বাংলার সময় শরীয়তপুরের ডিসি সেই নবজাতকের নাম দিলেন ‘সেতু’

২২-১২-২০২০, ২০:৩৬

মফিজুর রহমান রিপন

fb tw
শরীয়তপুরের ডিসি সেই নবজাতকের নাম দিলেন ‘সেতু’
10
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার চরভাগা বঙ্গবন্ধু আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতকের (কন্যা) স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে। সে এখন আশঙ্কামুক্ত। তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করতে স্বাস্থ্যবিভাগের পাশাপাশি তার পাশে দাঁড়িয়েছেন শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক। সাধারণ ওয়ার্ড থেকে আনা হয়েছে কেবিনে।
এদিকে, দত্তক নিতে আগ্রহী আছিয়া বেগম নামে এক নারী হাসপাতালে থেকে তাকে মাতৃস্নেহে সেবাযত্ন করছেন।  
শনিবার দুপুর থেকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চলছে তার চিকিৎসা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হলেও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের সেবায় দিন দিন সে সুস্থ হয়ে উঠেছে। নবজাতকের বর্তমান অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। খাবার খাচ্ছে এবং তার শরীরের রং বদলিয়েছে।
নবজাতককে সুস্থ করে তুলতে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জহিরুল ইসলাম বিশেষভাবে খেয়াল রাখছেন। প্রথমে তাকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলেও বিশেষভাবে চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষে তাকে বর্তমানে হাসপাতালের কেবিনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ও সমাজসেবা অধিদপ্তরও শিশুটির পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জহিরুল ইসলাম।
শনিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে শরীয়তপুরের চরভাগা ইউনিয়নের চরভাগা বঙ্গবন্ধু আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের সড়কের পাশে নির্মাণকাজের জন্য মজুদ করা সুড়কি পাথরের ওপর থেকে নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। কোলে তুলে নেন ওই গ্রামের বাবুল বেপারীর স্ত্রী আছিয়া বেগম। ওই সময় ঠান্ডায় কাঁপছিল নবজাতকটি, তাকে বাঁচাতে বাড়ি এনে সেবা করেন আছিয়া বেগম। এরইমধ্যে স্থানীয়রা প্রশাসনে খবর দেন। এ খবর পাওয়ার পর পুলিশ নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
সাথে আসেন আছিয়া বেগমও, তখন থেকেই মাতৃস্নেহে আকড়ে রেখেছেন তিনি। তিনি ৪ ছেলের মা কিন্তু তার কোনো মেয়ে নেই। তাই তিনি এই কন্যা শিশুটিকে নিজের মেয়ের মতো লালন পালন করতে চান। আর শিশুটিকে দত্তক পেতে তিনি হাসপাতালে শুরু থেকেই পাশে রয়েছে। এ পর্যন্ত শিশুটির প্রকৃত বাবা-মায়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। আছিয়া শিশুটিকে আদুরী বলে ডাকেন।
এদিকে তাকে বাঁচাতে পাশে দাঁড়িয়েছেন শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান। তিনি নিজ উদ্যোগে তার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে দিয়েছেন। যাতে ভালোভাবে চিকিৎসা হয় সেই দিকটায় তিনি বিশেষ নজর দেন। সাধারণ শিশু ওয়ার্ড থেকে গরম পরিবেশে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষে কেবিনে আনা হয় তাকে। কিনে দিয়েছেন নবজাতকের জন্য ইলেক্ট্রিক রুম হিটার।
সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে নবজাতকের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান বলেন, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এ নবজাতক সম্পর্কে জানতে পেরেছি। তাই দেখতে এসেছিলাম। তার সবকিছুর জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, পদ্মা সেতুর সব স্প্যান বসানো হয়েছে এ বিজয়ের মাসেই, তাই তার নাম দেওয়া হয়েছে সেতু। নবজাতক সেতুকে সুস্থ হওয়ার পরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে দত্তক দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
 
 

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop