মহানগর সময় কমছে কৃষিজমি, গড়ে উঠছে আবাসন কোম্পানি

২৪-০১-২০২১, ০৯:২৭

আতিকুর রহমান তমাল

fb tw
কমছে কৃষিজমি, গড়ে উঠছে আবাসন কোম্পানি
11
প্রতি বছর এক শতাংশ হারে কমছে কৃষিজমি। গড়ে উঠছে একের পর এক আবাসন কোম্পানি। এ কারণে পেশা হারাচ্ছেন হাজার হাজার কৃষক। তাদের জমি দখলের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে জমি কিনেও টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠছে আবাসন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে আবাসন কোম্পানিগুলো। অন্যদিকে এসব নিয়ে কোনো কথা বলতেই রাজি নন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
নদীর বুক হাতড়ে মাছ খুঁজছেন খিতিশ দাস নামের এক ব্যক্তি। ৫০ পেরোনো এ মানুষটি সারাজীবনই ছিলেন বর্গাচাষি। তিনি যে জমিগুলো চাষ করতেন সেগুলো চলে গেছে আবাসন কোম্পানির দখলে। সেই থেকে কৃষক খিতিশ হয়ে গেছেন শীতলক্ষ্যার জেলে!
কৃষিঋণ নিয়ে যে জমিতে ফসল আবাদ করেছিলেন তিনি সেই জমি যেহেতু ভরাট হয়ে গেছে তাই আবাদ তো বন্ধই, শোধ করা হয়নি ব্যাংকঋণও। ২০ হাজার টাকার ঋণ গত কয়েক বছরে সুদে আসলে কত হয়েছে তা জানেন না খিতিশ। সেই টাকা পরিশোধে বিকল্প কাজ হিসেবে মাছ ধরা পেশাকে বেছে নিয়েছেন তিনি।
ভূমি দস্যুদের কারণে শুধু নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ উপজেলার মুশুরী গ্রামের দাস পাড়াতেই এমন পেশা হারানো মানুষ আছেন কয়েকশ’।
রাজধানীতে এক খণ্ড জমি কিনতে পারা সোনার হরিণ হাতে পাওয়ার মতোই বিষয়। এ কারণে গত কয়েক বছর থেকেই আবাসন কোম্পানির কাছে রাজধানীর আশপাশের নিম্নাঞ্চল আর জলাভূমি লোভনীয় স্থান হয়ে উঠেছে।
তেমনি একটি এলাকায় নারায়ণগঞ্জের জাহাঙ্গীর গ্রাম। এই গ্রামের বহু মানুষের অভিযোগ তাদের বেশির ভাগ জমিতে বালু ফেলেছে ঢাকা ভিলেজ নামে একটি আবাসন কোম্পানি।
এসব অভিযোগ নিয়ে যাওয়া হয় উত্তরায় ঢাকা ভিলেজের অফিসে। কিন্তু ঘণ্টাখানেক অপেক্ষার পরও ভবনের ভেতরেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি সময় সংবাদের সাংবাদিককে।
তবে কোম্পানির আইনি পরমর্শক সাখাওয়াত হোসেন মোবাইল ফোনে কৃষিজমি দেখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সময় সংবাদকে ফোনে তিনি বলেন, অসম্ভব, ওই সময় কেনার পর সবকিছু ভরাট করেছে।
এবারে ঢাকা থেকে একটু দূরে চোখ ফেরানো যাক। মুন্সীগঞ্জের ষোলঘরের একটি এলাকা একসময় ছিল ফসলের ক্ষেত আর এটি ছিল সেচকাজের জন্য গভীর নলকূপ। সেটি বালু দিলে ভরাট করা হয়েছে যে কারণে স্থানীয় কৃষকরা কোনো আবাদ করতে পারছেন না। 
ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি জানান, একটা জমি কিনে আশপাশের বেশকিছু জমি বালি দিয়ে ভরাট করে ফেলেছে।
অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যাড ডেভলপমেন্টের (এলআরডি) নির্বাহী শামসুল হুদা বলেন, প্রতিবছর এক শতাংশ হারে কমছে কৃষিজমি। এই বিষয়গুলোর ওপর মনিটরিং বা নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি যে পরিকল্পনা সেখানে একটা প্রচণ্ড রকমের ঘাটতি আছে। বহু কারণের পাশাপাশি আবাসন কোম্পানিও এ জন্য দায়ী।
এসব ঠেকাতে কয়েক বছর আগেই 'কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার নামে' একটি আইনের খসড়া করা হয়। কিন্তু অজানা কারণে সেই আইনটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। এসব বিষয়ে জানতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে ৪ দিন অপেক্ষার পর সাক্ষাতের সময় পাওয়া যায়। কিন্তু ৫ম দিন তিন ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পরও তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।
 

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop