খেলার সময় আবেগটা একটু বেশিই ছুঁয়ে যায় কপিল দেবকে

২৩-১০-২০২০, ২২:৪৩

খেলার সময় ডেস্ক

fb tw
আবেগটা একটু বেশিই ছুঁয়ে যায় কপিল দেবকে
কিংবদন্তিরাও কাঁদে! তাদেরও মর্যাদা হানি হয়। পাহাড়সমান মনোবল ধুলোয় মিশে যায় নিমিষেই। আবেগি মন কিছুতেই কিছুতেই বিশ্বাস করতে চায় না অনাকাঙ্ক্ষিত অভিযোগ। মনের অজান্তেই চোখের কোণ বেয়ে নেমে আসে অশ্রুধারা। যেটা চাইলেও লুকোনো যায় না। পারেননি কপিল দেবও। যখন শুনেছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি ম্যাচ পাতিয়েছিলেন তিনি। 
কপিলকে এমন অপবাদ শুনতে হয়েছিলো আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হবারও চার বছর পর। এক সময়কার সতীর্থ মনোজ প্রভাকর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে কোন এক ম্যাচে তাকে খারাপ খেলতে বলেছিলেন কপিল দেব। বিনিময়ে তিনি পাবেন ২৫ লাখ রুপি। এমন অভিযোগ শুনে একটি টিভি সাক্ষাৎকারে কান্নায় ভেঙে পড়েন কপিল দেব। বলেন, কারো কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার আগে আমি প্রয়োজনে আত্মহত্যা করবো। কার টাকা দরকার, আমার সব টাকা নিয়ে যান। তবু আমাকে এমন অভিযোগ দিবেন না।
অভিযোগটি নিয়ে তদন্ত হয়। তবে কপিলের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। উল্টো বজিকরদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন মনোজ প্রভাকর নিজেই।
এরপর অবশ্য সবকিছুই স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে চায়ের আড্ডায় প্রসঙ্গটা ফিরে আসে কদাচিৎ। যেমন কপিল দেবের হাত ধরে ভারতের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের গল্পটা একটা প্রজন্ম আলোচনা করে। নতুনরাও মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শোনে তার কীর্তির কথা। একেবারেই অখ্যাত একটা দলকে কিভাবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিলো মাত্র ২৪ বছরের এক যুবক। 
১৯৮৩’র বিশ্বকাপে ভারত দল নিয়ে খুব বেশি আশা কারোরই ছিল না। তবে কপিল দেব নামের নতুন অধিনায়কের অধীনে ভারতের শুরুটা হয় চমক জাগানিয়া। প্রথম ম্যাচেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দেয় ভারত। পরের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও জয় তুলে নেয়। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরে যায় ১৬২ রানের বিশাল ব্যবধানে। সেই ম্যাচে কপিল দেব করেন তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং (৫/৪৩)।
চতুর্থ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে যাওয়ার পর ভারতের পরের পর্বে যাওয়ার সমীকরণ কঠিন হয়ে যায়। শেষ দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে আর অস্ট্রেলিয়াকে হারাতেই হবে। এরকম কঠিন সমীকরণ হাতে নিয়ে টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন কপিল। তবে জিম্বাবুইয়ান বোলারদের দারুন বোলিংয়ে সিদ্ধান্তটা বুমেরাং হতে থাকে। ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে আউট হয়ে যান কপিলের সবচেয়ে বড় ভরসা সুনীল গাভাস্কার। দলীয় ৬ রানে অপর ওপেনার শ্রীকান্তও আউট হন শূন্য রানে। ৯ রানে আরো দুই ব্যাটসম্যান ফিরে গেলে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ভারত। সেই সময় ব্যাট হাতে মাঠে নামেন কপিল দেব।  
দলীয় ১৭ রানে পঞ্চম উইকেটের পতনের পর বিপর্যয় সামাল দেবার জন্য তখন প্রয়োজন ছিল একজন ধৈর্যশীল ব্যাটসম্যান। তবে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই কপিল দেব ছিলেন আক্রমণাত্মক। তখন পর্যন্ত ১০৫.১৭ স্ট্রাইক রেটের অধিকারী এবং মাত্র ৩টি হাফ সেঞ্চুরির মালিক কপিল সেই পরিস্থিতি সামাল দেবার জন্য উপযুক্ত ছিলেন কি না সেটা তখন প্রশ্নের মুখোমুখি।
তবে চ্যাম্পিয়নরা যে পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী নিজেকে পাল্টে ফেলতে পারে! সেই কাজটাই করেন তরুণ কপিল দেব। রজার বিনি আর মদন লালকে নিয়ে গড়লেন ৬০ আর ৬২ রানের দুটো জুটি। ১৪০ রানে ৮ম ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন মদন লাল আউট হন, তখন ভারতের ১৫০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার শঙ্কা। কিন্তু এখানেই পার্থক্য গড়ে দেন কপিল দেব। উইকেট কিপার কিরমানীকে নিয়ে গড়েন ১২৬ রানের জুটি।
কপিল দেবের ১৩৮ বলে ১৭৫ রানের ঝকঝকে ইনিংসে, ৬০ ওভার শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ২৬৬। ভারতের প্রথম ব্যটসম্যন হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি করেন কপিল দেব! উইজডেনের গত শতাব্দীর সেরা ১০০টি ইনিংসে যেটি জায়গা করে নেয় ৪ নম্বরে। অধিনায়কের সেঞ্চুরিতে পুরো দল উজ্জীবিত হয়ে উঠে। এই ম্যাচ জয়ের পর অস্ট্রেলিয়াকেও হারিয়ে সেমিতে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় ভারত। 
সেই বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ ছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাত্র ১৮৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন নিশ্চিত জয়ের দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই উল্টোদিক থেকে অনেকখানি দৌড়ে অসাধারণ দক্ষতায় ভিভ রিচার্ডসের ক্যাচটি তালুবন্দি করে ভারতীয় দলের ভেতরে উদ্দীপনার সঞ্চার করলেন কপিল দেব। বিশ্বকাপ অসে ভারতে।
ব্যাটসম্যান কপিল দেবের কীর্তি নিয়ে আলোচনা করা হলেও তার মূল শক্তির জায়গাটা ছিল বোলিংয়ে। হারিয়ানার এক মধ্যবিত্ত ঘরে ১৯৫৯ সালের ৬ জানুয়ারী জন্মগ্রহণ করেন কপিল দেব। স্কুলে থাকাকালীন সময় থেকেই কপিল খেলার প্রতি আগ্রহী হন এবং হারিয়ানার ঘরোয়া ক্রিকেট দলে সুযোগ পান। প্রথম ম্যাচেই পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৬ উইকেট নিয়ে চমক সৃষ্টি করেন এবং সেই মৌসুমে ৩০ ম্যাচে ১২১টি উইকেট দখল করেন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলার সুবাদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার ডাক পড়ে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৯৭৯-৮০ সালে ৬ ম্যাচের সিরিজে ম্যান অব দ্য সিরিজ নির্বাচিত হন, যেখানে জয় পাওয়া দুটি ম্যাচেই কপিলের অসামান্য অবদান ছিল। বোম্বের ম্যাচটিতে ব্যাট হাতে খেলেন ৬৯ রানের ইনিংস, আর মাদ্রাজের ম্যাচে ১০ উইকেট পাওয়ার সাথে সাথে খেলেন ৯৮ বলে ৮৪ রানের ইনিংস। ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কারটাও জিতে নেন তিনি। ধীরে ধীরে ক্রিকেট বিশ্বের একজন নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডারে পরিণত হতে থাকেন কপিল দেব। তবে ব্যাটিং কিংবা বোলিং ছাড়াও কপিলের যে বিষয়টি ভারতকে বিশ্বক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করেছিল সেটা হচ্ছে তার অধিনায়কত্ব।
যুগে যুগে ভারত উঁচু মানের স্পিনার এবং ব্যাটসম্যান উপহার দিলেও ফাস্ট বোলিংয়ে একেবারেই অনুর্বর ছিল। কপিল দেবই প্রথম ভারতীয়দের মনে বিশ্বাস জন্মান যে, ভারতেও ফাস্ট বোলার হওয়া সম্ভব। ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটা সময়ই ভারতের পেস আক্রমণকে নেতৃত্ব দিয়ে গিয়েছেন। উপমহাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ছুঁয়েছেন ৪০০ উইকেটের মাইলফলক। সবচেয়ে কমবয়সী টেস্ট বোলার হিসেবে নিয়েছেন ১০০ (২১ বছর ২৫ দিন), ২০০ (২৪ বছর) ও ৩০০ (২৭ বছর ২ দিন) উইকেট।
২০০২ সালে উইজডেন উদ্যোগ নেয় শতাব্দীর সেরা ভারতীয় ক্রিকেটার নির্বাচন করার। তালিকায় ছিলেন ১৬ জন।  সুনীল গাভাস্কার, আজহারউদ্দিন, অনিল কুম্বলে, বিশন সিং বেদি, বিজয় হাজারে এবং শচীন টেন্ডুলকার সেখানে বড় নাম। তালিকা সংক্ষিপ্ত হয়ে আসে তিন জনে। সেটা জটিলতা তৈরি করে আরো বড়। শচীন, গাভাস্কার এবং কপিল থেকে শতাব্দী সেরা বের করে আনতে চরম দ্বিধায় পড়ে যান নির্বাচকরা। তবে শেষ পর্যন্ত সম্মানটি যায় কপিলের ঘরেই।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop