বাণিজ্য সময় করোনায় বিপর্যস্ত হংকংয়ের পর্যটন

২৪-১১-২০২০, ০৯:২০

ঈষিতা ব্রহ্ম

fb tw
করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত বিশ্বের বিলাসবহুল, ব্যয়বহুল আর জনপ্রিয় পর্যটন স্থান হংকংয়ের পর্যটন খাত। অলস পড়ে আছে পর্যটক চলাচলের বাসগুলো। সরকারি প্রণোদনায় কোনোরকম বেতন-ভাতা দিয়ে চালু আছে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো। শহরকেন্দ্রিক পর্যটন সচল রাখতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
হংকংয়ের উত্তরের কন্টেইনার বন্দরে এক শতাধিক ওপরে টুরিস্ট বাস অলস পড়ে আছে। ধুলোয় ঢাকা পড়া বাসগুলোর চলাচল বন্ধ ১০ মাস ধরে। করোনা মহামারিতে জাঁকজমক এ শহরে বিদেশি পর্যটক আসা বন্ধ থাকায় এলাকাটি পরিণত হয়েছে বাসের কবরস্থানে। অথচ সাবেক ব্রিটিশ এই কলোনি গেল বছরও বিশ্বের শীর্ষ পর্যটন শহর ছিল।
একজন ট্রাভেল এজেন্ট বলেন, দেখে মনে হচ্ছে জায়গাটা বাসের কবরস্থান হয়ে গেছে। বাসগুলোর মতো আমাদেরও কোনও আয় নেই। এগুলো প্রতিদিন চলত, প্রতিদিন আয় হতো। যেহেতু এগুলো চলছে না, তার মানে ড্রাইভারও বেকার। আমার প্রতিষ্ঠানের মতো অনেক ট্রাভেল এজেন্সির সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি প্রয়োজন। সরকার ভর্তুকি বন্ধ করে দিলে ব্যয় আরও কমিয়ে আনতে হবে। বেকার কর্মীদের কোনোরকমে বেতন দেওয়ার পরিস্থিতিও আর থাকবে না।
মহানগরির সব শিল্প খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য দেশটির সরকার ২০ লাখ কর্মজীবীকে ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি ঘোষণা এসেছে, নভেম্বর পর্যন্তই চালু থাকছে এ প্রকল্প। আয়ের অন্য কোনও উপায় না থাকায় কর্মীদের মজুরি দিতে না পারার পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যেতে পারে অনেক ব্যবসা। সরকারি তথ্য বলছে, করোনার কারণে ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত হংকংয়ে প্রতি মাসে ৯৬ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যটক কমেছে।
হংকংয়ের এমন বাজে দশায় বিপর্যস্ত এখাত সংশ্লিষ্টদের অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে একজন ট্যুর গাইড বলেন, ২০২০ ট্যুর গাইডদের জন্য হাহাকারের একটি বছর। সীমান্ত তো বন্ধ। আমাদের কাজ নেই আয় নেই। অথচ আগে আমরা শুধু যাতায়াতের মধ্যেই থাকতাম, যতক্ষণ না পর্যটকরা ঘোরা শেষ করত। খুব আনন্দে পার করেছি দিনগুলো। হঠাৎ করেই পর্যটক নেই, আমরাও বেকার। আমার অসহ্য লাগে। এখানে পর্যটকদের নেওয়ার জন্য বাসগুলো লাইনে দাঁড়িয়ে থাকত, আর এখন এখানে একটা বাসও নেই।
করোনা পরীক্ষার করে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে প্রাথমিক অবস্থায় মাত্র ২০০ যাত্রীর একটি ফ্লাইট চালু হয়েছে, যেটা চলছে দিনে একবার। কিন্তু হংকংয়ে যে পরিমাণ পর্যটক আসে, তাতে এ শরের জন্য বিষয়টা সমুদ্রে এক ফোঁটা পানির মতো। ২০১৯ সালে শুধু জানুয়ারিতে এখানে প্রায় ৭০ লাখ পর্যটক এসেছে, যেখানে চীনা পর্যটকই ৫৫ লাখ।
আরেকজন ট্যুর গাইড বলেন, ট্রাভেল বাবলও এত সহজে হবে না। সিঙ্গাপুরে অনেক কঠোর বিধিনিষেধ। তার ওপর যে ফ্লাইট চালু আছে, তাতেও যাত্রী নগন্য। সিঙ্গাপুর ট্যুরে যেতে ৭৭৪ ডলার করে লাগছে। তারমধ্যে করোনা পরীক্ষার জন্য লাগছে আরো ২৬০ ডলার, যা অনেক ব্যয়বহুল।
হংকংয়ের নেতা ক্যারি ল্যাম চীনের সঙ্গে সীমান্ত যোগাযোগ চালুর আশা প্রকাশ করলেও চীনের তরফ থেকে নেই কোনও সবুজ সংকেত। হংকংয়ে কোভিড রোগী শূন্যে না নামা পর্যন্ত চীন সীমান্ত যোগাযোগ শুরু করতে ইচ্ছুক না।
আপাতত শহরের পর্যটন সচল রাখতে বিনামূল্যে ট্যুরসহ নানা অফার দিচ্ছে অপারেটররা। অনেক ট্রাভেল এজেন্সি কর্মীদের ডিসেম্বর থেকে বিনা বেতনে ছুটি নিতে বলেছেন। কারণ, তারা বেতন দিতে পারছেন না। গেলো বছরের সরকারবিরোধী আন্দোলনে অনেকটাই ধস নেমেছে দেশটির পর্যটন খাতে, দেউলিয়া হয়েছে অনেক ট্যুর অপারেটর। চলতি বছরের করোনা সংকটে আরও বিপর্যস্ত চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলটির পর্যটন খাত।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop