বাংলার সময় ‘রহস্যময়ী’ নারীর মামলার জাল: তদন্ত গাফিলতিতে ফাঁসছে ভুক্তভোগীরা

০১-১২-২০২০, ১৩:১২

রাজীবুল হাসান

fb tw
রহস্যময়ী এক নারী। কোর্টে কিংবা থানায় আসেন, একের পর এক মামলা দায়ের করেন। আবার নিরুদ্দেশ হয়ে যান। গাজীপুরে খোঁজ মিলেছে এমন এক মামলাবাজ প্রতারকের তথ্য। সম্প্রতি এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে একাধিক ধর্ষণ, যৌতুক ও নির্যাতন মামলার অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এ বিষয়ে আইনবিদরা বলছেন, ভুয়া মামলা বন্ধে পুলিশকে আরও সতর্ক হওয়া দরকার।
ইংল্যান্ড ফেরত ড. নুরুল ইসলাম। দেশে ফেরার পর প্রতারণার শিকার হন রহস্যময়ী এক নারীর সঙ্গে। ধর্ষণ মামলায় আট দিন জেল খেটে আরও দুই ভুয়া মামলা মাথায় নিয়ে এখন সকাল-সন্ধ্যা ছুটছেন কোর্টপাড়ায়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নরুল ইসলামের মালিকানাধীন বাংলাদেশ নরওয়ে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন কথিত সাথী। এর কিছুদিন পর পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলে বাগানবাড়িতে ধর্ষণের নাটক সাজিয়ে দেওয়া হয় আরেক মামলা। যেখানে ড. নুরুল ইসলামকে দেখানো হয় ডাক্তার হিসেবে। এখানেই শেষ নয়, ভুয়া নিকাহনামা তৈরি করে ঘাড়ে চাপানো হয় আরও একটি যৌতুক মামলা।
ভুক্তভোগী ড. মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম শেখ সময় সংবাদকে বলেন, পুলিশ বিন্দুমাত্র তদন্ত না করে, কোনো প্রকার সত্যতা ছাড়া মামলাটি নেয়। বিনা কারণে আমাকে ৮ দিন জেল খাটতে হয়েছে। সরকারের কাছে আমার দাবি থাকবে, কোনো মামলার ক্ষেত্রে যেন তদন্ত ছাড়া রেকর্ড করা না হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই নারী কখনো কখনো রাবেয়া আবার কখনো পারভীন সাথী পরিচয়ে একের পর এক ভুয়া মামলার জাল বুনছেন। মামলা নেওয়ার আগে প্রাথমিক তদন্ত কেন করা হচ্ছে না? এমন প্রশ্নে জেলার পুলিশ প্রধান বলছেন- তাৎক্ষণিক মামলা নেওয়ায় এমনটা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার সময় সংবাদকে বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তার কোনো গাফিলতি ছিল কিনা তা আমরা খতিয়ে দেখছি। যদি তদন্তে তার গাফিলতি থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনও (পিবিআরই) খোঁজ পাচ্ছে না অভিযুক্ত নারীর।
জেলা পিবিআরইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকসুদের রহমান জানান, অভিযোগকারী নারীকে তদন্তের স্বার্থে বারবার তলব করা হলেও সে আসেনি। পরবর্তীতে তার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ি খোঁজ নিয়েও সাথী আক্তার নামে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ভুয়া মামলায় বহু মানুষ প্রতারণার শিকার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় অভিযুক্তরা। বিশেষজ্ঞারা বলছেন, মামলা দায়ের সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করলে-যেমনটা কমবে ভুয়া মামলা দায়েরের প্রবনতা, তেমনি খুব সহজেই শনাক্ত হবে এসব প্রতারকচক্র। 
এদিকে ভুয়া মামলা বন্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর আগে যাচাই-বাচাইয়ের পরামর্শ আইনজীবীদের।
সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী জানান, পুলিশ যখন মামলার এফআইআর রেকর্ড করবে, তার আগে ওই এফআইআর দায়ের করা ব্যক্তির ব্যাপারে তদন্ত করতে হবে। তাহলেই এ ধরনের হয়রানিমূলক মামলা রোধ করা যাবে।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop