বাংলার সময় জমিজমার বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট

১৩-১০-২০২০, ১৫:০৪

মফিজুর রহমান রিপন

fb tw
জমিজমার বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট
12
শরীয়তপুরে জমিজমার বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘরিসার ইউনিয়নের জলিল বেপারি নামে এক ব্যক্তির বসতঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে ইউপি মেম্বার ও তার ছেলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা।  
 
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানায়, ঘরিসার ইউনিয়নেরর নন্দনসার গ্রামের বেপারি বাড়িতে জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।  প্রভাবশালী ইউপি মেম্বার খোকন বেপারিসহ বাড়ির একপক্ষ জলিল বেপারিসহ অন্য পক্ষের জমিজমা দখল করে রেখেছে। জমি উদ্ধারে জলিল বেপারির স্ত্রী রোকেয়া বেগম আদালতে দেওয়ানি মামলা করেন। মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য ইউপি মেম্বার বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। অবশেষে মামলা নিষ্পত্তি না হতেই বাড়ির অংশীদারদের মাধ্যে ভাগবাঁটোয়ারা না করেই নিজের পছন্দমতো জায়গায় বিল্ডিং ঘর নির্মাণকাজ শুরু করেন। এতে মামলার বাদী রোকেয়া বেগম ও তার পুত্র ইতালি প্রবাসী নাহিদ বেপারি রোববার (১১ অক্টোবর) বাধা দিলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। পরে সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে অভিযুক্ত ইউপি মেম্বার এর দুই পুত্রের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে এসে জলিল বেপারির পুত্র নাহিদ বেপারিকে খুন করার উদ্দেশ্যে জলিল বেপারির বসতঘরে হামলা চালায়। এ সময় নাহিদ বেপারি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে নাহিদ বেপারির ৭০ বছরের বৃদ্ধা মা রোকেয়া বেগম ও ৮০ বছরের অসুস্থ বৃদ্ধ পিতা জলিল বেপারিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে এবং বসতঘরের ভেতরে ঢুকে ২টি আলমারি ও শোকেস ভেঙে স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এবং নাহিদ বেপারির সঙ্গে যারা সঙ্গ দেয় তাদেরও মারধর করার জন্য খুঁজে ইমনের নেতৃত্বে আসা সন্ত্রাসীরা। 
পরে এ ঘটনায় নড়িয়া থানায় সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে একটি মামলা দায়ের করেছে ক্ষতিগ্রস্ত রোকেয়া বেগম। তারা ইউপি মেম্বার খোকন বেপারি ও তার দুই পুত্র ইমন বেপারি ও ইয়ন বেপারিসহ জড়িত সব সন্ত্রাসীদের বিচার দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবে প্রতিবেশীরা ভয়ে আতংকে সামনে আসেনি। ঘর থেকে নগদ দেড় লাখ টাকা ও  ৫ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে বলে জানায় নাহিদ বেপারির মা ক্ষতিগ্রস্ত রোকেয়া বেগম।  
এর প্রতিবাদে এগিয়ে আসা ফজলু বেপরিকেও জীবননাশের হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা। ফজলুল হক বেপারি বলেন, ইউপি মেম্বার খোকন বেপারি আমার আপন চাচাতো ভাই। আমরা সপরিবারে ইতালি প্রবাসী ছিলাম। এই সুযোগে খোকন বেপারি জায়গা জমিন এর জাল কাগজপত্র তৈরি করে দখলের পাঁয়তারা করছে। বাড়ির জায়গা-জমি নিয়ে কয়েক বছর ধরেই দ্বন্দ্ব চলছে। আমাদেরর বিল্ডিংয়ের সামনে আমাদের জায়গা দখল করে আরেক চাচাতো ভাই নান্নু বেপারি ঘর তৈরি করার চেষ্টা করেছিল এই ইউপি মেম্বার খোকন বেপারির মদদে। আমার বড় বোন রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে দেওয়ানি মামলা করলে সেই ঘর নির্মাণ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে বাড়ির জায়গা-জমি নিয়ে আদালতে মামলা থাকা সত্ত্বেও খোকন তার পছন্দমতো জায়গায় বিল্ডিং ঘর নির্মাণ কাজ করছে। বোন ও ভাগিনা নাহিদ এতে বাধা দেওয়ার মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে দিনে দুপুরে ডাকাতি করেছে।
স্থানীয় ওমর ফারুক ঢালী বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ইতালি প্রবাসী নাহিদ বেপারির সামাজিক কর্মকাণ্ড আমার অনেক ভালো লাগে। তারা তিন ভাই ইতালি প্রবাসী। তারা এলাকার গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে থাকেন ব্যক্তিগতভাবে। এ বছরও করোনায় ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েক হাজার মানুষের মাঝে তারা ত্রাণ দিয়েছেন। আমাকেও খোকন মেম্বারের ছেলে ইমন জমত শিবির বিএনপির সন্ত্রাসীদের নিয়ে আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। সোমবার দুপুরে নাহিদ বেপারিদের বাড়িতে লুটপাটের পর ১৫টি মোটরসাইকেলে করে প্রায় ৪০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে ইমন বেপারি আমাকে মারার জন্য আমাদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খুঁজে। আমি এই সন্ত্রাসীদের বিচার চাই।
প্রতিবেশী সবুজ বেপারি বলেন, হঠাৎ করেই ইমন বেপারি তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সোমবার দুপুরে নাহিদ বেপারিদের বসতঘরের মধ্যে গেট ভেঙে ঢুকে পরে। ইমন কিন্তু এই বাড়ির ছেলে। সে খোকন মেম্বারের ছেলে। অনেক আগে থেকেই তারা সংঘবদ্ধ। আমরা গ্রামের ভালো যুবকরা বর্তমানে নাহিদ বেপারির সামাজিক ভালো কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট হয়ে তার সঙ্গে চলি। এ জন্য আমাদের বাড়িতেও হামলা চালায়। বাড়ির সামনের টিনের বেড়া পিটিয়ে আতংক সৃষ্টি করে। আমি ভয়ে ওদের কাছে আসিনি। দূর থেকে দেখেছি। ওরা আমাদের বিল্ডিং এ ঢুকার চেষ্টা করেছিল। আমার আম্মা কেচিগেটে তালা দেওয়ায় ঘরে ঢুকতে পারেনি। কিন্তু নাহিদ বেপারিদের ঘরে ঢুকে দিনদুপুরে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
তবে অভিযুক্ত ইউপি মেম্বার খোকন বেপারি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাকে বিল্ডিং করতে দেবে না। বলে এখানে ওদের জমি আছে। আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে নাহিদ। তাই আমার ছেলে ইমন ওদের জিজ্ঞাসা করতে গিয়েছিল। আমার ছেলে তো আমার বাড়িতে আসবেই। তার বন্ধু-বান্ধবরাও আসবে। এখন মামলা করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ করছে। 
এই হামলা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা পুলিশ স্বীকার করেছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কথা বলতে না চাইলেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন নড়িয়া থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop