স্বাস্থ্য ‘হ্যাপি হাইপোক্সিয়া’ করোনায় এক সুখী ঘাতক

০১-০৭-২০২০, ১৫:১৭

স্বাস্থ্য সময় ডেস্ক

fb tw
‘হ্যাপি হাইপোক্সিয়া’ করোনায় এক সুখী ঘাতক
করোনভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির একটি লক্ষণ চিকিৎসকদের চিন্তায় ফেলেছে। সুপ্ত এ লক্ষণ আসলে আক্রান্ত মানুষের বিপদ বাড়িয়েছে কয়েক গুণ। লক্ষণটি হলো রোগীর রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়া। ভয়ের বিষয়টি হলো, বিষয়টি রোগী নিজে বুঝতে না পারা।
রোগী হয়তো নিশ্চিন্তে আছেন, হাসছেন, গল্প করছেন, ভাবছেন তিনি ভালোই আছেন। কিন্তু শরীরের ভিতরে অভাবনীয় হারে কমে যাচ্ছে অক্সিজেনের মাত্রা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাটিকে বলা হয় ‘হ্যাপি হাইপোক্সিয়া’। যা করোনায় ‘সুখী ঘাতক’ নামে পরিচিত।
নিউইয়র্ক সিটির মাইমোনাইডস মেডিকেল সেন্টারের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক রুবেন স্ট্রেয়ার বলেছেন, আমাদের মনিটরে দেখা রোগীর অবস্থার সাথে চোখের সামনে দেখা হাসিখুশি রোগীর মধ্যে কোনো মিল মেই। 
স্ট্রেয়ার বলেন, তিনি মার্চ মাসে প্রথম ইমার্জেন্সি রুমে থাকা রোগীদের মধ্যে এই ঘটনাটি দেখতে পান। তখন থেকেই তিনি ও অন্যান্য ডাক্তার হাইপোক্সিয়া অবস্থাটি বুঝতে শুরু করেন। একই সাথে এর চিকিত্সা পদ্ধতি নিয়েও আগ্রহী হয়ে উঠেন।
তিনি জানান, সাধারণভাবে আমাদের শরীরের রক্তে অক্সিজেনের স্যাচুরেশন বা মাত্রা থাকে কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ। নিউমোনিয়ার মতো অধিকাংশ ফুসফুসের অসুখে এই অক্সিজেনের মাত্রা পরিবর্তিত হয়। ফুসফুসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ফুসফুসের কার্যকারিতা কমে অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমতে থাকে। 
ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্বাসকষ্টের বিশেষজ্ঞ পল ডেভেনপোর্ট বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে আমাদের শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয়। মস্তিষ্কে বিভিন্ন সেন্সর কার্বন ডাই অক্সাইড প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, যার ফলে আমরা শরীরে অক্সিজেনের স্তর বুঝতে পারি না।
কোভিড-১৯ আক্রান্ত গুরুতর রোগীর ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়ে থাকে। কিন্তু হ্যাপি হাইপ্লোক্সিয়াতে রোগের প্রথম দিকে কম স্যাচুরেশন অক্সিজেনের পরও শ্বাসকষ্ট স্পষ্ট হয় না। এ অবস্থায় শরীরে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা স্বাভাবিক হতে পারে, রোগী স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছেন কিন্তু সেই অক্সিজেন রক্তে পৌঁছাচ্ছে না। তাই কোষও অক্সিজেন পাচ্ছে না। আর লক্ষণ না থাকায় রোগী বুঝতেও পারছেন না। 
সাও পাওলো হাসপাতালের সরিয়ো-লিবানিয়াসের একজন পালমোনোলজিস্ট এলনারা মার্সিয়া নেগ্রি বলেছেন, এ সময় অক্সিজেনের স্যাচুরেশন পরিমাপক পালস অক্সিমিটার ডিভাইস রোগীর আঙুলের মাথায় লাগিয়ে পরীক্ষা করলে দেখা যায়, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ৭০, ৬০ বা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে যাচ্ছে।
এর কারণ কী তা নিয়ে হাইপোথেসিস প্রকাশিত হয়েছে। অনেক ডাক্তার এখন কোভিড-১৯ এ রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার বৈশিষ্ট্যকে গুরুতর হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এর কারণ মনে করা হচ্ছে পালমোনারি মাইক্রো ভাস্কুলার থ্রম্বোসিস। অর্থাৎ ফুসফুসের রক্তনালীতে রক্ত জমাট বেঁধে অক্সিজেন প্রবেশে বাধা দেয়। এ সময় ভ্যান্টিলেশনেও রোগীর অবস্থার উন্নতি হয় না।
তাই বলা হচ্ছে, কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী সুস্থ অনুভব করলেও পালস অক্সিমিটার দিয়ে অক্সিজেনের স্যাচুরেশন পরিমাপ করা উচিত।
সূত্র: সাইন্সমাগ

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop