আন্তর্জাতিক সময় মানুষের জন্য ‘উপকারী' ভাইরাস

০৭-০৭-২০২০, ১৭:২৪

আন্তর্জাতিক সময় ডেস্ক

fb tw
মানুষের জন্য ‘উপকারী' ভাইরাস
বিপদজনক ব্যাকটেরিয়া শায়েস্তা করতে আরও ছোট জীবাণু কাজে লাগানোর লক্ষ্যে গবেষণা চালাচ্ছে নেদারল্যান্ডসের ভাখেনিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়।
মিকেরোস কোম্পানি ব্যাকটেরিয়ার ফেজ তৈরি করে। ফেজ আসলে এমন ভাইরাস, যেগুলো নির্দিষ্ট গোত্রের ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে বাসা বেঁধে বংশবৃদ্ধি ঘটায়। এক চিজ প্রস্তুতকারক এমন ফেজ কাজে লাগিয়ে চিজ আরো নিরাপদ করার লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিচ্ছেন।
তরল ব্যাকটেরিয়া কালচারে ফেজ সৃষ্টি করা হয়। সেখানে দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটে। হুবহু সেই ব্যাকটেরিয়ার মধ্যেই ফেজ সৃষ্টি করা হয়, পরে যেগুলোর মোকাবিলা করতে হবে। ফেজ ব্যাকটেরিয়ার জাতশত্রু। মিকেরোস লিস্টেরিয়া ও সালমোনেলা মোকাবিলা করতে ফেজ সরবরাহ করে। এভাবে হামলাকারীরা তাদের শিকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।
ফেজ ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে তার মধ্যে নিজের ডিএনএ ঢুকিয়ে দেয়। ফলে ব্যাকটেরিয়াকে বাধ্য হয়ে ফেজের অসংখ্য নকল সৃষ্টি করতে হয়। সেই ফেজগুলোর চাপে ব্যাকটেরিয়া ফেটে যায়। তখন ফেজ বেরিয়ে এসে অন্যান্য ব্যাকটেরিয়ার ওপর হামলা চালায়।
এক খাদ্য প্রস্তুতকারকের সমস্যা সমাধানে ফেজ কাজে লাগানো যায় কিনা, মিকেরোস কোম্পানির কর্মীরা তা পরীক্ষা করছেন। খাদ্যপণ্যের দুটি সংস্করণ ব্যাকটেরিয়া দিয়ে দূষিত করা হয়েছে। যেমন বিশেষ এক প্রজাতির আপেলের মধ্যে লিস্টেরিয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
একটি খাদ্যপণ্যের ওপর পানি স্প্রে করে দেখা হলো। অন্যটির ওপর ব্যাকটেরিয়ার ফেজ ঢেলে দেয়া হলো। এবার ফেজের ক্ষমতা খতিয়ে দেখার পালা।
বিশেষজ্ঞরা সেই খাদ্যপণ্যের নমুনা ব্যাকটেরিয়ার জন্য অত্যন্ত উর্বর এক পাত্রে রাখলেন। তারপর সেটি ২৪ ঘণ্টার জন্য ইনকিউবেটরে রাখা হলো। বিজ্ঞানীদের দলের প্রধান হাখেনস তার ফেজগুলোর কার্যকারিতা সম্পর্কে আশাবাদী।
তিনি বলেন, এত সুনির্দিষ্ট প্রভাব ফেলে বলে ফেজ খুবই কার্যকর। অর্থাৎ এগুলো শুধু নির্দিষ্ট এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে। চিজ ও দইয়ের মতো খাদ্যপণ্যের মধ্যে ভালো ব্যাকটেরিয়ার ওপর হামলা চালায় না। সে কারণে নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করতে ফেজ কাজে লাগানো যায়।
২৪ ঘণ্টা পর ইনকিউবেটর থেকে প্লেটগুলো বের করে নেয়া হলো। তার মধ্যে অনেকগুলো অনিয়ন্ত্রিত ব্যাকটেরিয়ার কলোনি রয়েছে। কয়েকটি মাত্র ফেজের প্লেটের ওপর রাখা হয়েছে।
স্টেফেন হাখেনস বলেন, অনিয়ন্ত্রিত শ্রেণির তুলনায় সেগুলোর সংখ্যা ১০ গুণ কম। ১০ গুণ বেশি ফেজের প্রয়োজন হলে ১০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া সরিয়ে ফেলা যায়।
এভাবে জার্মানিতে অদূর ভবিষ্যতে ফেজের প্রয়োগ বাড়তে পারে। যেমন সসেজ উৎপাদনের সময় ব্যাকটেরিয়া-নাশক এই উপাদান প্রয়োগ করা যেতে পারে। জীবাণু থেকে সুরক্ষা দিতে ফেজ শুধু খাদ্যপণ্যের উপরিভাগে থাকে। স্মোকড মাছের ক্ষেত্রেও এর প্রয়োগ করলে ভালো হয়।
এ বিষয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন হোয়েনহাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজিস্ট ভল্ফগাং বায়ার।
তিনি বলেন, এটা ঠিক, যে ব্যাকটেরিওফেজ ভিরুলেন্স জিন বা প্রতিরোধী জিন বয়ে আনতে পারে। সবাই জানে, যে এমনটা ঘটে থাকে। খাদ্যপণ্য শিল্পে প্রয়োগের সময়েও সেটা হতে পারে। তবে খাদ্য শিল্পে মোটেই এমন ধরনের ফেজ প্রয়োগ করার শঙ্কা কম, যেগুলি নিজস্ব জিনোম ব্যাকটেরিয়ার জিনোমের অংশ করে তুলতে পারে। সে ক্ষেত্রে একমাত্র সেই ধরনের ফেজ কাজে লাগানো হবে, যেগুলি শুধু ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে৷ সে ক্ষেত্রে হস্তান্তরের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
মোট কথা ভবিষ্যতে খাদ্যপণ্যে ভাইরাস আমাদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তবে বিশেষ করে বর্তমান অবস্থায় এমনটা মেনে নেয়া বেশ কঠিন হবে।
সূত্র : ডয়চেভেলে

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop