধ্বস্ত হয়। এর ৫ মাস পর ২০১৯ সালের মার্চে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ইটি ৩০২ উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই মাটিতে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। বোয়িংয়ের কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত একটি নিজস্ব সিস্টেম আছে, যেটি এমকাস 'MCAS' হিসেবে পরিচিত। এই সিস্টেমের আওতায় বিমানের সেন্সর কাজ করে, বিমান অনেক উঁচুতে উঠে গেলে ব্যালেন্স রাখে, কিন্তু কোনভাবে সেন্সর ভুল তথ্য দিলে বিমান নিচের দিকে নামতে শুরু করে। পাইলটরা সাময়িকভাবে সিস্টেম বন্ধ করে বিমান উপরের দিকে ওঠাতে পারেন, কিন্তু সেন্সর যদি তখনও ভুল তথ্য দিতে থাকে, তাহলে বিমান পরিচালনার জন্য পাইলট আর বিমানের বিপরীতমুখী যুদ্ধ করতে হয়।
তদন্ত দলের দাবি, সেন্সর কাজ না করায় এই দুটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফ্লাইট কন্ট্রোল সফটওয়্যারে দু'টি বিমানই ভুল তথ্য দিয়েছিল। এরপর বোয়িংয়ের অটোমেটেড সিস্টেমের কারণে বিমান দু'টি নিচের দিকে নামতে থাকে, কিন্তু পাইলটরা বিমান দু'টিকে ওপরের দিকে ওঠানোর চেষ্টা করছিলেন। সেভেন থ্রি সেভেন ম্যাক্স মডেলের বিমান সংস্কারের ক্ষেত্রে এই এমকাস সফটওয়্যারকেই গুরুত্ব দেয়া হয়। বোয়িংয়ের দাবি, সফটওয়্যারের ত্রুটি সারানো হয়েছে, আর কখনোই সেন্সর ভুল তথ্য দেবে না। কিন্তু এডি পিয়ারসনের দাবি, এই সংস্কার যথেষ্ট নয়। 
মার্কিন একজন নেভি সদস্য জানান, বোয়িংয়ের কারখানার অবস্থার বিষয়ে তিনি খুবই হতাশ। নিজের পরিবারের জন্যই তিনি বোয়িংয়ের ম্যাক্স মডেলের কোন বিমানকে নিরাপদ মনে করেন না।
তিনি বলেন, কারখানাগুলোতে শোরগোল লেগেই থাকে, নতুন বিমান দ্রুত তৈরি করে দেয়ার জন্য বোয়িংয়ের ব্যবস্থাপকরা সবসময় কর্মীদের তাড়া দেন। নেভি সদস্য বলেন, সেভেন থ্রি সেভেন ম্যাক্স আকাশে ওড়ার অনুমতি খুব দ্রুত পেয়ে গেল, আরও তদন্তের প্রয়োজন ছিল। বিমান তৈরির সময় কোন ত্রুটি ছিল, যে কারণে বিমানগুলো বিধ্বস্ত হয়। ফ্লাইট কন্ট্রোল সমস্যা আর বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশের ভুল তথ্য দেয়ার সমস্যা দুর্ঘটনার কিছুদিন আগে থেকেই দেখা দিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। 
বোয়িংয়ের কাছে তার প্রশ্ন, নতুন বিমানগুলোর এমকাস সিস্টেমে কেন ত্রুটি থাকবে, কেনই বা নতুন বিমানের সেন্সর হঠাৎ অকেজো হয়ে যাবে? এসব প্রশ্নের উত্তর আছে সেভেন থ্রি সেভেন ম্যাক্স মডেলের বিমানের কারখানায়।
উৎপাদনের সময় ত্রুটির কারণেও যে বিমানের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এ বিষয়ে কোন মাথাব্যথা নেই তদন্তকারী দলের। এ ধরনের উদাসীনতার কারণে ম্যাক্স কিংবা সেভেন থ্রি সেভেন মডেলের যেকোন বিমান আবারো দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। 
শুধু এডি পিয়ারসন নন, এভিয়েশন নিরাপত্তা ক্যাম্পেইনার হিসেবে পরিচিত ক্যাপ্টেন চেলসি সুলেনবার্গার বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতে বোয়িংয়ের তদন্ত খুবই সীমিত। সুলি হিসেবে পরিচিত এ ক্যাপ্টেন তাদেরই একজন, যিনি ২০০৯ সালে ম্যানহাটনে হাডসন নদীর ওপর থেকে এয়ারবাসের একটি বিমানকে বিধ্বস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করেছিলেন। তিনি বলেন, সেভেন থ্রি সেভেনের কোন বিমানই আধুনিক মানদণ্ড মেনে তৈরি করা হয়নি।
সুলেনবার্গার বলেন, বোয়িং এবং ফেডারেল এভিয়েশন এডমিনিস্ট্রেশনকে আরো বেশি স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। তদন্তে কি উঠে এসেছে, সেটি প্রকাশ করা প্রয়োজন, তাহলে আর কেউ অন্ধকারে থাকবে না। 
ব্রিটেনের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত শাখার সাবেক কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যম বিবিসি’কে জানায়, এডি পিয়ারসনের তদন্ত প্রতিবেদন গুরুত্বসহ দেখতে হবে। 
কিন্তু ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণ সমস্যা কিংবা বৈদ্যুতিক ত্রুটি, কোনটির বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি বোয়িং কর্তৃপক্ষ।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop