আন্তর্জাতিক সময় করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে কাঁকড়ার নীল রক্ত

১১-০৭-২০২০, ১৫:০০

ওয়েব ডেস্ক

fb tw
করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে কাঁকড়ার নীল রক্ত
করোনার কাছে জিম্মি পুরো পৃথিবীর মানুষ তাকিয়ে আছে ভ্যাকসিনের দিকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী-গবেষকরা প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরমধ্যে কয়েকটি ভ্যাকসিন ট্রায়ালে সাফল্য পেলেও খুব দ্রুত যে ভ্যাকসিন আসছে না বলেই জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বর্তমানে যে ভ্যাকসিনগুলোর পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে সেগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে এক ধরণের কাঁকড়ার রক্ত। যার নাম ‘হর্সশু ক্র্যাব’ বা 'নাল কাঁকড়া'। বিবিসি বাংলা অনলাইনের প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীনতম একটি প্রাণী হলো এই নাল কাঁকড়া। যেখানে ডাইনোসরের বিলুপ্তি হয়ে গেছে অনেক বছর আগেই, সেখানে নাল কাঁকড়া টিকে আছে এখনো। প্রাণী বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন এই নাল কাঁকড়ার পৃথিবীতে বিচরণ প্রায় ৪৫ কোটি বছর ধরে।
এজন্য নাল কাঁকড়াকে অনেক সময় জীবন্ত জীবাশ্ম বলেও বর্ণনা করা হয়। কোনো টিকা নিরাপদ কিনা তা পরীক্ষার জন্য এই নাল কাঁকড়ার রক্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য ধারণা করা হচ্ছে, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে গেলে এই ধরনের কাঁকড়ার চাহিদা বেড়ে যাবে বহুগুণ।
বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের জন্য কাজ করছে বিজ্ঞানীদের দশটিরও বেশি দল। এরই মধ্যেই কোনো কোনো টিকা মানবদেহে প্রয়োগ করে ক্লিনিকাল ট্রায়াল চালানো হচ্ছে। অনেকে এর মধ্যে সফলও হয়েছেন বলে জানা যায়।
বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই অনেক টিকা ব্যবহারের জন্য ব্যাপকহারে তৈরি হয়ে যাবে।
কেন দরকার কাঁকড়ার নীল রক্ত?
নাল কাঁকড়ার নীল রক্ত ব্যবহার করে মূলত চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ধমনীর ভেতর সরাসরি ঢুকিয়ে দিতে হয় এমন ঔষধ নির্বিষ বা জীবাণুমুক্ত কিনা সেটা পরীক্ষা করার জন্য।
কোনো চিকিৎসা সরঞ্জামে যদি ক্ষতিকর কোনো জীবাণু থেকে থাকে সেটা মানবদেহের জন্য হতে পারে প্রাণঘাতী। নাল কাঁকড়ার রক্ত এরকম ব্যাকটেরিয়াল টক্সিন বা জীবাণুর বিষের ক্ষেত্রে খুবই বেশি সংবেদনশীল।
মানুষের শরীরে টিকা বা অন্য কোনো মেডিকেল সরঞ্জাম যখন ঢুকিয়ে দেয়া হয়, সেগুলো ক্ষতিকর জীবাণুমুক্ত কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য নাল কাঁকড়ার রক্তের প্রয়োজন হয়।
নাল কাঁকড়ার রক্তে আছে তামা; যে কারণে তাদের রক্তের রঙ নীল হয়ে থাকে। মানুষের রক্তে আয়রন বা লোহার উপস্থিতি যে ভূমিকা পালন করে, নাল কাঁকড়ার রক্তে কপার বা তামা একই কাজ করে থাকে।
আয়রন বা লোহার উপস্থিতির কারণে মানুষের রক্ত লাল হয়ে থাকে। অন্যদিকে কপার বা তামার কারণে নাল কাঁকড়ার রক্ত নীল হয়ে থাকে। তবে নাল কাঁকড়ার রক্তে তামা ছাড়াও আছে এক ধরনের বিশেষ রাসায়নিক পদার্থও যেটি মূলত ব্যাকটেরিয়ার চারপাশে রক্ত জমাট বাঁধানোর মাধ্যমে আটকে ফেলতে পারে।
নাল কাঁকড়ার রক্ত দিয়ে তৈরি করা হয় এক ধরনের প্রোটিন এজেন্ট বা জমাট বাঁধানোর রাসায়নিক, যার কারণে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ যদি একেবারে কমও হয়ে থাকে তবুও তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
সূত্র: বিবিসি

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop