অন্যান্য সময় মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য কঙ্কাল সংগ্রহ হয় কীভাবে?

১৭-১১-২০২০, ১৩:১৭

মহানগর সময় ডেস্ক

fb tw
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য কঙ্কাল সংগ্রহ হয় কীভাবে?
দেশে মানুষের কঙ্কাল সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় মেডিকেল শিক্ষার ক্ষেত্রে। এ ছাড়া নার্সিং কিংবা হোমিওপ্যাথিবিষয়ক পড়াশোনার জন্যও কঙ্কাল ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ মানবদেহ নিয়ে পড়াশোনা করতে হয় এমন যে কোনও ধরনের শিক্ষায় কঙ্কালের ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু এই কঙ্কালের সরবরাহ ক্ষেত্রে দেশে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় মেডিকেল শিক্ষায় সংকট তৈরির পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। 
বিশ্লেষকরা বলছেন, নীতিমালা না থাকায় কঙ্কাল সরবরাহের ক্ষেত্রে অবৈধ নানা পন্থায় তৈরি হয়। ঘটে লাশ নিয়ে বাণিজ্যের মতো ঘটনাও। 
সম্প্রতি ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানা পুলিশ নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোডের একটি ভাড়া বাসা থেকে মানুষের ১২টি খুলি ও দুই বস্তা হাড় উদ্ধার করে। এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার বলেন, কঙ্কাল চুরি চক্রের সদস্যরা কবর থেকে লাশ তুলে কঙ্কাল সংগ্রহ করে চড়া দামে বিক্রি করে আসছিল। তারা এসব খুলি ও হাড় ভারত ও নেপালে পাচার করত।
এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম মোস্তফা কামাল বলেন, মানুষের শারীরবৃত্তীয় কাজগুলো জানতে এবং শিখতে হলে কঙ্কাল অপরিহার্য।
ঢাকা মেডিকেলের এক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, মেডিকেলের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় কঙ্কাল ব্যবহার করতে হয়। বিশেষ করে মানুষের শরীরে হাড়গোড়গুলো কোন অবস্থায় থাকে, হাড়ের গঠন, এগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ছিদ্র সম্পর্কে জানতে হয়। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা কঙ্কালের দরকার হয়। তবে অনেক সময় যারা হোস্টেলে থাকে তারা দু-তিনজন শিক্ষার্থী মিলে একটি কঙ্কাল কিনে পড়াশোনা করে। তবে যারা বাড়িতে থাকে তারা আলাদা কঙ্কাল কিনে নেয়।
যেভাবে কঙ্কাল সংগ্রহ করা হয়
দু’ভাবে মানুষের কঙ্কাল সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। প্রথমটি হচ্ছে অনেকে মৃত্যুর পর নিজের দেহ দান করে যান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পড়া ও গবেষণার জন্য। চিকিৎসাশাস্ত্রের জন্য যারা নিজের দেহ দান করেন সেগুলো মেডিকেল কলেজের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কঙ্কালে পরিণত করে সেটি শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সরবরাহ করে থাকে। এ ছাড়া বাইরে থেকে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় কঙ্কাল কিনে থাকে। তবে কোথা থেকে কেনে সে সম্পর্কে পরিষ্কার কোনও তথ্য পাওয়া যায় না। এমন তথ্য জানিয়েছেন অ্যানাটমি বিভাগের এক সহযোগী শিক্ষক। 
এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহমিদা সুলতানা তিথি বলেন, সাধারণত সিনিয়রদের কাছ থেকে কঙ্কাল সংগ্রহ করতে হয়। এ ছাড়া অনেক সময় হাড় নষ্ট হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে নতুন কঙ্কাল সংগ্রহ করতে হয়। নতুন কঙ্কাল বিক্রি করে এমন অনেকের যোগাযোগ ক্যাম্পাসেই খুঁজে পাওয়া যায়। এর জন্য লোকাল বোনস ডিলার থাকে
এ ছাড়া বিভিন্ন ক্যাম্পাসের দেয়ালে পোস্টার দিয়ে দেয়া হয়। বোনস বিক্রি হবে বা ফ্রেস বোনসের ব্যবস্থা করা হবে, যোগাযোগ করুন। এমন লেখা থাকে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মেডিকেল শিক্ষাবিষয়ক ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, দুভাবে মেডিকেল কলেজে কঙ্কাল সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। প্রথমত, পুরনো মেডিকেল কলেজগুলোতে এক ধরনের ঐতিহ্য রয়েছে যে, যেসব মরদেহের কোনও পরিচয় থাকে না বা কেউ দাবি করে না, এমন মরদেহগুলোকে পরবর্তীতে সরকার মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য দিয়ে দেয়। তবে এর কোনও লিখিত নিয়ম নেই। দ্বিতীয়ত, অনেকে নিজের দেহ দান করে দিয়ে থাকেন। তবে এই সংখ্যা বাংলাদেশে অনেক কম বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, যেহেতু বাংলাদেশে কঙ্কাল সংগ্রহের কোনও বৈধ উপায় নেই, তাই অবৈধভাবে আসারও সুযোগ থাকে।
মাংস ঝরিয়ে যেভাবে কঙ্কাল তৈরি হয়
সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে মানুষের মৃতদেহ সংগ্রহ করা হয়। সংগ্রহ করা সেই লাশগুলো ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় ফুটন্ত পানিতে ডুবিয়ে রাখা হলে লাশের শরীরের মাংস ও চর্বি আস্তে আস্তে আলাদা হয়ে যায়। এরপর চুন, অ্যাসিড, ব্লিচিং পাউডার ও অন্যান্য রাসায়নিক দিয়ে পরিষ্কার করে পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
সূত্র-বিবিসি 

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop