মহানগর সময় বাংলাদেশকে ‘নতজানু’ করে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে: ফখরুল

২১-০১-২০২১, ২২:৩২

এম আর আমিন

fb tw
বাংলাদেশকে ‘নতজানু’ করে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে: ফখরুল
08
বাংলাদেশকে ‘নতজানু’ করে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 
তিনি বলেন, তারা (সরকার) আজকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের মানুষকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। বাংলাদেশের মানুষকে তাদের যে পরিচিতি আছে সেখান থেকে দূরে ঠেলে দিতে চাইছে। আজকে একটা ষড়যন্ত্র চলছে যে, বাংলাদেশ তার যে স্বতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব তাকে ভুলে গিয়ে সে অন্য জায়গায় নতজানু হয়ে থাকুক- এভাবে পরিকল্পনা চলছে। যে পরিকল্পনাকে আমাদের রুখে দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে বিএনপির এক ওয়েবিনার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 
বিএনপির স্বাধীনতা সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে গঠিত ‘সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম কমিটির উদ্যোগে ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধ্যান-ধারণা’ শীর্ষক এই ওয়েবিনার হয়। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন শিক্ষাবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ।
কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের সভাপতিত্বে সদস্য সচিব ইসমাইল জবিহউল্লাহর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান, সাবেক জজ ইকতেদার আহমেদ প্রমুখ এ ওয়েবিনার সিম্পোজিয়ামে বক্তব্য রাখেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই পতাকাই ধারণ করেছেন যে পতাকা স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন এবং একইভাবে আমাদের নেতা তারেক রহমান তিনিও সেই পতাকা তুলে ধরছেন। আজকে আমাদের সেই পতাকা তুলে ধরেছেন, এই পতাকাই মুক্তির পতাকা।
তিনি বলেন, আমাদের স্লোগান একটাই- আমরা আজকে শৃঙ্খল মুক্ত হতে চাই, আমরা আজকে মুক্ত হতে চাই এবং মানুষকে এই অবস্থা থেকে বাঁচাতে চাই শহীদ জিয়াউর রহমানের যে আদর্শ সেই আদর্শ অনুসরণ করে, আমরা মানুষকে বাঁচাতে চাই, দেশকে বাঁচাতে চাই। আসুন আমরা সেই লক্ষ্যে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই।
ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান একটি গান ভালোবাসতেন- ‘প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ’। আমার অথবা আমাদেরও শেষ ঠিকানা হচ্ছে বাংলাদেশ। যেটা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের দলীয় সঙ্গীত আছে তার মধ্য দিয়ে এটা ফুটে উঠে। বাংলাদেশ সম্পর্কে এই যে আমাদের অনুভূতি, এই অনুভূতি যতই প্রবল হবে, ততই কিন্তু আমরা জাতি হিসেবে শক্তিশালী হবো। 
বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ-এই দুইটাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ জিয়াই বাংলাদেশের জনগণের জন্য নতুন একটা পরিচিত, স্বতন্ত্র একটা অস্তিত্ব তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে, তার রাজনীতির মধ্য দিয়ে সেটা প্রমাণ করেছেন। তিনি তার দূরদৃষ্টি সম্পন্ন চিন্তার মধ্য দিয়ে জাতিকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ উপহার দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটি একটা দর্শন। এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই আমাদের জাতি সত্ত্বা দাঁড়াতে শুরু করেছে। অলরেডি ৫০ বছর পার করে ফেলেছি আমরা। আপনি দেখবেন আওয়ামী লীগ অত্যন্ত পরিকল্পিভাবে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ধারণা বিরোধিতা করে। কিন্তু আজকে যখন পাসপোর্ট তৈরি করেছে নতুন করে, সেই পাসপোর্টেও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ রাখতে বাধ্য হয়েছে। আসলেই ওটাই সত্য ও ওইটাই সঠিক কথা।
জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আসলে জিয়াউর রহমানকে আলাদা করে স্বাধীনতার কথা চিন্তাও করা যায় না। কারণ তার স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে গোটা জাতি অনুপ্রাণিত হয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এই নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলতে পারেন। আমাদের যারা সরকারে আছে তাকে অখ্যাত মেজর হিসেবে চিহ্নিত করতে চান। এই অখ্যাত মেজরের ঘোষণায় কিন্তু তখন বাংলাদেশের সাড়ে ৭ কোটি মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তখন তাদের বড় বড় নেতারা সেইদিন জনগণের সামনে সেই ঘোষণাটি দিতে পারেননি।
১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। হতাশায় নিমজ্জিত একটা জাতিকে তিনি একটা আশার আলো দেখিয়েছিলেন এবং কর্মে উদ্দীপ্ত করেছিলেন। এটা বাস্তবতা এবং তারই ফলে আজকে বাংলাদেশ যেখানে দাঁড়িয়েছে তার ভিত্তিটা তিনি নির্মাণ করে দিয়েছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে মানুষের মূল আকাঙ্ক্ষাটা ছিলো একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা, এটা মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা। দুর্ভাগ্য আমাদের, আজকে এই ৫০ বছর পরে আমরা এটা পালন করতে যাচ্ছি-কী বলে পালন করব? আমাদের তো লজ্জা হওয়া উচিত যে, আমরা ৫০ বছর পরেও একটা সুষ্ঠু রাজনৈতিক কাঠামো নির্মাণ করতে পারিনি, আমরা নির্মাণ করতে পারিনি যে, একটা চমৎকার ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা পরিবর্তন হবে এবং সেটার জন্য দায়ী আজকে যারা ক্ষমতা জোর করে দখল করে আছে, অস্ত্র নিয়ে দখল করে আছে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তাদের কারণেই এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন সেমিনার সিম্পোজিয়াম কমিটির আহ্বায়ক ড. আব্দুল মঈন খান। 
তিনি বলেন, ‘আমরা সেই গণতন্ত্র বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। পারিনি! কেন পারিনি? কাজের কারণে পারিনি। যারা মুক্তিযুদ্ধের অংশীদার বলে দাবি করে তারা কি আজকে গণতন্ত্রকে এ দেশ থেকে হত্যা করে সরিয়ে দেয়নি? তারা কি এদেশের মুখের ভাষা কেড়ে নেয়নি? তারা কি এদেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়নি? একঠিন কথাগুলো আমি বিশ্বাস করি আজকে বাংলাদেশের  স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে আমাদের মুখ ফুটে বলতে হবে। জোর গলায় বলতে হবে।’
মঈন খান আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র চাই। আমরা বহুদলীয় গণতন্ত্র চাই। যেখানে মানুষের কথা বলা স্বাধীনতা থাকবে। আমরা পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয়েছিলাম অন্য কোনো দেশের পরাধীন হবার জন্য নয়। একথাগুলো আমাদের বলতে হবে। যারা সরকারের সাথে একসুরে কথা বলতে অস্বীকার করছেন তাদের ওপরে চালানো হচ্ছে নির্যাতন নিষ্পেষন। এটাতো গণতন্ত্র হতে পারে না। এটা কিন্তু আমাদের উপলব্ধি করতে হবে।
জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধ্যান ধারণা শিরোনামে এক ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়। 
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop