বাণিজ্য সময় চুয়াডাঙ্গায় জমে উঠেছে গুড়ের হাট

২০-০১-২০২১, ২৩:০৬

মাহফুজ মামুন

fb tw
চুয়াডাঙ্গায় জমে উঠেছে গুড়ের হাট
08
চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী সরোজগঞ্জের খেজুর গুড়ের হাট জমে উঠেছে। হাটে চাহিদা বেশি হওয়ায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত গুড় নিয়ে আসছেন। স্বাদে ও গন্ধে গুড় অতুলনীয় হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাটে ছুটে আসছেন বেপারিরা। প্রতি সপ্তাহে হাটে প্রায় দুই কোটি টাকার গুড় বিক্রি হয়। দেশে গুড়ের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। 
করোনাকালে গুড়ের হাট জমে না উঠলেও বর্তমানে হাট জমে উঠেছে। বেপারিরা, বিক্রেতা ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে হাট জমজমাট হয়ে উঠেছে। আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে প্রতি ভাঁড় গুড়। প্রায় এক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হচ্ছে হাটে কাজ করে। 
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ানের সরোজগঞ্জ বাজারে বসে দেশের ঐতিহ্যবাহি খেজুর গুড়ের হাট। সপ্তাহে সোমবার ও শুক্রবার গুড়ের হাট বসে। ভোর থেকেই কৃষক ও ব্যবসায়ীরা হাটে সারি সারি গুড়ের ভাঁড় গুলো সাজিয়ে রাখেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বেপারিদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। গুড়ের স্বাদ, গন্ধে ও রং অতুলনীয়। 
বেপারিরা কাঠি দিয়ে গুড় দেখে ও গন্ধ ঠিক আছে কি না - তারপর গুড় কিনে ওজন করে ট্রাকে লোড করেন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শতশত কৃষক, ব্যাপারি ও শ্রমিকদের উপস্থিতিতে হাট এলাকা সমাগম থাকে। এক ভাঁড় গুড় আকার ভেদে বিক্রি হয় ৯শ টাকা থেকে ১২শ টাকায়।  নলেন ও ঝোলা গুড় দেখে দরদাম ঠিক করে কেনেন। ঝোলা গুড় ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
ঢাকা, সাভার, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজিপুর, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বেপারিরা সরোজগঞ্জ হাটে আসেন গুড় কেনার জন্য। এ হাটের গুড়ের মান ভাল হওয়ায় তাদের আগ্রহ বেশি।
সরোজগঞ্জ গুড়ের হাটে সপ্তাহে প্রায় ৩৭ ট্রাক গুড় কিনে নিয়ে যান দেশের বিভিন্ন জেলায় বেপারিরা। সপ্তাহে দুদিন প্রায় ২ কোটি টাকার মত গুড় বিক্রি হয় হাটে। প্রতি মৌসুমে ২০ কোটি টাকার বেশি গুড় বেচা-কেনা হয় হাটে। প্রতি হাটে ২০০ টন গুড় বিক্রি হয়। চুয়াডাঙ্গার চারটি উপজেলায় কয়েক হাজার কৃষক গুড়, পাটলি ও ঝোলা গুড় উৎপাদন করেন। এখানকার গুড়ের চাহিদা দেশের অন্য হাটের চাইতে বেশি।
বর্তমানে দেশে গুড়ের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে অল্প পরিসরে। ভারত, কাতার, মালয়েশিয়া, দোবাই, আমেরিকাসহ বেশ কয়েকটি দেশে। স্থানীয় আড়তদাররা বিদেশ থেকে অর্ডার পাওয়ার পর কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিদেশে গুড় পাঠাচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার চারটি উপজেলায় খেজুর গাছ রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার। প্রতি মৌসুমে ২ হাজার ৫শ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদন হয় জেলায়। সব চেয়ে বেশি গুড় উৎপাদন হয় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায়।
সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ার হাসান আলি নামের গুড়ের ব্যাপারি বলেন, ২৫ বছর ধরে সরোজগঞ্জ হাটে আসি। এখানকার গুড়ের মান অনেক ভাল। পিঠা তৈরি জন্য গুড়ের চাহিদা বেশি।
ঢাকা সাভারের নূরু মাতব্বর বলেন, হাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভাল। গুড়ের ভাঁড়ের(মাটির হাড়ি) আকার ভেদে কিনি।
চুয়াডাঙ্গা সরোজগঞ্জ বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক হাসমত আলি বলেন, আমার ৬৫টি খেজুর গাছ আছে। প্রতি সপ্তাহে ৫-৬ ভাঁড় গুড় তৈরি হয়। এ গুলো হাটে বিক্রি করি। বর্তমানে গুড়ের দাম ভাল পাচ্ছি।
চুয়াডাঙ্গা সরোজগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় গুড় সরবরাহ করা হয় হাট থেকে। ২শ টন গুড় বিক্রি হয় প্রতি হাটে। হাটের সাথে অনেকে জড়িত। খেজুর গুড় সংরক্ষণ করা গেলে সারা বছর ভেজাল মুক্ত গুড় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি ইয়াকুব হোসেন মালিক জানান, খেজুর গুড় বিদেশে রপ্তানি করার জন্য আমরা কাজ করছি। খাঁটি গুড়ের চাহিদা সব সময় বেশি থাকে। ২০ কোটি টাকার বেশি গুড় বিক্রি হয় প্রতি শীত মৌসুমে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলী হাসান বলেন, চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী ফসল হচ্ছে খেজুরের গুড়। দেশের বিভিন্ন জেলায় কয়েক শ টন গুড় পৌঁছে যাচ্ছে প্রতি সপ্তাহে। কৃষকদের খেজুর গাছ না কাটার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। এখানকার গুড় স্বাদে ও মানে ভাল।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop