খেলার সময় ‘ঈশ্বরের হাত’ দেখতে না পাওয়া সেই রেফারি

২৭-১১-২০২০, ২৩:৫১

খেলার সময় ডেস্ক

fb tw
‘ঈশ্বরের হাত’ দেখতে না পাওয়া সেই রেফারি
ঈশ্বরের বিচরণ সর্বত্র। তাই বলে ফুটবল মাঠে এসে দৈববলে নিজের হাতে গোল দিয়ে দেবেন? ব্যাপারটা কেউ হয়তো কল্পনায়ও আনবেন না। যদি না তার নাম ডিয়েগো ম্যারাডোনা না হয়! চোখ-ধাঁধানো পারফরম্যান্স দিয়ে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ মাতিয়ে রেখেছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত সে আসরের শিরোপাটাও উঠেছিল ম্যারাডোনারই হাতে। মাঠের দুর্দান্ত নৈপুণ্যের পাশাপাশি অকল্পনীয় এক বিতর্কের জন্ম দিয়েও স্মরণীয় হয়ে আছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। এই বিশ্বকাপেরই কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠিয়েছিলেন হাত দিয়ে। পরে নিজেই সেই গোলের ব্যাখ্যায় বলেছিলেন, ঈশ্বরই তার হাত দিয়ে গোলটা করিয়ে নিয়েছেন! সেই থেকে গোলটির গায়ে পাকাপাকিভাবে বসে যায় ‘ঈশ্বরের হাতের গোল’ উপাধিটি।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে আটলান্টিক মহাসগারের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছিলো। স্বাভাবিকভাবে এই ম্যাচে রাজনৈতিক বিদ্বেষের একটা আভাস ছিল। আর কঠিন সেই ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পান তিউনিসিয়ার রেফারি আলী বিন নাসের। এই ম্যাচেই হয়েছিল বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসে ঠাঁই পাওয়া ডিয়েগো ম্যারাডোনার দুটি গোল। বুধবার (২৫ নভেম্বর) আর্জেন্টাইন গ্রেটের মৃত্যুর পর তাকে প্রশংসায় ভাসালেন বিন নাসের।
‘ঈশ্বরের হাত’ দিয়ে করা গোলটি নিয়ে যে বিন নাসেরের সন্দেহ হয়নি, তা নয়। ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর এএফপিকে বলেছেন সেই কথা, ‘আমি হাত দেখতে পেয়েছিলাম না, কিন্তু আমার সন্দেহ হচ্ছিল। ছবিগুলোতে দেখতে পাবেন, কী হয়েছিল জানতে আমি আমার সহকারী বুলগেরিয়ার (বোগদান) দোচেভের কাছে ফিরে গিয়েছিলাম। যখন তিনি বললেন, ঠিক আছে। আমি তখন গোল দিলাম।’
ইংল্যান্ড সমতা ফেরানোর পর ম্যারাডোনার জয়সূচক গোলটি পেয়েছিল ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ খেতাব। বিন নাসেরের চোখে ওই গোলটি ছিল ‘মাস্টারপিচ’। ৭৬ বছর বয়সী এই সাবেক তিউনিসিয়ান রেফারি জানান, ওই ম্যাচের পর ফিফা তাকে সর্বোচ্চ নম্বর দিয়েছিল। যে কোনও কঠিন ম্যাচে ফিফা তাকেই দিয়েছে দায়িত্ব। বিন নাসের বললেন, ‘আমি তার আগেই, ১৯৮৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের ম্যাচে রেফারিং করেছিলাম। ফিফার কঠিন মিশনে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হতো। এই ম্যাচে আমাকে ফিফা ৯.৪ নম্বর দিয়েছিল। আমি তা-ই করেছি, যা আমার করার দরকার ছিল। কিন্তু সন্দেহ ছিল- দোচেভ পরে বলেছিলেন, তিনি দুটি হাত দেখতে পেয়েছিলেন। কিন্তু সেটা শিল্টনের নাকি ম্যারাডোনার, তা বোঝেননি।’
ওই বিশ্বকাপ জয়ের ২৯ বছর পর ম্যারাডোনা যান তিউনিসিয়ায়। সেখানে গিয়ে বিন নাসেরের সঙ্গে দেখা করতে ভোলেননি তিনি। ২০১৫ সালের ওই সফরে তাকে একটি স্বাক্ষর করা টি-শার্ট দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন গ্রেট, যাতে লেখা ছিল, ‘আমার চিরদিনের বন্ধু আলীকে।’ ম্যারাডোনার সঙ্গে দারুণ সময় কেটেছিল বিন নাসেরের, ‘আমাদের সময়টা ভালো কেটেছিল। ওই দিন আমি তাকে বলেছিলাম- ওই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনা নয়, জিতেছিলে তুমি ম্যারাডোনা। সে ছিল একটা প্রতিভা, একজন ফুটবল লিজেন্ড। রেফারি হিসেবে তার সামনে আমি এক সেকেন্ডের জন্যও আমার চোখ বন্ধ হতে দেইনি, কারণ সে যে কোনও কিছু করতে পারতো।’

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop