ভ্রমণ পাহাড়ের গল্প

২৯-০৮-২০২০, ১৩:২৪

ভ্রমণ সময় ডেস্ক

fb tw
পাহাড়ের গল্প
শৈশবে পাহাড়ের চেয়ে নদী আর সমুদ্রকেই বেশি ভালোবাসতাম আমি। আলো আর জলের সমবায়ে, শতাব্দীর ক্রুর করুণ অন্ধকার ভেদ করে এক নির্মল অলোক পৃথিবীর সন্ধানই ছিল সমগ্র চিত্তে। সময়ের গহন স্রোতে ভেসে গিয়ে মন একদিন চেয়েছে মেঘের স্পর্শ পেতে। কিন্তু মেঘ? সেতো ভীষণ অভিমানী। সমুদ্র যে তাকে পারে না মেলাতে। তবে কোথায় পাবো তার দেখা? সেই যেখানে শূন্যে অনুধাবনীয় পাহাড় জেগে উঠেছে- ভোরের স্ফটিকের মতো স্বচ্ছতায়, সৃষ্টি যেখানে উষ্ণ, স্থির; সেখানেই উচ্ছ্বল মেঘের প্রার্থনা- 'চঞ্চলেরে হৃদয়তলে লও বরি।' আমার মনও ততোদিনে, সেই সুদূরের টানে ছুটে গিয়েছে পাহাড়ের মেধাবী নীলিমার পানে। কিন্তু সে পথ যে ভীষণ বন্ধুর, পাহাড়ের ভাষা যে ভীষণ দুর্বোধ্য। কে পারে তার কাছে পৌঁছাতে! যারা গেয়েছিল অমরতার গান, ছুঁতে চেয়েছিল আকাশের ওপারের আকাশকে, তারা ঠিক খুঁজে নেয় কালিদাসের মেঘদূতকে, বোদলেয়ারের আশ্চর্য মেঘদলকে।
একবার বান্দরবানের লামায় অনাথ শিশুদের একটি স্কুলে যেতে পাহাড়ে চড়তে হয়েছিল। তখন বুঝেছি, উপরে ওঠার সময় যত কষ্টই হোক না কেন, চূড়ায় পৌঁছানোর পর তার প্রাপ্তি সুগভীর, প্রাচুর্যময়। পাহাড়ের গভীর অন্তরঙ্গে, প্রকৃতির গভীর মায়ায় শরীরের করুণ ক্লান্ত ভাষা আনন্দের অনুরণনে ভেসে গিয়েছে অবিরত। সেই থেকে শুরু আমার পাহাড়ে হাঁটার গল্প। আমার প্রিয় দার্শনিক ফ্রেডরিখ নিৎশে বলেছিলেন- যে মানুষ পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করে, জীবনের বাস্তব অথবা কাল্পনিক সমস্ত দুঃখ-কষ্টই তার কাছে তুচ্ছ মনে হয়। এমনটা অবশ্য গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও বলেছিলেন- "চারিদিকে দেখো চাহি হৃদয় প্রসারি, ক্ষুদ্র দুঃখ সব তুচ্ছ মানি"। পৃথিবীর উচ্চতম চূড়ায় দাঁড়িয়ে, সুবিস্তৃত মহাশূন্যের মাঝে হৃদয়কে যে মেলে দেয়া যায়, বলা যায়- মহাবিশ্বের তুলনায় কত ক্ষুদ্র মানব আমি, তবুও তুচ্ছ নই। আমার চেতনার রঙে রাঙিয়েই দেখবো তোমায়; আমার দেখার দৃষ্টিতেই তুমি সুবিশাল, অনন্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্ব সমাপন করেই বেরিয়ে পড়লাম সেই অনন্ত, অসীমের মাঝে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়ের পানে। সেবার গিয়েছিলাম রাঙামাটির পাহাড়ে। তিনদিনে বিলাইছড়ি, উলুছড়ি ট্রেইলে হেঁটে দেখেছিলাম পাহাড়ি ঝর্ণার গোপন রহস্যময় সৌন্দর্যকে। সবুজ পাহাড়ের লালচে ললাট ভেদ করে, শিথিল শিলার আস্তরণের ফাঁকে চল-চঞ্চল ঝর্ণা ধেয়ে চলেছে দিগ্বিদিক, বিরামহীন। অবিরাম বর্ষণকান্ত অপরাহ্ন-মেঘে, সমস্ত বাঁধন ভেঙে কী তার চলার ছন্দ! মুপ্পোছড়া, ন-কাটা, গাছ-কাটা, সাদরা, ধূপপানি- আরো কত নাম না জানা ঝর্ণা গিরিপথ। নির্ঝরের সেই বিপ্লবী প্লাবণ স্পন্দন জাগায় শিখর হতে ভূধরে, হৃদয়কে সঞ্চারিত করে মহাসমুদ্রের মিলনের গানে।
তার কিছুদিন পরেই ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে হিমালয়ে যাওয়ার সুযোগ হলো আমার। কাঁটাতারের সীমানা পেরিয়ে গিয়েছি যখন, কার্তিকের উজ্জ্বল, মেঘমুক্ত নীলচে আকাশে, সৌন্দর্যে আর ঔদ্ধত্যে নিজের অস্তিত্ত্ব জানান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল হিমালয়-কন্যা কাঞ্চনজঙ্ঘা। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যেতে পৃথিবীর তৃতীয় সর্বোচ্চ এই শৃঙ্গের ছিল এক স্পর্ধিত মাতাল আহ্বান। আর সে সঙ্গে পাহাড়ি পথের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য। ব্রিটিশদের তৈরি বাঁধানো রাস্তা, কিছুদূর পরপরই ঝিরি-ঝর্ণার কলতান আর পাহাড়ি বাড়িগুলোর সামনের ছোট্ট বাগান, নাম না জানা নানা রঙের ফুল- লাল, হলুদ, বেগুনি, সবকিছু যেন এক স্বপ্নময় জগৎ তৈরি করেছিল। কার্শিয়াং, ঘুম স্টেশন পেরিয়ে যখন পৌঁছাই দার্জিলিঙে, ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমে গিয়েছে। দিগন্ত বিস্তৃত পাহাড়ের বুকে জ্বলে উঠেছে সহস্র তারকার ফুল। আর মর্ত্যলোকে মানবের প্রদীপশিখা- এক একটি আলোকবর্তিকার নিচে কত হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার গল্প যেন জড়িয়ে আছে। 
দুইদিন দার্জিলিঙে কাটিয়ে গিয়েছিলাম সান্দাকফু-ফালুটে, কাঞ্চনজঙ্ঘাকে আরো কাছ থেকে দেখবো বলে। মানেভঞ্জন হয়ে চিত্রে, মেঘমা, লামেধুরা, টুমলিং, গাইরিবাস, কালিপোখারি, চাহুরিচক, সিংগালিলা সাফারি ফরেস্টের মধ্য দিয়ে সারি সারি গাছ, পাহাড়ি ঝিরিপথ আর পুরো রাস্তা জুড়ে রডোডেন্ড্রন। প্রায় ১২০০০ ফুট উচ্চতার সান্দাকফুতে তখন হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা। ওখান থেকেই দেখলাম, পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়া এভারেস্ট আর পাশে তিন বোনের খুনসুটি। লোৎসে, মাকালু আর স্লিপিং বুদ্ধা (কুম্ভকর্ণ, পান্ডিম ও কাঞ্চনজঙ্ঘাকে একসঙ্গে ঘুমন্ত বুদ্ধের মতো মনে হয়), অর্থাৎ এখানের চারটি পর্বতই পৃথিবীর আট হাজার মিটার উচ্চতার পর্বতের একেকটি। সান্দাকফুর তুলনায় ফালুটের আবহাওয়া তুলনামূলক পরিস্কার, কাঞ্চনজঙ্ঘাকে যেন হাত বাড়ালেই স্পর্শ করা যায়। আর অন্যপাশে মেঘের চাদর। এ মহাসৃষ্টি যেন অপার আনন্দের যজ্ঞভূমি। মহাপ্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে মনকে মিলিয়ে দেয়া যায় সেই মহাশক্তির কাছে; মহাজগতের মহাবিস্ময়ের নিরবচ্ছিন্ন সত্তারূপে আবিষ্কার করা যায় নিজেকে। ফেরার পথটুকু গাড়িতে না এসে ট্রেকিং করে এসেছিলাম। সেবার বুঝলাম, পায়ে না হেঁটে এলে এ পথের প্রকৃত সৌন্দর্য অনুধাবন করা অসম্ভব। মেঘের মধ্য দিয়ে পাহাড়ি সরু পথ বেয়ে চলেছিলাম। আশ্চর্য রূপ সে প্রকৃতির, কী তার সীমাহীন নিমজ্জন আর হৃদয়ের গভীরতম সত্যের উপলব্ধি!
আরো কয়েকমাস পরে জীবনের সেই দর্শনের মুখোমুখি হতে গিয়েছিলাম আবার সেই সান্দাকফুতে, কাঞ্চনজঙ্ঘার পথেই। সেবার ছিল তুষারে আবৃত পথ, এ যেন নতুন সৌন্দর্যের হাতছানি; যা ছিল সম্পূর্ণ অচেনা আমার, যার রহস্যলোকের সন্ধান পাইনি তখনো। 
ততোদিনে পুরোপুরি প্রেমে পড়ে গিয়েছি পাহাড়ের। এর মাঝে দেশের পাহাড়-ঝর্ণার আকর্ষণে গিয়েছি বারবার। বান্দরবানের তিনাপ সাইতার, দামতুয়া, আলি কদমের পাহাড়, সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন পাহাড়ি ঝর্ণার ট্রেইল, মারায়ন তং পাহাড়, কেউক্রাডং পাহাড়েও যাওয়া হয়েছিল। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে গিয়েছিলাম কিন্নর কৈলাশ পর্বতের কাছে। হিমালয়ের কোল বেয়ে বেড়ে ওঠা হিমাচল প্রদেশে শিমলা হয়ে একাই গিয়েছিলাম কল্পা, সাংলা, রকছাম, ছিটকুলের পথে, যাকে বলা হয়- 'The last village of India'। সেখানেও দেখেছিলাম পাহাড়ের অনিন্দ্য রূপ। ধ্যানমগ্ন শিবের মৌনতার সঞ্চরণে মন যেখানে হয়ে ওঠে নির্মল, শান্ত, উজ্জ্বল। 
এর মাঝেই পরিচয় হয়েছিল ফজলুর রহমান শামীম ভাইয়ার সঙ্গে। পাহাড়প্রেমী এই মানুষটার সঙ্গে করেছিলাম অনেক ট্রেক আর অভিযানের পরিকল্পনা। নিজেরাই একটি গ্রুপ খুললাম 'Altitude Hunter' নামে, উচ্চতার নেশায় যাদের আদিগন্ত প্রাণ। সে গ্রুপের মাধ্যমে পাহাড়ে পথ চলার পথটি আরও সুগম হলো আমাদের। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে Altitude hunter থেকে প্রথমবারের মতো আমরা গিয়েছিলাম সেই হিমাচলেরই আরেক প্রান্ত, মানালির পথে। সেবার পুরোপুরি পাহাড়ি পথে অনবরত হাঁটা। হিমালয় পর্বতমালার মাঝখানে কেবল সবুজের মায়াবী হাতছানি। ১৪,১০০ ফুট উচ্চতার হাম্পতা পাসের লক্ষে আমাদের প্রথম দিনের ট্রেকিং শুরু হয় জোবরা থেকে। মানালি থেকে জিপে যখন জোবরা যাচ্ছিলাম, বাইরে তাকিয়ে দেখলাম, দেবদারু গাছের ঝালরগুলো কাঁপছে, আর তার পেছনে চঞ্চল মেঘের উপর পাহাড়ের ওপার থেকে সূর্য তার তুলির লম্বা লম্বা সোনালি টান লাগিয়েছে। আগুন-জ্বলা বার্ন্টসিনার আভা নির্বাক হয়ে দেখতে লাগলাম । সেখান থেকে ট্রেক করে পৌঁছাই চিকা বলে এক পাহাড় ঘেরা উপত্যকায়। সেখান থেকেই হিমালয়ে প্রথম তাঁবুতে ক্যাম্পিং করে থাকার অভিজ্ঞতা। এরপর বালুকাঘেরা, পাস অতিক্রম করে শিয়াগুরু, তারপর ছাত্রু। শেষদিন আমরা যাই ১৪,২০০ ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের মাঝে অনিন্দ্য সুন্দর চন্দ্রাতাল লেকে।
২০১৮ সালের জুন মাসে আমরা যাই ভারতের উত্তরাখণ্ডের রূপকুণ্ড ট্রেকে। ১৬,৫০০ ফুট উচ্চতায় এবার কোন চূড়া স্পর্শের সৌভাগ্য হলো। লোহজাং থেকে যাত্রা শুরু করে দিদনা গ্রাম, আলি বুগিয়াল, বেদনি বুগিয়াল, পাতার নাচুনি, ভাগ্যবাসা হয়ে কয়েকটি দিন হিমালয়ের মেঘ আর বৃষ্টির পথে হেঁটে পাহাড়ের এক গভীর মায়ায় আচ্ছন্ন হয়েছিলাম আমরা। এ বন্ধন যেন জন্ম-জন্মান্তরের, এ নেশা যেন বহু পুরাতন কোটি মানব-হৃদয়ের।
এরপর সেই বছরই সেপ্টেম্বর মাসে গিয়েছিলাম ভারতের লাদাখে স্টক কাংরি পর্বতে। ৬,১৫৩ মিটার উচ্চতার এই পর্বতাভিযানে একাই অংশ নিয়েছিলাম। পথ ছিল- স্টক ভিলেজ থেকে চাংমা, মানকারমো, বেসক্যাম্প এরপর সামিট পুশ। নানা প্রতিকূলতা আর প্রতিবন্ধকতার মাঝেও পর্বতের চূড়ার সেই স্মৃতি মনকে নিয়ে গিয়েছে আরো সুদূরে, বহুদূরের আরো উচ্চতার কাছে। 
তার পরের মাসেই অক্টোবরে আবার ভারতের একটি দলের সঙ্গে ইন্দো-বাংলা জয়েন্ট ভেঞ্চারের অংশ হিসেবে গিয়েছিলাম উত্তরাখণ্ডের রুদ্রগাইরা পর্বতাভিযানে। পবিত্র ভূমি গঙ্গোত্রী থেকে শুরু হওয়া সে অভিযান জীবনের অনেক কঠিন কিছুর শিক্ষা দিয়েছিল।
এবার নিজেকে প্রস্তুতির পর্ব। এর অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে হিমালয়ান ক্লাবের সঙ্গে যাই রক ক্লাইম্বিং কোর্সে। পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার শুশুনিয়া পাহাড়ে এই কোর্সে অদ্রির কঠিন শিলা অতিক্রমের অনেক কলা-কৌশল শিখেছিলাম সেবার। এরপর ফেব্রুয়ারি মাসে অংশ নিই উত্তরাখণ্ডের কেদারকান্থা পর্বতের শীতকালীন ট্রেকে। সেবারে নতুন অনেক অভিজ্ঞতা হলো। প্রচণ্ড তুষার আর হাঁটুসমান বরফ পেরিয়ে প্রতি পদক্ষেপেই কী অপরিসীম ধৈর্য্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হয় শিখরের কাছে, সে শিক্ষাই পেয়েছিলাম সেখানে। 
এরপর এপ্রিল মাসে আমরা নেপালে ইয়ালা পিক এক্সপেডিশনে যাই। ল্যাংটাং রেঞ্জে সেবার আমরা ইয়ালা পিকের পাশাপাশি অবজেক্টিভ হিসেবে রেখেছিলাম কিয়াঞ্জিংরি ও সারগোরির চূড়াকে। ইয়ালা পিকে সেবার ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মধ্যে পড়তে হয়েছিল আমাকে। হঠাৎ প্রচণ্ড তুষার ঝড় আর হোয়াইট আউট হয়ে যাওয়ায়, পাহাড় থেকে পিছলে পড়ে ভয়ংকর দূর্ঘটনার মধ্যে পড়েছিলাম। শেরপার সহযোগিতায় সেবার বেঁচে ফিরে শিখলাম- এ পথ ভীষণ মৃত্যুসংকুল, তবুও এর আকর্ষণ আরো বেশি তীব্র।
ইয়ালা পিক থেকে ফেরার পথে পর্বতারোহী মীর শামসুল আলম বাবু ভাইয়ার কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম কিয়াঞ্জিং গ্লেসিয়ারে। এরপর ২০১৯ সালের মে-জুন মাসে অংশ নিই বেসিক মাউন্টেনিয়ারিং কোর্সে। ভারতের উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীতে অবস্থিত 'নেহেরু ইন্সটিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং'-এ এক মাসের এই কোর্সে হাতে-কলমে শিখেছিলাম পর্বতারোহণের কলা-কৌশলের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পাঠ। রক ক্রাফট, আইস ক্রাফট আর স্নো ক্রাফট- এ তিন পর্বে ভাগ করা হয়েছিল পুরো কোর্সটিকে। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে হাইট গেইনিং-এ আমরা সেবার গিয়েছিলাম মাছাধরের চূড়ায়।
এরপর আগস্ট মাসে আমরা আবার লাদাখে কাং ইয়াৎ সে-২ পর্বতাভিযানে অংশ নিই। মার্খা ভ্যালি পেরিয়ে সে অভিযানে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বেসক্যাম্পে চারদিন অবস্থান করেও সামিট পুশ দেয়া সম্ভব হয়নি আমাদের। লাদাখের রুক্ষ রঙিন পাহাড়ের মায়া ছেড়ে ফিরে এসেছি সেবার, আবার নতুন কোন অভিযানে যাবো বলে, নতুন কোন উচ্চতার সন্ধান করবো বলে। 
আমরা যারা পাহাড় ভালোবাসি, পাহাড় আমাদের কাছে কেবল চূড়া জয়ের ইতিহাসই নয়; বরং অনেক বেশি আত্মসমর্পণের আর আত্মনির্মাণের। পাহাড় আমাদের কাছে ধ্যান, জ্ঞান, স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা আর প্রার্থনার সংযোগ। নিজেকে চেনার, নিজের মুখোমুখি দাঁড়াবার ক্ষেত্র। আর সেই আত্মস্বরূপ সন্ধানের মধ্য দিয়েই আমরা এসে দাঁড়াই জাগতিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সঞ্জিবনী হাতে। করোনার এই ক্রান্তিকালে ধৈর্য্য ধরে বাড়িতে থাকার শিক্ষাটিও আমাদের পাহাড়ের কাছ থেকেই পাওয়া। কেটে যাবে এই মহামারী, দুর্যোগ। নির্মল প্রকৃতিতে, সুস্থ পৃথিবীতে, পাহাড়ের নিঃসঙ্গ চূড়ায় আমরা আবার হেঁটে যাবো। একদিন এই শোক-ঘন রাত্রি পেরিয়ে আমাদের ভোর হবে পাহাড়ের গহনে, পবিত্র প্রজ্ঞানে।
 
লেখক: জয়নাব শান্তু
প্রভাষক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop