ভ্রমণ যে দেশে ভ্রমণে যাওয়া মানে শাস্তি!

২৯-০৮-২০২০, ১৩:৪৪

ঈষিতা ব্রহ্ম

fb tw
যে দেশে ভ্রমণে যাওয়া মানে শাস্তি!
যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ইসরায়েল কিংবা জাপানের নাগরিকদের এ দেশ ভ্রমণে গেলে পোহাতে হয় অনেক ঝামেলা। আর দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের তো এ দেশ ভ্রমণই নিষেধ। আর যদি ভ্রমণে যেতেই হয়, পালন করতে হয় কঠোর সব নিয়মনীতি। বলছি এশিয়ার একনায়কতান্ত্রিক দেশ উত্তর কোরিয়ার কথা।
এই দেশে ভ্রমণে গিয়ে আগ্রহ দেখালেই মারা পড়তে পারেন আপনি। কারণ ট্যুর গাইড ছাড়া এ দেশে কোথাও ভ্রমণে যাওয়া যায় না। আপনি কি দেখবেন কোথায় যাবেন, সবই ঠিক করে দেবে সে দেশের সরকার। একা ভ্রমণের কথা এ দেশে ঘুরতে গেলে ভুলে যেতে হবে।
ডেনিম জিনস পড়ে যাওয়া কিংবা লাগেজে মেকআপ কিট বহন করা উত্তর কোরিয়া একেবারেই পছন্দ করে না। সবচেয়ে বড় বিষয়, বাইবেল লাগেজে থাকলে জনসম্মুখে মেরে ফেলাও হতে পারে। ব্যবহৃত স্মার্টফোনে যদি এমন কোন ছবি, ভিডিও বা গান থাকে যেটা তাদের সংস্কৃতি বা সরকারে বিরুদ্ধে যায়, বিমানবন্দরে প্রবেশের আগেই সেটা ফোন থেকে ডিলিট করতে হবে। টেক অফের সময় এসে পড়লেই  প্রস্তুত থাকতে হবে অদ্ভুত সব ঘটনার জন্য। কারণ এখানে প্রবেশ মাত্রই ২০২০ সাল বলে কিছু থাকবে না। এখানে সন চলছে ইউশে ওয়ান ও নাইন। একশ’ নয় সেই সংখ্যা, যত বছর ধরে কোরিয়ার সাবেক নেতা কিম ইল সাং পৃথিবীতে এসেছেন। উত্তর কোরিয়ানরা তাদের স্বৈরশাসককে এমনভাবে দেখেন, যেভাবে  খ্রিস্টানরা যিশু খ্রিস্টকে দেখে।
উত্তর কোরিয়ায় নামার পর সবসময় ঘাড়ের উপর থাকবেন দুজন গাইড। নিরাপত্তার জন্য আপনার পাসপোর্ট থাকবে ট্যুর গাইডদের কাছে। একা উপভোগ করা তো দূরের কথা, হোটেল থেকেও একা বের হওয়া যাবে না। সরকারের অনুমতি আছে, এমন শপিং মল আর দর্শনীয় স্থানই দেখতে পারবেন, কিন্তু ছবি তুলতে পারবেন না ট্যুর গাইডের অনুমতি ছাড়া। একটা ছবি তুলতেও যদি দেখা যায়, তাহলে ট্যুর গাইডের সাথে একজন স্পাইও দিয়ে দেয়া হবে। 
এবার দেখা যাক, খাবারের সন্ধানে গেলে কোন ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে আপনাকে। পর্যটকদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে খাবার থাকে সেখানে। তিনবার খাবার খাওয়াই সেখানে উদারতা বলে বিবেচনা করা হয়। ফুটপাতেও খাবারের তেমন ব্যবস্থা নেই। এখানে কোণায় কোণায় ম্যাকডোনাল্ডস নেই। অসুবিধা হলেও কিছু করার নেই। কনডম আর প্যাডও নেই এই দেশে। এখানকার মানুষ এভাবেই অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এই দেশের নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলা যাবে না। কথা বললেই সরকার ভাবতে পারে আপনি গুপ্তচর। যারা পর্যটকদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলে, তারা অভিনেতা অভিনেত্রী, যাদের অর্থ দেয়া হয় পর্যটকদের বিনোদন দেয়ার জন্য। 
এই দেশে গেলে আপনাকে অভিনয়ও করতে হবে। স্বৈরশাসকদের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে হবে। কিন্তু ব্যঙ্গ করা যাবে না, তাহলে কারাবাসও হয়ে যেতে পারে। সারাদিনের অবসাদময় ঘোরাঘুরি শেষে হোটেলে ফিরেও শান্তি নেই। অনেকগুলো চোখ তখনও আপনার দিকে নজর রাখছে। টেলিফোন, টেলিভিশন, ফ্যাক্স মেশিন, সবকিছুই সেখানে অকেজো।
অথচ এই দেশের আড়াই কোটি মানুষ সবসময় এমন অনেক কঠিন নিয়মনীতির মধ্যেই থাকেন। তাই সেখানে গিয়ে দেখার চেয়ে ঘরে বসে উত্তর কোরিয়া দেখাই ভালো। কারণ উত্তর কোরিয়া পুরোটা একটা কংক্রিট মিথ্যা, যা আমাদের সমর্থন করা উচিত না।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop