Close (x)

বাংলার সময় প্রয়াত এমপি ডিলুর পরিবারে মতভেদ, প্রার্থী হতে চান সবাই

২৯-০৮-২০২০, ১২:২৯

সৈকত আফরোজ

fb tw
প্রয়াত এমপি ডিলুর পরিবারে মতভেদ, প্রার্থী হতে চান সবাই
সাবেক ভূমিমন্ত্রী প্রয়াত শামসুর রহমান শরীফ ডিলু পরিবারে অনৈক্য আর মতভেদের কারণে পাবনা-৪ আসনের উপ-নিবাচনে (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র তুলেছেন তার স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে-জামাতাসহ ছয় জন।
ছয় জনের মধ্যে দুইজন ডিলুর খালাতো ভাই ও ভাগ্নি জামাই রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ২৮ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন এমপি হওয়ার জন্যে। একই পরিবারের ৬ জন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়টি ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছে পুরো দেশে।
জানা গেছে, পাবনা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী প্রায়াত শামসুর রহমান শরিফ ডিলুর স্ত্রী ও ঈশ্বরদী উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুন্নাহার শরীফ, বড় ছেলে ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গালিবুর রহমান শরীফ, বড় মেয়ে জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মাহজেবিন শিরিন পিয়া, শিরিনের স্বামী ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু। আর শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর খালাতো ভাই ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বশির আহমেদ বকুল, ভাগ্নি জামাই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান। ইতিমধ্যেই তারা দলীয় মনোনয়ন তুলেছেন।
এছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারীদের মধ্যে রয়েছেন,পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউর রহিম লাল, ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুরুজ্জামান বিশ্বাস, সাবেক ডিজিএফআইয়ের প্রধান ও পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) এএসএম নজরুল ইসলাম রবি, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য পাঞ্জাব আলী বিশ্বাস, জেলা কমিটির উপদফতর সম্পাদক সৈয়দ আলী জিরু, ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান স্বপন, মৎস্যজীবী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল আলিম, অ্যাডভোকেট রবিউল আলম বুদু, সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী ড. মুসলিমা জাহান ময়না, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য জালাল উদ্দিন তুহিন, সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুর রহমান বিশ্বাস, ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আকরাম আলী খান, তাঁতী লীগের সহ-সভাপতি এসএম গোলাম মোস্তফা ও সলিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৯ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী, আটঘরিয়া পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম রতন উল্লেখযোগ্য।
এ সংসদীয় আসন এলাকায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঈশ্বরদী ইপিজেড, ঈশ্বরদী রেল ষ্টেশন, বালি মহাল, বালাদেশ ইক্ষু গবেষনা ইনস্টিটিউটসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে রূপপুর প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে, সেখানে হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ চলছে। 
এ বিষয়ে সাবেক ভূমিমন্ত্রী প্রয়াত শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর স্ত্রী কামরুন্নাহার শরীফ বলেন, আমার স্বামীর আসনে মনোনয়ন চাওয়ার অধিকার আমার আছে। তবে ছেলের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা মা-ছেলের মধ্যে যে কেউ মনোনয়ন পেলে আমাদের কোন সমস্যা নেই। দলের সভানেত্রী আমাদের অভিভাবক, তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমরা তা মেনে নেব।
তবে মেয়ে-জামাইয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারাজীবনই যে কোনো নির্বাচনেই তারা মনোনয়ন তুলে আসছেন, এটি তাদের ব্যবসা বলেও দাবি তার। তিনি বলেন, আমার স্বামী বেঁচে থাকতেও তারা এমন করেছেন।
প্রয়াত ডিলুর ব্যক্তিগত সহকারী বশির আহমেদ বকুলের বিষয়ে তিনি বলেন, বকুল আমাদের কর্মচারীর মতো ছিল, সেও মনোনয়ন চাইছেন। এখন কেউ যদি মনোনয়ন চায় আমাদের কি করার আছে।
তবে তার পরিবারে কোন বিভেদ বা অনৈক্য নেই দাবি করে বলেন, লোকে কি বলছেন তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমরা মা ও ছেলে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি নেত্রী যাকে খুশি মনোনয়ন দেবেন।
ডিলুর ছেলে গালিবুর রহমান শরীফ বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই তার অসমাপ্ত কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যেই করোনাকালে অসহায় পরিবার দেখে দেখে খাদ্য সামগ্রী দিয়েছি। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হতে পারলে বাকি কাজগুলো সমাপ্ত করারও প্রত্যয় তার।
ডিলুর মেয়ে মাহজেবিন শিরিন পিয়া বলেন, দলের কোথাও উল্লেখ নেই যে, একই পরিবার থেকে একজনের অধিক মনোনয়ন চাইতে পারবেন না। তাই যেহেতু রাজনীতি করি, ভাল অবস্থানে যাওয়ার চেষ্টা সবারই থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। সবাই যার যার অবস্থানে ভালো আছি, সেখানে আরো ভালো থাকার আশা সবারই আছে।
পিয়ার স্বামী ও ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন, আমি তো ওই পরিবারের হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশা করিনি। আমার নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আছে। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করি, যুবলীগ করেছি, বর্তমানে আওয়ামী লীগ করছি। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে মেয়র পদে জয় পেয়েছি। সেখানে ওই পরিবারের ইমেজ ব্যবহার করার প্রশ্নই আসে না।
নিজেরাই ঐক্যমত হতে পারেন নাই সেখানে দল কিভাবে একক প্রার্থী দেবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণীত ও শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ কর্মী। সেখানে নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটিই আমাদের সিদ্ধান্ত।
ডিলুর খালাতো ভাই ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বশির আহমেদ বকুল বলেন, আমি তো ওই পরিবারের কেউ নই। নিজের মতো করে ১৯৮০ সাল থেকে ছাত্র রাজনীতি এরপর মূল দলের হয়ে কাজ করছি। সেখানে আমাদের নিজের কি কোন চাওয়া পাওয়া থাকতে পারে না। যে যার মতো নিজেকে যোগ্য ভাবছি বলেই তো দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি।  
প্রসঙ্গত গত ২ এপ্রিল সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ১৯৯৬ সাল থেকে টানা পাঁচ বার এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ডিলু। তার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া এ আসনে উপনির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মনোনয়নপত্র বিক্রি শেষ করেছে আওয়ামী লীগ।
দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেকোনো দিন দলের মনোনয়ন বোর্ডের মাধ্যমে এই আসনসহ পাঁচটি শূন্য আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন বলে জানা গেছে।
একই পরিবার থেকে ছয় জনের মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়টিকে নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছেন। ইতিমধ্যেই অনেক সিনিয়র নেতারা বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে কথাও বলেছেন। অনেকেই বিষয়টিকে দুঃখজনক ও অনাকাঙ্খিত বলেও উল্লেখ করেছেন।
 

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop