বাংলার সময় চেয়ারম্যানের অত্যাচারে বাড়িছাড়া ৬ পরিবার, উঠানে চরে গরু!

০১-১০-২০২০, ২২:৩৮

সোহাগ আলী

fb tw
চেয়ারম্যানের অত্যাচারে বাড়িছাড়া ৬ পরিবার, উঠানে চরে গরু!
জঙ্গলে ছেয়ে যাওয়া উঠানে গরু চরে! বসতঘরটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে গেছে। পোকা-মাকড়ের বাস সেখানে। গোটা বাড়িতে সুনসান নিরবতা। অথচ এই বাড়িগুলোতেই শিশুদের কোলাহল, সাজানো সংসার ছিল প্রত্যেকটি পরিবারের।
ভাই হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করায় প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান ও তার পেটুয়া বাহিনীর হামলা, অত্যাচারে গত ৬ বছর ধরে বাড়ি ফিরতে পারেন না নাসির উদ্দিন। আর এই মামলার সাক্ষী হওয়ায় আরো পাঁচটি পরিবারও ঘরছাড়া ওই চেয়ারম্যানের অত্যাচারে।
ছয় বছর ধরে এমন পরিস্থিতি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া গ্রামের ৬টি পরিবারে। 
নির্যাতিত পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বগুড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের অত্যাচারে তারা বাড়িছাড়া।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, ২০১৪ সালে ২৫ নভেম্বর শৈলকুপার রত্নাট গ্রামের মাঠ থেকে বগুড়া গ্রামের জালাল উদ্দিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আগের দিন দুপুরে তাকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পরদিন নিহতের ভাই নাসির উদ্দিন ইদু বাদী হয়ে শৈলকুপা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর স্থানীয় প্রভাবশালী চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা শুরু করে বাড়ি ঘর ভাঙচুর, লুটপাট। হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ি ঘর ভাঙচুর শুরু করে। মামলা তুলে নিতে শুরু হয় হত্যার হুমকি। ভাই হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করার অপরাধে ছাড়তে হয় বাড়ি।
মামলার বাদী ইদু, সাক্ষী সায়েম শেখ, কাজী গোলাম নবী, কাজী মোহাম্মদ আলী, কাজী বিল্লাল হোসেন, তানিয়া খাতুন, সাহাবুদ্দিন অত্যাচার সইতে না পেরে বাড়ি ফেলে স্বজনদের নিয়ে পালিয়ে যান। ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও তারা বাড়ি ফিরতে পারেননি। সম্প্রতি বাড়িতে ফিরতে চাইলে দেওয়া হচ্ছে হুমকি, মামলা তুলে বাড়ি উঠতে হবে বলেছে চেয়ারম্যান। বাড়িতে জঙ্গল হয়ে গেছে, কোনো কোনো বাড়িতে এখন গরু চরানো হচ্ছে। বাড়ির বারান্দায় জন্মেছে ঘাস।
মামলার বাদী ইদু বলেন, ‘ভাই হত্যার বিচার চেয়ে আজ ৬ বছর বাড়ি ছাড়া আছি। বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করলে চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে হামলা চালায়। এমনকি আদালতে সাক্ষী দিতে গেলেও আসামিরা মারধর করতে যায়। বাড়ি যাওয়া তো দূরের কথা এখন আদালতে যাওয়ার সাহসই পাচ্ছি না। আমি বাড়ি যেতে পারি, আর না পারি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই।’
সাক্ষী কাজী মোহাম্মদ আলী বলেন, হত্যা মামলার সাক্ষী হওয়ার কারণে পরিবার পরিজন নিয়ে এত বছর বাড়ি ছাড়া। বাড়িতে ফিরতে চাইলে চেয়ারম্যান বলছে, আগে মামলা তুলতে হবে, তারপর বাড়িতে ফিরতে হবে। কয়েকদিন আগে বাড়িতে ফিরতে চাইলাম। মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত বাড়িতে উঠতে দিবে না বলে আসামিরা হুমকি দিচ্ছে।
অপর সাক্ষী কাজী বিল্লাল হোসেন বলেন, প্রায় ৩০ বিঘা জমি আর বাড়ি পড়ে আছে আমাদের। বাড়িতে যেতে পারছি না। উপরন্তু আমাদের জমিতে চেয়ারম্যান ফুটবল খেলার মাঠ বানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করে সাক্ষী সাহাবুদ্দিন বলেন, যাদের ঘর নেই বর্তমান সরকার তাদের ঘর তৈরী করে দিচ্ছে। আর আমাদের ঘর বাড়ি থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি ছাড়া। আদালতে মামলা চলমান রয়েছে, পুলিশ তদন্ত করে রিপোর্ট দিলে সে অনুযায়ী বিচার হবে। আমরা বিচার চাওয়ায় আজ বাড়ি ছাড়া। তাই পুলিশ সুপারসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বলতে চাই, আমরা বাড়ি ফিরতে চাই। ফিরতে চাই স্বাভাবিক জীবনে।
এ ব্যাপারে শৈলকুপা থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ওটা আমাদের কোনো বিষয় না। কে বাড়ি উঠবে না উঠবে, কে বাড়ি থাকবে না থাকবে সেটা তাদের ব্যাপার। এটা আমাদের দায়িত্ব না।’
বগুড়া ইউনিয়নের অভিযুক্ত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনা সত্য না, মার্ডার নিজেরাই করছে। বিষয়টি জানাজানি হলে জনরোষের ভয়ে নিজেরাই বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। আমরা কাউকে মারিনি, তাড়াইওনি।’

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop