বাংলার সময় ‘গুম হওয়া প্রেমিক’ ৫ বছর পর হাজির আদালতে

০১-১০-২০২০, ২৩:০৩

শওকত আলী সৈকত

fb tw
‘গুম হওয়া প্রেমিক’ ৫ বছর পর হাজির আদালতে
প্রেমের বিরোধকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় মিথ্যা অপহরণ ও গুমের মামলায় প্রেমিকাসহ তার পরিবারের ছয়জনকে জেল খাটানোর মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকের পরিবারের বিরুদ্ধে। তবে দীর্ঘ পাঁচ বছর আত্মগোপনে থাকা প্রেমিক আদালতে স্বশরীরে হাজির হলে মিথ্যা মামলার বিষয়টি প্রকাশ পায়।
একই সাথে এই মামলায় থানা পুলিশের বিরুদ্ধে গুম খুনের দায় স্বীকার করিয়ে জোরপূর্বক এক নারীর মিথ্যা জবানবন্দি আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। তবে মামলাটির তদন্ত সংস্থা সিআইডি পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, কারো গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মামলার নথিপত্রে ও অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৪ সালের শুরু দিকে চাঁদপুর জেলার মতলব থানার শাখারীপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে নবম শ্রেণীর ছাত্র মামুনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে একই এলাকার রকমত আলীর মেয়ে তাসলিমা খাতুনের সাথে। তবে দুই পরিবারের অভিভাবক এই সম্পর্ক মেনে না নেয়ায় তাসলিমাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম লামাপাড়া এলাকায় তার খালা আমেনা বেগমের বাড়িতে।
খালার বাড়িতে থেকে তাসলিমা সেখানকার একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি নিলেও মামুনের সাথে মোবাইল ফোনে তার যোগাযোগ চলতো। সেবছর (২০১৪) ১০ মে সকালে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির ফোন পাওয়ার পর মামুন নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে যায়। এরপর থেকে মামুন নিখোঁজ হয় এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকে। এমন অভিযোগ এনে ঘটনার দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৯ মে মামুনের বাবা আবুল কালাম ছেলেকে অপহরণ ও হত্যার উদ্দেশে গুমের অভিযোগে ফতুল্লা থানায় ৩৬৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় আসামি করা হয় মামুনের প্রেমিকা তাসলিমা, তার বাবা রকমত আলী, বড় ভাই রফিক, মামা ছাত্তার মোল্লা এবং দুই খালাতো ভাই সাগর ও সোহেলকে। পরে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়। মামলায় এই ছয় আসামি বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে জামিনে মুক্ত হন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন ফতুল্লা থানার উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান মামুনকে হত্যা ও গুমের দোষ স্বীকার করার জন্য ২০১৬ সালের ১০ মে এবং ১৪ মে আসামি ছাত্তার মোল্লা, সাগর ও সোহেলকে পর্যায়ক্রমে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদানের জন্য প্রেরণ করে। এসময় তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ দাবি করে, আসামি সোহেল অন্যান্য আসামিদের সাথে মিলে মামুনকে হত্যা করে শীতলক্ষ্যায় লাশ ভাসিয়ে দিয়েছে বলে ১৬১ ধারায় স্বীকার করেছে।
পুলিশ এই স্বীকারোক্তি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করার আবেদন করে তিন আসামিকে আদালতে পাঠালেও তাদের কেউই পুলিশের নির্দেশনা মতে মিথ্যা জবানবন্দি দেননি। পরে এই মামলায় পুলিশ তাসলিমার মামী মাকসুদার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হিসেবে ১৬৪ ধারায় একই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করে একটি প্রতিবেদন দিয়ে তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
পরে মামলাটি আবারো হস্তান্তর করা হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডতে। সেখানে তিন তদন্ত কর্মকর্তার হাত ঘুরে উপ-পরিদর্শক জিয়াউদ্দিন উজ্জ্বল তদন্তভার পান। তিনি ২০১৯ সালে ১৮ ডিসেম্বর ৩৬৫/৩৪ ধারা মোতাবেক আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। সিআইডির এই চার্জশিটে আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও গুমের অভিযোগ প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও হত্যার বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়নি। মামুনকে গুম করা হয়েছে বলেই উল্লেখ করা হয়। 
এদিকে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাবুজ্জামানের আদালতে মামলার বিচার প্রক্রিয়ার ধার্য তারিখে আসামিরা আদালতে হাজির হন। একই সময়ে আইনজীবীর মাধ্যমে কাকতালীয়ভাবে দীর্ঘ চার বছর পর মাড়ুনও হাজির হয় আদালতে। এসময় দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়। আসামিপক্ষের লোকজন মামুন ও তার পরিবারের লোকজনকে ধাওয়া দেয়। তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয় আদালত প্রাঙ্গণে।
আসামিদের দাবি, তাদেরকে মিথ্যা অপহরণ মামলায় ফাঁসিয়ে চার বছর যাবত হয়রানি করা হচ্ছে। 
মামুনের প্রেমিকা ও মামলার ১ম আসামি তাসলিমার অভিযোগ, মামুনের সাথে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। সে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মামলা দিয়ে ও জেলহাজতে পাঠিয়ে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। 
তাসলিমা বলেন, মামুনকে কেউ অপহরণ করেনি। তারপরেও তার পরিবার মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের পরিবারের সবাইকে হয়রানি করে আসছে। আমি এর ন্যায়বিচার চাই।
তবে মামুনের দাবি, তাকে কেউ অপহরণ করেনি। বাবা মায়ের ওপর অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়ে গাজীপুরে বসবাস করছিলেন তিনি।
মামুন বলেন, আমি কোনো কাজকর্ম না করায় বাড়ি থেকে আমাকে নানাভাবে অপমান অপদস্থ করা হয়েছিল। যার কারণে আমি বাবা মায়ের ওপর অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে যাই। তবে তার মায়ের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখার কথাও মামুন স্বীকার করেন। 
এ ঘটনায় সিআইডির নারায়ণগঞ্জ শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ ফতুল্লা থানা পুলিশকেই দায়ী করেন। তিনি দাবি করেন, পুলিশের পাঠানো জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করেই সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিট দিয়েছে। তবে সিআইডির তদন্তে কারো গাফিলতি থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতসহ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।
সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, পরিবারের যোগসাজশেই পুলিশের কাছে তথ্য গোপন করে মামুনকে আত্মগোপনে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop