সাক্ষাৎকার ভাস্কর্য বিরোধিতার শেকড় খুঁজতে হবে: বঙ্গবন্ধুর ভাই

০৭-১২-২০২০, ১৭:৫৪

দেবাশীষ রায়

fb tw
ভাস্কর্য বিরোধিতার শেকড় খুঁজতে হবে: বঙ্গবন্ধুর ভাই
04
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতায় নামা ধর্মান্ধ গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত সত্যি সত্যিই আঘাত হেনেছে! কুষ্টিয়াতে নির্মিতব্য জাতির পিতার ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটারও তিন দিন পেরিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী।
রাজধানীসহ সারা দেশেই চলছে মৌলবাদবিরোধী অবস্থান নিয়ে নানা কর্মসূচি। জাতির পিতাকে অবমাননার ইস্যুতে কী ভাবছেন তার পরিবারের সদস্যরা। সময় নিউজকে সেই ভাবনার কিছুটা জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর চাচাতো ভাই শেখ কবির হোসেন। 
সোমবার (৭ ডিসেম্বর) ভার্চুয়াল মাধ্যমে সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করা হয়েছে। 
সময় নিউজ: হঠাৎ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কেন উঠে পড়ে লেগেছে ধর্মীয় সংগঠনগুলো?
শেখ কবির হোসেন: ভাস্কর্য মহান ব্যক্তিদের নামেই হয়ে থাকে। সেই হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নামে যত ভাস্কর্য হবে, ততই ভালো। কারণ জনগণ জানতে পারবে ইনি কে ছিলেন! বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলারও চেষ্টা করা হয়েছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে একটি শক্তি তাকে হত্যা করেছিল। বঙ্গবন্ধুর যে নেতৃত্ব ছিল, সেটি বিশ্বব্যাপী চলে গিয়েছিল। তিনি কিন্তু আঙুলের নির্দেশনায় বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন, জনগণ তার কথায় স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। যার যা কিছু ছিল, তাই নিয়ে মানুষ যুদ্ধে নেমে গিয়েছিল। সেজন্যই তার নেতৃত্বে ঈর্ষান্বিত হয়ে, ভয় পেয়ে দেশ স্বাধীনের পর তাকে মেরে ফেলা হলো। এটা একটা পাকিস্তানি চক্রের কাজ। বাংলাদেশ তারা চাইতো না। এটাই তাদের মূল কথা ছিল। অবশ্য বঙ্গবন্ধু কন্যা নানা ঘাত-প্রতিঘাত প্রতিরোধ করে, জাতির পিতার খুনিদের বিচার করতে পেরেছেন। আশা করি এ মামলার যারা এখনও পলাতক তাদেরও বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এই যে এখন ভাস্কর্য ভাঙার পেছনে শক্তিটা কাজ করছে, তাদের উদ্দেশ্য তো আসলে ভাস্কর্য ভাঙা নয়। এটা হলো বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করা, বাংলাদেশকে অস্বীকার করা। এ দেশের স্বাধীনতাকে তারা বিশ্বাস করে না। এটাই কিন্তু তারা চাচ্ছে। এটা কিন্তু আজকের না। অর্থাৎ জাতির পিতাকে যারা হত্যা করেছে, তারই শিকড় বা শক্তি হলো এরা; অনেক গভীরে তাদের অবস্থান। মাঝে-মাঝে তারা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।
সময় নিউজ: এই পরিস্থিতিতে কী করণীয় আছে বলে মনে করেন আপনি? 
শেখ কবির হোসেন: দেখুন, এই ভাস্কর্য বিরোধিতার ইস্যুতে এর শিকড়ে যাদের অবস্থান, তাদের মূলোৎপাটন করতে হলে গোঁড়ায় হাত দিতে হবে। কুষ্টিয়ায় ভাস্কর্য ভাঙার ইস্যুতে শুধু যে চারজনকে পুলিশ ধরেছে। শুধু তাদের বিচার করলেই হবে না। এই ষড়যন্ত্র কারা করেছে, কারা তাদের এই কাজে প্রলুব্ধ করেছে বা নেপথ্যে রয়েছে শিকড় খুঁজে বের করলেই ইন্ধন-দাতা পাওয়া যাবে। তাদেরকে খুঁজে বের করে সমাজের কাছে দেখাতে হবে, যাতে মানুষ তাদের ঘৃণা করে। এর ফলে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে তারা সাহস করবে না। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারকে আমি অনুরোধ করবো, এই বিষয়টি কঠিনভাবে দেখার জন্য। এর শিকড় বের করা হোক। কোথায় এদের আস্তানা আছে তা বের করা হোক।
সময় নিউজ: আলেম-ওলামাদের কল্যাণে বর্তমান সরকার তো অনেক কিছুই করেছে; তবু কেন এই বিরোধিতা? 
শেখ কবির হোসেন: আজকে যারা ভাস্কর্য নিয়ে কথা বলছে, তারা কী জানে না মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ভাস্কর্য আছে পাকিস্তানে! আমার মনে আছে, যখন কওমি সনদ নিলেন আলেম-ওলামা হুজুররা। এরা জমায়েত হয়েছিল রেসকোর্সের ময়দানে (ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান); তখন তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি’র রাজু ভাস্কর্যের নিচে গিয়ে ছবি তুলেছিল। সেসব চিত্র আমরা টেলিভিশনে দেখেছি। তখন তাদের কিন্তু সমস্যা হয়নি। এখন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য সহ্য করতে তাদের কষ্ট হচ্ছে! বিষয়টাকে এত সহজ করে দেখলে চলবে না। এদের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। সবাই-ই মোটামুটি এদের বিরোধিতা করছে। গুটিকয়েক মানুষ যারা এটা নিয়ে কোনো কথা বলছে না। তারা কেন কথা বলছেন না। সেটাও ভাবা দরকার। এই হুজুরগোষ্ঠী সংস্কৃতিও বোঝে না; রাজনীতিও বোঝে না। তারা আসলে পাকিস্তানি ভাবধারা নিয়ে থাকেন। তাদের মূল কথা হলো, বাংলাদেশে তারা বিশ্বাসী না। বাঙালিত্বে তাদের বিশ্বাস নেই। এই আদর্শ নিয়েই তারা চলাফেরা করেন। তারা বাংলাদেশ বিরোধী বলেই বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করছে। তাদেরকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা উচিত। এদের ভেতরে কী আছে তা বের করতে হবে।
সময় নিউজ: ভাস্কর্য ইস্যুতে রাজনৈতিক পরিসর বা সমাজের সচেতন মহলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?
শেখ কবির হোসেন: রাজনৈতিক কোনো দল যদি ভাস্কর্য বিরোধীদের ইস্যুতে চুপ থাকে। তাহলে বুঝতে হবে তারাও এদের সাথে জড়িয়ে গেছে। সমাজের সবারই এই ইস্যুতে সরব হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। সরকারের উচিত এই অপশক্তির মূলোৎপাটন করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিষয়ে জনগণকেই মূলত সোচ্চার হতে হবে। এক্ষেত্রে যারা বুদ্ধিজীবী তাদেরকেও দায়িত্ব নিতে হবে। এই সময়ে তাদের নীরবতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভাস্কর্য নিয়ে জনমত গড়তে তাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। কেননা সমাজের মানুষকে বোঝাতে বুদ্ধিজীবীদের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে বলে আমি মনে করি!
সময় নিউজ: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
শেখ কবির হোসেন: আপনাদেরকেও ধন্যবাদ, এই আয়োজনের জন্য!

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop