বাণিজ্য সময় দেশি সিবিএস ব্যবহারে আস্থা নেই ব্যাংকগুলোর

২৬-১১-২০২০, ০৯:৫২

হরিপদ সাহা

fb tw
প্রযুক্তির ব্যবহারে গত দুই দশকে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় একের পর এক যুক্ত হয়েছে এটিএম বুথ, আন্তঃব্যাংক তহবিল ট্রান্সফার, অনলাইন লেনদেন, মোবাইল ব্যাংকিং, ক্রেডিট কার্ডসহ নানা রকম সেবা। নির্ভুলভাবে দ্রুততার সঙ্গে এসব সেবা দেয়া সহজ করেছে সেন্ট্রালাইজড অনলাইন রিয়েলটাইম এক্সচেঞ্জ বা কোর ব্যাংকিং সলিউশন- সিবিএস। তবে, দেশের বেশিরভাগ বাণিজ্যিক ব্যাংক এক্ষেত্রে বিদেশি সফটওয়্যারমুখী। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা সত্ত্বেও রাষ্টায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলো আস্থাহীনতায় দেশি সিবিএস ব্যবহার করছে না। 
তবে দেশে বিশ্বমানের ব্যাংকিং সলিউশন তৈরির চেষ্টা করছেন বলে জানান অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস-উল-ইসলাম।
তিনি বলেন, এখন যেসব দেশি সিবিএস আছে তা আমাদের মত বড় ব্যাংকের জন্য কতটা ব্যবহারযোগ্য সেটা একটা প্রশ্ন। ওগুলো ছোট স্কেলের ব্যাংকগুলো ব্যবহার করছে। আমি মাস ছয়েক আগে অফিসিয়ালি অর্থমন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি, আমারা চার-পাঁচটা রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক যদি ২শ' থেকে ৩শ' কোটি করে টাকা আলাদা রেখে সাবসিডিয়ারি কোম্পাানি করি, সেখান থেকে কোর ব্যাংকিং সলিউশন করতে পারি দেশের দক্ষ জনবল নিয়োগ করে। তারা এটা ডেভেলপ করবে, গবেষণা করবে। 
আমাদের দেশের অর্ধেক বা তিনভাগের একভাগ ব্যাংকও যদি এই সিবিএস ব্যবহার করে তবে লাভজনক হবে সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানটি। অর্থ মন্ত্রণালয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম এটাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং জানান এ বিষয়ে একটা টেকনিক্যাল ও ম্যানেজমেন্ট কমিটিও করা হয়েছে। তিনি নামও প্রস্তাব করেছেন 'বঙ্গবন্ধু সিবিএস', তা গৃহীতও হয়েছে। তিনি আশাবাদী, সেদিন আর দূরে নয় যে দেশি কোর ব্যাংকিং সলিউশনে দেশের ব্যাংক চলবে। 
এ ব্যাপারে টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান প্রযুক্তিবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ সময় সংবাদকে বলেন, এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত বলতে চাই না। আমরা কাজ শুরু করেছি। অর্থবিভাগের সচিব মিটিংয়ে বলছিলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও কেন এই সিবিএস বাইরে থেকে আনতে হবে। অনেক টাকা বিদেশে চলে যায়। তারপর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোও সাপোর্ট দিচ্ছে।
দেশের আর্থিক খাতে তথ্যের নিরাপত্তা এবং অর্থসাশ্রয়ে মানসম্পন্ন দেশি কোর ব্যাংকিং সলিউশন তৈরির উদ্যোগকে ইতিবাচক বলছেন প্রযুক্তিখাতের বিশেষজ্ঞরা। প্রযুক্তিবিদ জাকারিয়া স্বপন বলেন, এটা ঠিক প্রতিবছর দেশের ব্যাংকখাতের সিবিএস সেবার জন্য ৫শ' থেকে ৬শ' কোটি টাকা বিদেশে চলে যায়। তবে দেশে বিশ্বমানের এধরনের জটিল ও সংবেদনশীল সফটওয়ার তৈরির মত জনবলের ঘাটতি আছে। যারা ভালো করেন তারা বেশিদিন দেশে থাকেন না। 
এ বিষয়ে একমত পোষণ করে আরেক তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভির হাসান জোহা বলেন, সরকার গুরুত্বপূর্ণ একটা সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে ব্যাংকগুলোকে দেশীয় সফটওয়ার ব্যবহার করতে হবে। যেহেতু ক্রস বর্ডার লেনদেন মানে বৈদেশিক ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন হবে সেক্ষেত্রে এধরনের প্রকল্পে বিদেশী জনবল থাকলে তা আরও গ্রহণযোগ্য ও মানসম্পন্ন হবে বলে মনে করি। দেশীয় সফটওয়্যার শিল্প সুরক্ষায় শ্রেণিভেদে বিদেশি সফটওয়্যার আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর পরামর্শ পর্যবেক্ষকদের।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop