বাণিজ্য সময় নিজের পরিচয় গড়তে উদ্যোক্তা রুমানা

১৩-০১-২০২১, ১৪:২৪

পলাশ মাহমুদ

fb tw
নিজের পরিচয় গড়তে উদ্যোক্তা রুমানা
01
নিজের একটি পরিচয় তৈরির আগ্রহ সবারই আছে। কিন্তু খুব কম মানুষই নিজের পরিচয় গড়তে পারে। বিশেষ করে নারীদের জন্য এটি আরো কঠিন। পরিচয়ের জন্য মানুষ নানা পথে হাঁটে। কেউ চাকরি, কেউ গবেষণা, আবার কেউ বেছে নেয় ব্যবসা। এমন একজন তরুণী উদ্যোক্তা রুমানা নাজনীন। পরিবার, সন্তান দেখাশোনার পাশাপাশি নিজের পরিচয় গড়তে বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে রুমানাকে। অদম্য ইচ্ছা আরও পরিশ্রমের ফলে তিনি এখন উদ্যোক্তা।
রুমানা নাজনীনের জন্ম পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায়। রাজধানীর তিতুমীর কলেজ থেকে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। লেখাপড়া শেষ করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। বর্তমানে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন রাজধানীর রামপুরায়।
রুমানা স্বপ্ন দেতেন তার নিজের একটি পরিচয় থাকবে। বাবার পরিবারে বা পরে বিয়ে ও সংসারে গিয়ে শুধু কারো মেয়ে, বোন, স্ত্রী বা মা হয়ে থাকবেন না। এ জন্য নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করতে হবে।
স্নাতক শেষ করে চাকরি করলেও মন বসেনি রুমানার। উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা ঘুরতে থাকে মাথায়। তার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছেন তার মা। নিজের পরিবার সামলে মেয়ে যেন একটা কিছু করেন, এ জন্য মা সবসময় অনুপ্রেরণা দিতেন বলে জানান রুমানা।
তবে এই যাত্রায় রুমানাকে বারবার থমকে যেতে হয়েছে। স্নাতক শেষ করার পর চাকরি শুরু করেন। তখন ভাবতে থাকেন, আর মনে হয় নিজের কিছু করা হবে না। কিছুদিন পর বিয়ে। নতুন সংসারে নিজের মতো করে কিছু করতে না পারার ভয়। তখনও উদ্যোক্তা হয়ে ওঠেননি রুমানা। ঘরে আসে নবজাতক। রুমানাকে যেন একবারেই ঘর নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যেতে হয়। নিজেও সিদ্ধান্ত নেন, মেয়েকে ঘরে একা রেখে বাইরে কিছু করবেন না।
কিন্তু রুমানার মা তাকে উৎসাহ দিতেন। তাই সন্তান একটু বড় হওয়ার অপেক্ষা। তখন নারীদের পোশাক দিয়ে ছোট্ট পরিসরে ব্যবসা শুরু করেন রুমানা। রুমানা বলেন, প্রথমে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। এর মধ্যে আমার মা মারা যান। অনেকটা ভেঙে পড়ি। পরে নিজে এলাকায় ‘মিতা ডেইলি শপ’ নামে একটি দোকান করি। কর্মচারী দিয়ে নিজে দোকান দেখাশোনা করতাম। দোকানে সিসি ক্যামেরা বসানো ছিল। বাসায় বসে দেখতাম। দোকান করার জন্য আমাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। কেউ কেউ কটু কথা বলত। আবার অনেকে উৎসাহও দিয়েছে।
পরবর্তীতে গত বছরের জানুয়ারি মাসে স্বামীর থেকে মাত্র ৮ হাজার টাকা নিয়ে সেই টাকার পণ্য কিনে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। এ জন্য ফেসবুকের এসএসসি ০৩ ও এইচএসসি ০৫ ব্যাচ এর ব্যবসায়িক গ্রুপকে (SSC'03 HSC'05 BUSINESS ASSOCIATION) বেছে নেন। গ্রুপে পোস্ট করার পর বেশ সাড়া পান। উৎসাহ বেড়ে যায়। এই গ্রুপে বন্ধু-বান্ধবীর থেকে ভালো সহায়তা পান রুমানা। এখনো তার পুরো ব্যবসা এই গ্রুপেই পরিচালিত হচ্ছে।
রুমানা বলেন, অনলাইনে কাজ করতে গেলে বিভিন্ন রকম কথা শুনতে হয়। বিশেষ করে মেয়েদের আরো বাজে পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। অনেক সময় প্রতারকরা পেছনে লাগে। এগুলো বুঝতে সময় লাগে। ভেঙে পড়লে বা হতাশ হলে চলবে না।
অনলাইনে ব্যবসার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সততা। এমনটিই মনে করেন রুমানা। তিনি বলেন, ব্যবসায় সততা থাকলে তুমি জিতবেই। আল্লাহই তোমাকে পথ দেখাবেন। আমি মনে করি, ঘরে বসে অনলাইনে মেয়েরা যদি একটু সময় দেয়, সততা রেখে কাজ করে তাহলে তার স্বপ্নও পূরণ করতে পারবে। আবার পরিবারকেও সময় দিতে পারে।
বিয়ের পরে চাকরি ছাড়লেও নতুন করে আবার চাকরি শুরু করার সুযোগ ছিল ‍রুমানার। কিন্তু তিনি তা করেননি। রুমানার ভাষায়, আমি চাইলে জবে ফিরে যেতে পারতাম। আমি চাই নাই আমার মেয়েকে বাসায় একা কষ্টে রেখে যেতে। এ জন্য আমি ঘরে বসে কাজ করার উপায় খুঁজি উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করি। তবে অনলাইনে কাজ করলেও অনেক সময় বাইরে যেতে হয়। কাঁচামাল সংগ্রহসহ নানা কারণে বাইরে যাওয়া লাগে।
প্রথমে সপআপ থেকে পণ্য নিয়ে অনলাইনে বিক্রি শুরু করেন রুমানা। পরে ধীরে ধীরে নিজেও কিছু পণ্য উৎপাদন করতে থাকেন। তার সংগ্রহীত ও উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে মেয়েদের জামা, ঘড়ি, সানগ্লাস নিয়ে শুরু করি পড়ে বোরকা, কসমেটিকস, ছেলেদের পানজাবি, ঘরের বানানো মজাদার আচার ও পিঠা এবং মাটির শোপিস। প্রথমে ছিল শুধু কসমেটিকস। পরে আচার, পিঠা ও অন্যান্য হোমমেড পণ্য শুরু করেন।
রুমানা বলেন,  সব থেকে বেশি সাড়া পাই কসমেটিকস ও আচারে। আমার পেজের নাম দেই স্বপ্নবিলাসী। এসএসসি ২০০৩ ও এইচএসসি ২০০৫ ব্যাচের বিজনেস গ্রুপে  প্রোডাক্টস নিয়ে পোস্ট করি। প্রতিদিন পোস্ট দেই সেখানে। প্রথমে পেছনে ছিলাম। পরে আমি টপ টেনে প্রথমে চলে আসি। পাশাপাশি বিভিন্ন মোটিভেশান পোস্ট করি।
এভাবে শুরু করে রুমানা অল্প দিনেই বেশ জনপ্রিয়তা পান। তিনি বলেন, আমাকে এখানে প্রথম নারী উদ্যোগক্তার হয়ে আসার গল্পে লাইভে ডাকা হয়। লাইভের ওই অনুষ্ঠান থেকে আমার পরিচয় ছড়িয়ে পড়ে।
এসএসসি ২০০৩ ও এইচএসসি ২০০৫ ব্যাচের পক্ষ থেকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও সিলেটে মেলা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্টল দেন রুমানা। রুমানার বর্তমান ব্যবসায়িক কার্যক্রমে তার স্বামী সম্পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা করছেন। রুমানার এখন তৈরি হয়েছে কয়েক হাজার ক্রেতা। নিজের একটি পরিচয় তৈরির স্বপ্ন থেকে তৈরি হয়েছে তার স্বপ্নবিলাশ। এখন স্বপ্নবিলাশই তার পরিচয়।
বর্তমানে রুমানার মাসে বিক্রি লাখ টাকার বেশি। নতুন বছরেও ব্যবসা ভালোই যাচ্ছে। প্রথম ১০ দিনে টার্গেটের থেকে বেশি বিক্রি হয়েছে। সামনের দিনগুলো যেন আরো ভালো যায় এবং ব্যবসা বড় করতে পারেন সে জন্য সবার কাছে দোয় চান রুমানা।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop