বাংলার সময় দেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দুর্ভোগে বানভাসীরা

১৪-০৭-২০২০, ১৫:৪৮

বাংলার সময় ডেস্ক

fb tw
দেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দুর্ভোগে বানভাসীরা
দেশের প্রায় সবকটি নদীর পানি বেড়েই চলেছে। বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন বানভাসী মানুষেরা।
বগুড়ায় হু হু করে বেড়েই চলছে যমুনার পানি। একই সাথে দুর্ভোগ বেড়েছে চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের। বাড়িঘরের আসবাবপত্র, গবাদিপশু নিয়ে দিকবিদিক ছুটছেন আশ্রয়ের আশায় তারা। দ্বিতীয় দফার বন্যায় বগুড়ার সারিয়াকান্দি সোনাতলা ও ধুনটের ১৬ ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন নিয়ে বিপাকে পানিবন্দি এসব মানুষ।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল মিয়া জানান, সারিয়াকান্দি উপজেলার ১২ ইউনিয়নের মধ্যে ৯টি ইউনিয়নই বন্যায় খতিগ্রস্ত।
এদিকে সোনাতলা উপজেলার ৪টি এবং ধুনটে ৩টি ইউনিয়নের ৮৮টি গ্রামে পানি ঢুকেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মানুষ মধ্যে শঙ্কা বিরাজ করছে।
 
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, এ পযর্ন্ত ১২ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান, পাট, মরিচ, বাদাম নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া গো-চারণ ভূমিতে পানি উঠায় পশুখাদ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা।
জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক জানান, নতুন করে বন্যায় ক্ষতি নিরুপনের কাজ চলছে। এ পর্যন্ত ৫ শ মেট্রিক টন চাল ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে। আরো বরাদ্দের জন্য সরকারের কাজে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, উজানের নদ-নদীর বয়ে আসা পানির কারণে দিনাজপুর জেলার ৩টি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নদী তীরবর্তী নিমাঞ্চলের বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। ইতোমধ্যে আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
 
মঙ্গলবার সকাল থেকেই জেলা সদর ও বিরল উপজেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত পূর্ণভবা নদীর শহর রক্ষা বাধ সংলগ্ন নিমাঞ্চলগুলো ও বিরল অংশের কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে দিনের মধ্যেই পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
 
দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন জানান, জেলার প্রধান তিনটি নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। যদি উজানের পানি এবং বৃষ্টির পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে তাহলে বিপদসীমা অতিক্রম করবে।
 
তিনি আরো জানান, দিনাজপুর শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পূর্ণভবা নদীর পানি ৩৩ দশমিক ৫০ মিটার বিপদসীমার বিপরীতে বর্তমানে পানির স্তর রয়েছে ৩২ দশমিক ৬০ মিটার। আত্রাই নদীর পানি ৩৯ দশমিক ৬০ মিটারের বিপরীতে বর্তমানে ৩৯ দশমিক ৯৬ মিটার ও ইছামতি নদীর পানি ২৯ দশমিক ৯৫ মিটারের বিপরীতে ২৮ দশমিক ৯৮ মিটারে অবস্থান করছে। এছাড়াও জেলার অন্যান্য ছোট নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় নেত্রকোনায় প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। জেলার কংস নদীর পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও সীমান্ত উপজেলা কলমাকান্দার উব্দাখালি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জেলার কলমাকান্দা, বারহাট্টা ও সদর উপজেলাসহ নদী তীরবর্তী অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
কলমাকান্দা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ২ শতাধিক গ্রামের প্রায় ৩০ হাজারের মতো মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন।
এছাড়াও জেলার সদর বারহাট্টা, দূর্গাপুরসহ হাওর উপজেলাগুলোর বিভিন্ন এলাকায় ২০ হাজারের মতো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে যদিও হাওরাঞ্চল পুরো সাত থেকে আটমাস পানিতেই থাকে তারপরও সুনামগঞ্জ থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল খালিয়াজুরির ধনু নদ দিয়ে প্রবেশ করছে। মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরিসহ কলমাকন্দার বেশ কিছু গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে।
জেলা প্রাশাসক মঈনউল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে জেলায় ২২ থেকে ২৩ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে ইতিমধ্যে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।  
তবে রোদ উঠলে এবং মেঘালয়ের ভারি বৃষ্টিপাত কমে গেলে পানিও নামতে শুরু করবে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।
উজানের পাহাড়ি ঢল আর লাগাতার বর্ষণে ২য় দফায় টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৩২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপদসীমার ৩৭ সে.মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
বন্যায় ভেসে গেছে বির্স্তীণ এলাকার ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট। প্রথম দফার বন্যার রেশ কাটতে না কাটতে আবার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভূঞাপুর,কালিহাতি, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুরের বেশ কিছু নিম্নাচলের লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় চরম দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে এসব বন্যা কবলিত মানুষ।
বানভাসী মানুষদের মাঝে শিশু খাদ্য বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ বানভাসী মানুষের।
দ্রুত ত্রাণ সহায়তার দাবি  জানান তারা। তবে জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী বানভাসীদের মাঝে ৪শ মে.টন চাল ও নগদ ৮লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আর ২লাখ টাকার শিশু খাদ্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুর পয়েন্টে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। ইতোমধ্যে দুইটি পয়েন্টেই দ্বিতীয়বারের মতো বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে যমুনার পানি। ফলে আবারও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় সোয়া লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
মঙ্গলবার  দুপুর সোয়া ১২টায় সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৩ দশমিক ৮০ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপদসীমার (১৩.৩৫ মিটার) ৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত। অপরদিকে কাজিপুর পয়েন্টে রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ মিটার, যা বিপদসীমার (১৫.২৫ মিটার) ৭৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এ কে এম রফিকুল ইসলাম জানান, যমুনার পানি দ্রুতগতিতে বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কাজিপুর পয়েন্টে ৪৩ সেন্টিমিটার ও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৩৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। সেসঙ্গে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ করতোয়া, ফুলজোড়, ইছামতি ও বড়াল নদীর পানিও। বেড়েছে যমুনা নদীর পানি। তিনি আরও বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টা যমুনায় পানি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় যমুনার অভ্যন্তরীণ চারঞ্চলের মানুষেরা দ্বিতীয় দফায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্লাবিত হয়েছে বাড়ি-ঘর, শিক্ষা ও ধর্মী প্রতিষ্ঠানসহ ফসলি জমি। বাড়িঘর ছেড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কিংবা উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে শত শত মানুষ। অস্বাভাবিক হারে পানি বাড়ায় এসব এলাকার মানুষের মধ্যে ভয়াবহ বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, জেলার পাঁচ উপজেলার যমুনা নদী অধ্যুষিত ৩৫টি ইউনিয়নে ২৫ হাজার পরিবারের প্রায় সোয়া লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে ২৮০টি ঘর-বাড়ি। ২২টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে প্রায় ১৭ কিলোমিটার রাস্তা ও বাঁধ।
তিনি আরও বলেন, প্রথম দফা বন্যাকবলিতদের জন্য ১২৫ মেট্টিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় দফাতেও আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় জেলার প্রধান নদনদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে সুরমা নদীর পানি এখনো বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে মানুষের ঘরবাড়ি থেকে বন্যার পানি এখনো নামেনি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে বন্যা কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে সদর উপজেলার লালপুর ও রাধানগর, রসুলপুর গ্রামের বেশির ভাগ ঘরবাড়ি এখনো পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এদিকে সুনামগঞ্জ শহরের শান্তিবাগ, নুতনপাড়া, পশ্চিমহাজীপাড়া, তেঘরিয়া, বড়পাড়া, কালীপুর মরাটিলা হাছননগরসব সকল আবাসিক এলাকা পানিতে তলিয়ে রয়েছে। বসতবাড়ি বন্যার পানিতে ডুবে থাকায় মানুষ পড়েছেন সীমাহীন দুর্ভোগে।
প্রশাসনের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১১টি উপজেলার ৮৪টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভার ২০টি ওয়ার্ডে ৩২৭টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে ২৮৮১টি পরিবারের ১১হাজার ৫২৪ জন নারী পুরুষ ও শিশু আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৭২৯টি পরিবার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা শুকনো খাবার ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার পর্যন্ত ৮৫৫ মেট্রিক টন চাল ৪৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা ১৯০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৫ হাজার ২২২টি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ১১ হাজার ৫৩৫টি, তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ২৬ হাজার ৭৮০টি, জামালগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ১০ হাজারটি, ছাতক উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ২ হাজার ৩৫০টি, দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ১০ হাজার ২২২টি, শাল্লা উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নের ২ হাজার ৩০০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত  হয়েছে।
এছাড়াও দিরাই উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ১ হাজার টি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের ১১ হাজার ৭৫০টি, ধর্মপাশা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ১৫ হাজার ৭০০টি, জগন্নাথপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৩  হাজার ৬০০টি ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৫৩২টি, ছাতক পৌরসভার ৯২৫টি,দিরাই পৌরসভার ২৫১টি ও জগন্নাথপুর পৌরসভার ৫৬২টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্তসহ সারা জেলায় মোট ১ লাখ ২ হাজার ৭২৯টি পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান জানান, উজানে বৃষ্টি কম হওয়ায় নদনদীর পানি কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টি না হলে পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তবে ধীর গতিতে পানি নামছে।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop