বিনোদনের সময় কোন পথে বাংলা সিনেমা?

২৩-১১-২০২০, ১৯:১৪

আল কাছির

fb tw
কোন পথে বাংলা সিনেমা?
বাংলা সিনেমা বেশ দুঃসময় পার করছে। গেল কয়েক বছর ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি। করোনার ধাক্কায় সেই খুঁড়িয়ে চলাও বন্ধ হয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গে সব মিলিয়ে হল রয়েছে ২২২টি।
যার মধ্যে গেল শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) বন্ধ হয়ে গেছে শহর কলকাতার পরিচিত কিছু সিনেমা হল। বাংলাদেশের অবস্থা আরও শোচনীয়। কমে কমে হল সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে দুই সংখ্যায়।
শহর কলকাতার প্রিয়া, মেনকা, প্রাচী, ইন্দিরা, অশোকা, জয়া, দুর্গাপুরের বায়োস্কোপ এবং বারাসাতের ডাকবাংলো হলগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছ। কারণ- কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছেন না মালিকরা।
হল বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে রোববার (২২ নভেম্বর) মুঠোফোন কথা হয় প্রিয়া সিনেমার হলের মালিক অরিজিৎ দত্তের সঙ্গে। সময় নিউজকে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করেই হল বন্ধ করা হয়েছে। কলকাতার ৫০ ভাগ মাল্টিপ্লেক্স কিন্তু এখনও খুলেনি। আর দ্বিতীয়ত হলো, প্রিয়ার টাইমিং একটু গন্ডগোল হয়ে গেছিল। আমি কিন্তু বন্ধ করেছিলাম, সিনেমা নেই বলে। আমি পুরোপুরি বন্ধ করিনি।’
ওপার বাংলার একাধিক পরিচালকও মনে করছেন, হল খোলা রাখার ব্যাপারে প্রযোজক, দর্শকদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখার্জির ভাষায়, ‘সমস্যাটা শুধু দুই বাংলার নয়। গোটা পৃথিবীরই সমস্যা এটি। তবে হল মালিক, প্রযোজক, দর্শক, ওটিটি, সরকারের সকলের উদ্যোগ দরকার সমস্যা কাটিয়ে উঠতে গেলে। লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে। এছাড়া উপায় নেই।’
কলকাতার ‘মেনকা’ ও ‘প্রিয়া’ সিনেমা হল । ছবি: সংগৃহীত
দুই বাংলার চিত্রটা প্রায় একই। সিনেমা নাই, তাই হল বন্ধ। দর্শক টানার মতো সিনেমা প্রযোজকরা মুক্তি দিচ্ছেন না, তাই হল বন্ধ। কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছেন না মালিকেরা, তাই হল বন্ধ। গেল ১৬ অক্টোবর থেকে ঢাকার বড় হলগুলো বাদে সারাদেশের ৬৬টি হল খুলেছে। সেগুলোতে চলছে পুরাতন সিনেমা। রুচিশীল সিনেমা না থাকায় খুলছে না মধুমিতা, বলাকা, জোনাকী, পুনমসহ একাধিক বড় হল। যেসব হল খুলেছে সেগুলোর অবস্থা খুবই করুণ। এমনটাই জানা গেছে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে।
রাজধানীর ছন্দ-আনন্দ সিনেমা হলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন জানান, অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন সিনেমা হলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তার ভাষায়, ‘আমরা ভেবেছিলাম দর্শক সিনেমা হলে আসবে। কিন্তু তার চেয়েও কম দর্শক আসছে। আশানুরূপ ফিডব্যাক আমরা পাচ্ছি না। ছন্দ-আনন্দ সিনেমা হল দুটি পরিচালনা করতে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার টাকার খরচ। কিন্তু প্রতিদিন আমার আয় হচ্ছে মাত্র ৫-৭ হাজার টাকা। আমরা করোনায় মরব না, আমরা মরব না খেয়ে।’
স্টার সিনেপ্লেক্সের কর্ণধার মাহবুব রহমান রুহেল মনে করেন, হল না থাকলে সিনেমা করে কোনো লাভ নেই। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘বাংলা সিনেমা নেই, প্রডাকশন নেই। নতুন কোনো সিনেমা নেই, যা আছে সেগুলোও মুক্তি দিচ্ছে না। আমার মনে হয় হল যদি বাঁচাতে হয় তাহলে খুব শিগগিরই যেগুলো ব্যান করে দেওয়া সেগুলো খুলে দিতে হবে। তাতে করে দর্শকের অন্তত হলে যাওয়ার অভ্যাসটা ঠিক থাকবে।’
দেশীয় সিনেমা হলের অবস্থা যখন এমন শোচনীয় তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে- বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ কী?
জানতে চাইলে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে পরিচালক মতিন রহমান সময় নিউজকে বলেন, ‘মানুষ তো স্বপ্ন নিয়েই বাঁচে। আমি স্বপ্ন দেখি সব হল আবার দর্শকে ভরে যাবে। কিন্তু বাস্তবতাকে আমি অস্বীকার করতে পারব না। হল চালাতে গেলে বিপুল পরিমাণ দর্শক লাগে, আর দর্শকের আনন্দের জন্য সিনেমা লাগে। আমাদের হাতে কিন্তু সিনেমা নাই। সিনেমা যেগুলো আছে সেগুলোর মানিব্যাক গ্যারান্টি চাচ্ছেন প্রযোজকরা। এ গ্যারান্টি তো কেউ দিতে পারছে না।’
শূন্য যাত্রায় বাংলাদেশি সিনেমা। উল্লেখ করে গুণি এ পরিচালক আরও বলেন, ‘আমরা আসলে কোন দিকে যাচ্ছি, সেটি এখনই সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না। ধোঁয়াশার মধ্যে চলছে সবকিছু। এ পর্বের শেষ কোথায় তাও জানি না।’
একই প্রশ্নের উত্তরে কলকাতার প্রিয়া হলের মালিক অরিজিৎ দত্ত বলেন, ‘মুশকিল। বাংলা সিনেমা কিন্তু সিঙ্গেল স্ক্রিনের জন্য। মাল্টিপ্লেক্সের জন্য না। যদি সিঙ্গেল স্ক্রিন সত্যিই বন্ধ হয়ে যায় তাহলে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি একটু সংকটে পড়বে। প্রচুর সিনেমা রিলিজ করতে হবে। ইন্ডাস্ট্রি টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব শুধু হলের কাঁধে না। প্রযোজকরা কোথায়? ওরা সিনেমা মুক্তি দিচ্ছে না কেন? প্রযোজক সিনেমা রিলিজ না দিলে হল চালাবে কী? তাই বলি, সিনেমা মুক্তি দিতে হবে। না হলে গভীর সংকট তৈরি হবে।’
এদিকে, দেশীয় সিনেমার অভাবে বলিউডের সিনেমা আমদানির অনুমতি চাইছেন হল মালিকেরা। তারা মনে করছেন, ভারতীয় সিনেমায় ঘুরে দাঁড়াতে পারে সিনেমা হলগুলো। ভারতীয় সিনেমা কী বাংলাদেশি সিনেমার জন্য হুমকি হবে?
জানতে চাইলে মতিন রহমান বলেন, ‘ভারতের সিনেমা কতদিন আনবেন? বছরে ২০ সপ্তাহ ভারতে সিনেমা আর বাকি সপ্তাহে বাংলাদেশি সিনেমা হলে চলবে, এই পর্বে কোন ভারতীয় সিনেমা আসবে না। এই নীতিমালা হওয়া দরকার। কিন্তু এগুলো কে করবে? বলার মতো লোক তো নেই।’
একই প্রশ্নের উত্তরে প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ‘বাংলাদেশের সিনেমা থাকলে তো আমরা বলিউডের সিনেমা চাইতাম না। সিনেমা নাই বলেই আমাদের টিকে থাকার জন্যই বিদেশি সিনেমা আমরা চাইছি। আপনাদের জন্য আমরা হল খুলে দিলাম কিন্তু আপনারা সিনেমা দিচ্ছেন না। তাহলে তো হবে না।’
সবমিলিয়ে বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ অজানা। ঢাকাই সিনেপাড়ার একাংশ মনে করছেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে। সেটি সময়ের ব্যাপার। অন্যদিকে, আরেকপক্ষ মনে করছেন বাংলা সিনেমার সুদিন ফিরিয়ে আনতে হলে হল মালিক সমিতি, প্রযোজক সমিতি, শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতি এবং তথ্যমন্ত্রণালয়কে এগিয়ে আসতে হবে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় উজ্জ্বল হতে পারে বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop