বাণিজ্য সময় রাজধানীর আড়তে লোকসানে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন চাষিরা

২২-০১-২০২১, ০৯:০৮

কামরুল হাসান সবুজ

fb tw
01
ফলন ভালো, উৎপাদন খরচও ভালো, ভালো নয় শুধু বিক্রয়মূল্য। এমন মন্তব্যেই রাজধানীর পাইকারি বাজারে লোকসান গুনে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা চাষিরা। 
শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) সকালে পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা শরীয়তপুরের জাজিরার বাসিন্দা আরিফ জানান, তিনি এবার ৪ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘা চাষে তার খরচ হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা করে। ফলন পেয়েছেন ৫৫ মণ করে। অর্থাৎ প্রতিমণ পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ পড়েছে এক হাজার টাকা। আর শ্যামবাজারে এসে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ২৩ টাকা ৭০ পয়সা দরে। অর্থাৎ এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে তিনি হাতে পাচ্ছেন ৯৪৮ টাকা। অর্থাৎ পরিবহন খরচ দিয়ে শরীয়তপুরে জাজিরা থেকে শ্যামবাজারে এসে পেঁয়াজ বিক্রি করে লোকসান গুনে বাড়ি ফিরছেন তিনি।
বছরের পর বছর ধরে পেঁয়াজ চাষ করে আসছেন রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মো. রজমান মোল্লা। তিনি জানান, গত বছরও লাভের মুখে দেখেই বছর পার করেছেন এই পেঁয়াজ চাষি। এবার তাকে লোকসানের মুখে ঠেলে দিয়েছে তার ৭ বিঘা জমির পেঁয়াজ। তার হিসাবে ফলন ভালো হয়েছে এবার। বিঘাপ্রতি তারও খরচ পড়েছে ৫৫ হাজার টাকা। অথচ প্রতি মণ বিক্রি করে পাচ্ছেন ৪২ হাজার থেকে ৪৩ হাজার টাকা। তিনিও পরিবহন খরচ দিয়ে পণ্য বাজারে নিয়ে এসে লোকসানের মুখে পড়েছেন। 
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের চাহিদার প্রায় সবটুকু পেঁয়াজই যায় এই শ্যামবাজার থেকে। বাজারের বিভিন্ন আড়ত ঘুরে পাওয়া গেল চাষিদের লোকসানের হিসাবের সত্যতা। মেসার্স আমানত ভাণ্ডারের ম্যানেজার প্রবীর রায় জানান, বাজারে দেশির পেঁয়াজের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু দাম কমছে লাগাতার। দু’দিন আগের তুলনায় কেজিতে ২-৩ টাকা কমেছে। আরও কমবে, বাজার এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে। তবে, এই বাজারের কোনো আড়তে ভারতীয় পেঁয়াজ নেই। কারণ, দাম দেশি পেঁয়াজের প্রায় দ্বিগুণ। তবে, অল্প পরিমাণে রয়েছে তুরস্ক আর হল্যান্ডের পেঁয়াজ। যেগুলোর দাম ও চাহিদা দেশি পেঁয়াজের তুলনায় বেশ কম। 
মেসার্স আলী ট্রেডার্সের পরিচালক সামসুর রহমান জানান, পেঁয়াজের দাম কমছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন চাষিরা। আর শ্যামবাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ না থাকলেও সিলেট, চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েক জেলায় ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। তার মতে, সরকারের উচিত এই সময়ে পেঁয়াজের আমদানি পুরোপুরি বন্ধ রাখা। কারণ, এবার পেঁয়াজের যে উৎপাদন হয়েছে তা দিয়েই আগামী মৌসুম পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব। গত বছর এ সময় এক কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। অথচ এবার বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২৩ থেকে ২৫ টাকায়।
এদিকে রাজধানীর আরেক বড় পাইকারি বাজারে কারওয়ান বাজারে এসে দেখা গেল স্থিতিশীল রয়েছে চালের দাম। আমদানির সুযোগ দেওয়ার পর থেকেই দাম আর বাড়ছে না। তবে, আমদানি করা চাল বাজারে আসা শুরু করলে দাম কমবে, এমন সম্ভাবনার কথা জানান চাটখিল রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মো. বেলাল হোসাইন। তবে বিক্রি প্রায় নেই বললেই চলে।
নিত্যপণ্যের মধ্যে মাসখানেকের বেশি সময় ধরে লাগাতার বাড়ছে ভোজ্য তেলে বাজার। মেসার্স সততা জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. মিজানুর রহমান হাচান জানান, বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিনের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। এখনও স্থিতিশীল হয়নি। আর পামওয়েলের দাম বেড়েছে লিটারে ৪০ টাকা পর্যন্ত। মসলাসহ বাকি সব পণ্যের দাম মোটামুটি স্থিতিশীলই রয়েছে। তবে, চাহিদা মোতাবেক দেশি লাল চিনির সরবরাহ পাওয়া যায় না বলে জানান তিনি। 
আরেক দোকানি মো. আনোয়ার হোসেন যিনি মেসার্স শাহিন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী, তিনি জানান বাজার বিক্রি কমেছে অনেকটা।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop