বাংলার সময় পোড়া হাতে লিখেই জিপিএ-৫, প্রকৌশলী হতে চায় সুপন

০৬-০৬-২০২০, ১৮:২৮

সাকির হোসেন বাদল

fb tw
পোড়া হাতে লিখেই জিপিএ-৫, প্রকৌশলী হতে চায় সুপন
সুপন রায়। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। তারওপর আবার শারীরিক প্রতিবন্ধী। জন্মের এক বছর পরেই আগুনে পুড়ে যায় দুই হাত। বাঁ  হাতের কয়েকটি আঙ্গুল সচল থাকলেও তা দিয়ে ঠিকঠাক কলমও ধরা যায় না। তারপরও হাতের জড়ানো আঙ্গুলের ফাঁকে কোনো রকমে কলম রেখে লিখে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে সে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার লক্ষণপুর স্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান শাখার ছাত্র। তার স্বপ্ন একজন বড় প্রকৌশলী হওয়ার। কিন্তু আদৌ কি সেই স্বপ্ন পূরণ হবে তার! কারণ তার হতদরিদ্র বাবা-মায়ের পক্ষে এখন তার কলেজের খরচ মেটানো একেবারে অসম্ভব। তাই তার কলেজের ভর্তি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মেধাবী সুপন ও তার পরিবার।
সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের বাড়াইশাল নয়াপাড়ার বাসিন্দা দিনমজুর কৃষ্ণ রায় এবং গৃহিনী কল্পনা রাণী রায় দম্পতি। ওই দম্পতির বসতভিটাও নেই। তাই সরকারি খাস জায়গার বাস করেন। সুপন রায়ের মা কল্পনা রাণী রায় বলেন, তার তিন ছেলে। সকলেই লেখাপড়ায় আগ্রহী। মেধাবীও। বড় ছেলে সুজন রায় সিভিলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেছে। চাকুরীর মেলানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভর্তি হয়েছেন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়েও। আর মেঝো ছেলে সুমন রায় পড়ে সৈয়দপুর সরকারি কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে।
তিনি জানান, ছোট ছেলে সুপন তখন এক বছর বয়সী শিশু। যখন আগুন-পানি কি তা বুঝে উঠেনি। তাদের বাড়ির বাইরে প্রতিবেশীর রাখা আগুনে দুই হাত পুড়ে যায় সুপনের। এতে তার ডান হতের সবগুলো আঙ্গুলই পুড়ে যায়। আর বাঁ হাতের কয়েকটি আঙ্গুল একেবারে জড়িয়ে গেছে। সে সব দিয়ে ঠিকভাবে কলম ধরতে পারে না সুপন।
ছোটবেলা থেকে  লেখাপড়ার প্রতি ভীষণ আগ্রহী সে। বাড়ির পাশের চৌমুহনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পাশ করে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয় লক্ষণপুর স্কুল এন্ড কলেজে। সেখান থেকে এবারে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে তার পরিবার খুশি হলে তার কলেজের ভর্তি নিয়ে চরম দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন পরিবারটি। কারণ সুপনের বাবা পেশায় একজন দিনমজুর। দিনমজুরী করে যে আয় হয় তা দিয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবারের দুই বেলা খাবার জোটে না প্রতিদিন। তারপর তিন ছেলে লেখাপড়ার ও পরিবারের খরচ চালাতে প্রতিদিন হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করছে। বয়সও বেড়েছে। আগের মতো আর খাটতেও পারেন না। কিন্তু এখন ছোট ছেলে সুপন রায় কলেজে ভর্তি করতে হবে। কিনতে হবে কলেজের অনেক দামি বইপত্রও। তাই কলেজের খরচ মেটানো নিয়ে চরম দুঃশ্চিতায় পড়েছে তার পরিবার।
সৈয়দপুর লক্ষণপুর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম রেজা বলেন, সুপন রায় শারীরিক প্রতিবন্ধী। তবে সে অত্যন্ত মেধাবী ও বিনয়ী। তার লেখাপড়ায় আমরা প্রতিষ্ঠানগতভাবে সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন কলেজের লেখাপড়ায় তার আরো বেশি আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন পড়বে। আশা করি তার লেখাপড়ায় সমাজের বিত্তশালীরা আর্থিক সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসবেন। স্বপ্ন পূরণ হবে তার।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop