বাংলার সময় কমিটি নিয়ে পলাশবাড়ি ছাত্রলীগে ক্রোধের আগুন!

১৩-০১-২০২১, ২১:০৩

হেদায়েতুল ইসলাম বাবু

fb tw
কমিটি নিয়ে পলাশবাড়ি ছাত্রলীগে ক্রোধের আগুন!
গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটিকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে ছাত্রলীগ। এক পক্ষের দাবি বিবাহিত, মাদকাসক্ত এমনকি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির সমর্থকরা ঠাঁই পেয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে। আরেকপক্ষ বলছে অপপ্রচার চালিয়ে পদবঞ্চিতরা ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। এমন পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের উস্কানিকেও দোষারোপ করছেন ছাত্রনেতাদের কেউ কেউ। ছাত্রলীগের কমিটিকে ঘিরে ছাত্রলীগের ঘরে জ্বলছে ক্রোধের আগুন।
 
বুধবার (১৩ জানুয়ারি) গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন নবগঠিত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আতিক হাসান মিল্লাত, সাধারণ সম্পাদক মামুন আর রশিদ সুমনসহ কমিটির নেতারা। এ সময় তারা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, কাঙ্ক্ষিত পদ না পেয়ে নবগঠিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিবুর রহমান নয়ন পদবঞ্চিতদের সাথে নিয়ে জেলা ছাত্রলীগ অনুমোদিত পলাশবাড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
নয়ন নিজেই মাদকব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত অভিযোগ করে তিনি বলেন, তার বাড়ি থেকেই গত বছরের ১৮ অক্টোবর গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধার করে গাইবান্ধা ডিবি পুলিশ। এমনকি ছাত্রনেতারা অবিবাহিত হলেও বিবাহিত বলে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর দায়ে নাজিবুর রহমান নয়ন ও তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
তিনি আরও বলেন, নবগঠিত উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মামুন আর রশিদ সুমনের মা হোসনে আরা বেগম পলাশবাড়ি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বড় জা রওশন আরা ওয়াহেদ রাণীর মেয়ে। সে কারণে পারিবারিক সূত্রে সুমন ২০০৮ সাল থেকে পলাশবাড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত। ২০১০ সালে পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পলাশবাড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হয়। এছাড়াও তিনি ২০১৫ সালে গাইবান্ধা জেলা বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা মেডিকেল স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারপরও তাকে জামায়াত-শিবির মতাদর্শের পরিবারের সদস্য বানিয়েছে নয়ন ও তার লোকজন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, ঐক্যমতের ভিত্তিতে পলাশবাড়ি উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাদকসেবী ও তিনি এবং সভাপতিসহ কতিপয় নবনির্বাচিত কর্মকর্তাকে বিবাহ রেজিস্টার কাজীর ভুয়া কাগজ বলে বিবাহিত হিসেবে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে তাও মিথ্যা ও বানোয়াট। সাধারণ সম্পাদক সুমনের কাছে মাদক দ্রব্য পাওয়ার তথ্যটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর লক্ষ্যে কিছু না পাওয়ায় এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে কথা কাটাকাটি হওয়ায় তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযুক্ত করা হয় যা পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। প্রকৃত পক্ষে আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান নবগঠিত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আতিক হাসান মিল্লাত ২০১০ সাল থেকে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সাথে সম্পৃক্ত হয় এবং ২০১৪ সাল থেকে পলাশবাড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। সে কিংবা তার পরিবার কোনদিন বিএনপি-জামায়াত রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল না। 
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পলাশবাড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান ও সৌরভ হাসান উজ্জল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাফিউজ্জামান সাকিল ও মো. নাজমুল হক জুলিয়াস, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা পৌর ছাত্রলীগের আহবায়ক কামাল আহম্মেদ বাবু, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শ্যাম সরকারসহ বদিউজ্জামান স্বপন, তৌফিকুর রহমান মিশুক, বিশাল সরকার, ওলিউল ইসলাম, মো. সাইদ হাসান অনিক, মো. আবু জাফর রাফি, মেকাত সরকার সিফাত, কাজী তৌফিক, শাকিল আহম্মেদ।
এর আগে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদবঞ্চিত-বিক্ষুব্ধ নেতারা। নবগঠিত উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিবুর রহমান নয়ন অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মামুনুর রশিদ সুমনকে সভাপতি করে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। সভাপতি সুমনের মা জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় এবং ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে কমিটি করায় বঞ্চিত নেতাদের আন্দোলনের কারণে কেন্দ্রীয় কমিটি ওই সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করে। অথচ অজ্ঞাত কারণে ওই মামুনুর রশিদ সুমনকেই সাধারণ সম্পাদক করে বিতর্কিতদের নিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে আবারো চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি গাইবান্ধা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি প্যাডে পলাশবাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের ১১ সদস্য বিশিষ্ট বিতর্কিত কমিটি গঠন করে তা ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, বিতর্কিত জামায়াত পরিবারের সদস্য সুমন বিবাহিত। সে গাইবান্ধা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে মাদক সেবনের সময় হাতে নাতে ধরা পড়ে। এসময় তার কাছে মাদক পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৭ দিনের সাজা প্রদান করে। এছাড়াও বিতর্কিত এই কমিটিতে মো. আতিক হাসান মিল্লাতকে সভাপতি করা হয়েছে। তিনিও একজন মাদকসেবী। পলাশবাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বরং তিনি ছাত্রদল ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে সকল কর্মকাণ্ডে প্রকাশ্যে অংশ নিয়ে থাকে এবং তার পরিবার জামায়াত-বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। এছাড়া ওই কমিটির সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমানও বিবাহিত এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে দীর্ঘদিন যাবত জড়িত রয়েছে। ঘোষিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রুবেল মিয়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভুয়া অডিটর সেজে পরিদর্শনের সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। যা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ পায় এবং সেই প্রতারণা মামলাটি চলমান রয়েছে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মুরাদ সরকার মিকাত এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল হক জুলিয়াস ছাত্রলীগের সাথে কখনই জড়িত ছিলেন না। মুরাদ সরকার মিকাত দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, পলাশবাড়ী ছাত্রলীগের রাজনীতিকে কলুষিত করতে বিতর্কিত কমিটি গঠন এবং বিএনপি-জামায়াতের টাকায় নিয়ন্ত্রিত গাইবান্ধা ও পলাশবাড়ীর চক্রান্তকারী নেতাকর্মীদের শাস্তিরও দাবী জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে পলাশবাড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি জাকির হোসেন টমাসসহ মো. সাইফ সরকার, মো. জাহিদ হাসান ও মো. রমজান আলী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ওই কমিটি বাতিলের দাবিতে ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা গত সোমবার পলাশবাড়ী উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করে। পথসভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. উম্মে কুলসুম স্মৃতি নিজে উপস্থিত থেকে কমিটি বাতিলের পক্ষে স্লোগান দেন।
পলাশবাড়ি-সাদুল্লাপুর গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. উম্মে কুলসুম স্মৃতি বলেন, ছাত্রলীগের গঠণতন্ত্র অমান্য করে বিবাহিত ও আওয়ামীলীগের আদর্শের বিপরীত পরিবারের সদস্য এবং মাদকাসক্তদের নিয়ে গঠিত কমিটি ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। তিনি ওই কমিটি বাতিল করে ক্লিন ইমেজের ছাত্র নেতাদের সামনে রেখে কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। অন্যদিকে গাইবান্ধা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসিফ সরকার বলেন, সংবাদ সম্মেলনে তারা যেসব অভিযোগ এনেছে তা সবই অসত্য এবং ভিত্তিহীন।
কমিটিতে জায়গা না পেয়ে পদবঞ্চিতরা ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে এসব ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবী করে তিনি বলেন, কমিটি গঠনের আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং আজকের অভিযোগকারীরা ছাত্রলীগের ওই নেতাদের নামে কোন অভিযোগ করেননি। কমিটি গঠনের পর এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানার পর তারা তদন্ত করেছেন কিন্তু আনিত অভিযোগ সমূহের কোন সত্যতা মেলেনি।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মামুন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এর আগে ২০১৬ সালে তৎকালীন জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক আব্দুল লতিফ আকন্দ, যুগ্ম আহবায়ক রাহাত মাহমুদ রনি এবং শাহরিয়ার আহমেদ শাকিল পলাশবাড়ি উপজেলায় ছাত্রলীগের পৃথক দু’টি কমিটি অনুমোদন করেন। এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ দু’টি কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগকে সংগঠিত করতে দীর্ঘদিন পর জেলা ছাত্রলীগ পলাশবাড়ি উপজেলা কমিটি অনুমোদন করলে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. উম্মে কুলসুম স্মৃতির মনোপূত না হওয়ায় তার ইন্ধনে এসব সাজানো অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
সাবেক ও জ্যেষ্ঠ ছাত্রনেতারা বলছেন, বিগত দিনে জামায়াত-শিবির পলাশবাড়িতে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। সেখানে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে সংগঠিত করতে ছাত্রলীগের ভূমিকা অনেক। সেজন্যই কমিটিকে ঘিরে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে যে ক্রোধ সৃষ্টি হয়েছে, আলোচনার ভিত্তিতে তা সমাধানের উদ্যোগ না নিলে ক্রোধের আগুনে ছাত্রলীগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop