বাণিজ্য সময় বাজার হারাচ্ছে ইউরোপের পশম

২৩-১১-২০২০, ১৪:৪৬

বাণিজ্য সময় ডেস্ক

fb tw
বাজার হারাচ্ছে ইউরোপের পশম
অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ইউরোপের পশমশিল্প। করোনার বিস্তার রোধে ডেনমার্কে লাখ লাখ মিঙ্ক হত্যার পরই আলোচনায় আসে পশম খাত। যদিও এর আগে থেকেই বাজার থেকে ছিটকে পড়ার পূর্বাভাস নিয়ে চলছিল এই অঞ্চলের পশমশিল্প।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, সব মিঙ্ক হত্যা করা হতে পারে। ডেনমার্ক বিশ্বের শীর্ষ মিঙ্ক উৎপাদনকারী দেশ। তবে, করোনার কারণে ১ হাজার মিঙ্ক খামারের মধ্যে প্রায় ২৫০ খামার বন্ধ হয়ে গেছে। 
দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দাবি, করোনাভাইরাসের ভালো বাহক হিসেবে কাজ করে বা ভূমিকা রাখে মিঙ্ক, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। 
তবে, মিঙ্কের গণকবর আর খামারিদের চোখের জলের ছবি প্রকাশ পাওয়ার পরই চাঙা হয় ডেনিশ সরকার এই গণহত্যা চালিয়েছে বৈধ কোনও আদেশ ছাড়াই। এরপরই দেশটির কৃষিমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। আর এর প্রতিবাদ জানিয়ে গত শনিবার কোপেনহেগেনমুখী হয় শত শত ট্রাক। 
কর্তৃপক্ষ বলছে, ২৮৮টি পালের সব আক্রান্ত মিঙ্ক হত্যা করা হয়েছে। মোটমাট প্রায় ১ কোটি মিঙ্ক হত্যা করা হয়েছে। 
তবে, অনেকেই মনে করছেন অনেকগুলো সুস্থ মিঙ্কও মেরে ফেলা হয়েছে। আর এতে করে অল্প দিনের মধ্যেই ডেনমার্কের পশম শিল্পে কর্মরত ৬ হাজার কর্মীর চাকরি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। 
বিশ্বের সর্ববৃহৎ পশম নিলামকারী শহর কোপেনহেগেনও 'নিয়ন্ত্রিত বন্ধ'র ঘোষণা দিয়েছে। এই অবস্থা আগামী ২ থেকে ৩ বছর বা যতদিন পর্যন্ত অবিক্রিত পশম বিক্রি না হয় ততদিন পর্যন্ত চলবে। 
করোনাভাইরাস ইউরোপের এই খাতকে আরও বিপদে ফেলেছে, তবে এর আগ থেকেই বিপদের পূর্বাভাস ছিল। 
এক দশক আগে আভিজাত্যের বাহক এই খাত বেশ ফুলে উঠে। ২০১৩ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন ২ বিলিয়ন ডলারের পশম বিক্রি করে। সে বছর বিশ্বে ৪.৩ বিলিয়ন ডলারের মিঙ্ক লালন পালন করা হয়। 
ডেনিশ রয়েল একাডেমির ফ্যাশন বিভাগের প্রধান এলস বলছে, বর্তমানে পশম কেনার প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ায় এই পণ্যটির দাম কমিয়ে দিবে। অনেক নতুন খামারি তাদের উৎপাদিত পণ্য 'পশম' নিয়ে বাজারে এসেছিলেন কিন্তু বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় তারা হতাশ হয়েছেন। 
ইউরোপের ২৪ দেশে ২০১৮ সালে ৪ হাজার ৩৫০টি পশম উৎপাদনকারী খামার ছিল। ডেনমার্কের পরই পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, লিথুনিয়া ও গ্রিস পশম উৎপাদনকারী দেশগুলোর শীর্ষে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও রাশিয়াতেও এই খামার রয়েছে। 
আন্তর্জাতিক পশম ফেডারেশনের (আইএফএফ) প্রধান নির্বাহী মার্ক ওয়াতেন জানান, যখন থেকে বেছে বেছে বেশি বেশি পশম কেনা শুরু হল তখই দাম বেড়ে গিয়েছিল। আসলে মানুষ ভেবেছিল এর (পশম) সংকট তৈরি হবে। 
এদিকে, কয়েক বছর ধরেই বিশ্বব্যাপী প্রাণিপ্রেমীরা প্রাণির পশম ব্যবহারের বিরোধীতা করে জনমত গড়ে তুলছে। আর এতে করে বিশ্বের অনেক নাম করা ফ্যাশন ব্র্যান্ড পশমের ব্যবহার থেকে সরে সিনথেটিকের ব্যবহার বাড়িয়েছে। 
এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালে যুক্তরাজ্য পশমের খামার নিষিদ্ধ করে। অস্ট্রিয়া, জার্মানি, জাপানও বন্ধ করে দিয়েছে। আরও অনেক দেশ তাদের দেখানো পথে হাঁটছে। বর্তমানে ইউরোপীয় ক্রেতারা পশমের ব্যবহার থেকে সরে আসছে যদিও চীনারা এই জায়গা দখল করে নিচ্ছে। 
মার্ক ওয়াতেন জানান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বর্তমানে পশম বাজারের ৩৫-৪০ শতাংশই বিক্রি হয় এশিয়ায়। ইউরোপের বাসিন্দারা উচ্চমূল্যের 'গ্রান্ডমা' কোটের আবেগ থেকে সরে তুলনামূলক কম পশমের সাশ্রয়ী গার্মেন্টসের দিকে ঝুঁকছে। আর তাতেই আরও নিচের দিকে যাবে ইউরোপের পশম শিল্প। 

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop