বাংলার সময় ত্রিশাল ওসির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে নির্যাতনের অভিযোগ

২৯-১০-২০২০, ১৯:৩১

ময়মনসিংহ ব্যুরো

fb tw
ত্রিশাল ওসির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে নির্যাতনের অভিযোগ
ময়মনসিংহের ত্রিশালে ওষুধ ব্যবসায়ীকে অযথা হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে থানার ওসি মাহমুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী ওষুধ ব্যবসায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ২৭ অক্টোবর পুলিশ সদর দফতরের আইজিপির কমপ্লেইন সেলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। 
লিখিত অভিযোগে ব্যবসায়ী আ. কাদির মীর জানান, তিনি ত্রিশাল বাজারে ফরহাদ মেডিসিন কর্নার নামের একটি ওষুধ বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের মালিক। গত ১০ বছর ধরে আবুল হোসেন চেয়ারম্যান মার্কেটসংলগ্ন স্থানটিতে ব্যবসা করে আসছেন। গত মাস খানেক আগে মুখে মাস্ক লাগানো এক ব্যক্তি তার দোকানে গিয়ে এক হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ওষুধ নিয়ে টাকা পরিশোধ না করে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওষুধগুলো ত্রিশাল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলামের জানিয়ে টাকা ছাড়াই ওষুধ নিয়ে যেতে চাইলে, তার ছেলে ফরহাদ টাকা ছাড়া ওষুধ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। 
ওই সময় ওষুধগুলো রেখে দেওয়ায়, ওষুধ নিতে যাওয়া ব্যক্তি ওসির মাধ্যমে তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে গত ২২ অক্টোবর গভীর রাতে মোবাইল ফোনে ফরহাদকে কল করা হয়। নিজেকে ত্রিশাল থানার ওসির দেহরক্ষী লতিফ পরিচয় দিয়ে থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য বলে। 
বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক কাদির মীর তার বড় ছেলে পুলিশের এসআই পদে কর্মরত শিবলী কায়েছ মীরের সঙ্গে আলাপ করে। পরে শিবলী ত্রিশাল থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গে দেখা করতে বলে বাবা কাদির মীরকে। 
ওই দিন রাত প্রায় ১টার দিকে কাদির মীর ছেলে ফরহাদকে নিয়ে থানায় যান। পরে থানা ভবনে ওসি না থাকায় তার দেহরক্ষী ওসির বাসভবনের সামনে নিয়ে যায় তাদের। সেখানে যাওয়ার পর নিজেদের পরিচয় দিতেই ওসি মাহমুদুল ইসলাম জঘন্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। 
তখন ওসি বলেন ‘গত ২২ অক্টোবর তাদের দোকান থেকে দেহরক্ষী লতিফ ওষুধ কিনে। সেই ওষুধে ২৫টি ট্যাবলেট সঠিক থাকলেও ৫টি ট্যাবলেট বেশি পাওয়ারের। বেশি পাওয়ারের ওষুধ খেয়ে ওসির প্রেসার ও ডায়াবেটিস কমে গেছে।
ওই সময় নিজেদের ভুল হয়ে থাকতে পারে বলে ওসির কাছে ক্ষমা চান বাবা ছেলে। পরবর্তীতে তারা দোকানের সিসি ফুটেজ পুনরায় যাচাই করে ওসির দেহরক্ষীর কোনো ওষুধ কেনার আলামত পাননি।
কিন্তু সেই রাতে ওসির নির্দয় ও নিষ্ঠুরতার শিকার হন আ. কাদির মীর ও তার ছেলে ফরহাদ। ওসির কাছে অনেক অনুনয় বিনয় ও পা ধরে ক্ষমা চেয়েও তারা রক্ষা পাননি। তাদের থানা ভবনের একটি কক্ষে রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আটকে রাখা হয়। 
পরে আ. কাদির মীরকে ছাড়া হলেও ছেলে ফরহাদকে রাতে ছাড়েনি পুলিশ। পরদিন সকালে থানার ডিউিটি অফিসার এসআই রফিক ওসির নাম করে তার ছেলে ফরহাদের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। অন্যথায় বিভিন্ন মামলা দিয়ে জেলে খাটানোর হুমকি দেওয়া হয়। 
একপর্যায়ে কোনো টাকা পয়সা আদায় করতে না পেরে ফরহাদকে বিভিন্ন সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। 
থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম বিনা কারণে থানায় ডেকে নিয়ে অন্যায়ভাবে অমানুষিক নির্যাতন করে  বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে শারীরিক, মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পাশাপাশি তারা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আ. কাদির মীর গত ২৭ অক্টোবর  পুলিশ মহাপরিদর্শক বরাবর লিখিত আবেদন করেন।
অভিযোগকারী আবদুল কাদির মীর জানান, রাতে ওসি আমাদের তার বাসার সামনে নিয়ে যায়। বাসার বারান্দা থেকে সে আমাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। আমাকে মধ্যরাত পর্যন্ত ও ছেলেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত আটকে রাখে। মানসিক নির্যাতন করে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাকে ভুল ওষুধ দেয়ায় আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। সুগার নেমে আসে তিনের নিচে। প্রেসার কমে যায়। বিষয়টি জিজ্ঞাসা করার জন্য তাদের ডাকা হয়েছিল। কোনো নির্যাতন বা খারাপ আচরণ করা হয়নি। 
তিনি বলেন, ভুল ওষুধ খাওয়ার কারণে তো মারাও যেতে পারতাম। যেহেতু তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন তারাই বিষয়টি দেখবেন কার কী দোষ।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop