বাংলার সময় 'হঠাৎ একটা পাক আইয়া আমার ঘরডারে কই জানি নিয়া গেছে'

০৬-০৬-২০২০, ১৫:৪৯

উজ্জ্বল চক্রবর্তী

fb tw
'হঠাৎ করে একটা পাক আইয়া আমার ঘরটারে কই জানি নিয়া গেছে। আমি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কই থাকমু বুঝে উঠতে পারছি না। তিনি বলেন, আমি কোনো-ক্রমে ঘরের ড্রামের চিপায় বসে ছিলাম। আমার গায়ের উপর ঘরের বাঁশ পড়ে পিট কেটে গেছে। আমি এখন খোলা আকাশের নিচে আছি।' কথাগুলো বলছিলেন বৃদ্ধা টর্নেডোয় আহত বৃদ্ধা মূলচান বেগম।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও সরাইল উপজেলার ১০টি গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কয়েক মিনিট স্থায়ী ঘূর্ণিঝড়ে তার ঘরের মতো শত শত ঘরবাড়ী, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ের কবলে পরে যীশু মিয়া নামে একজন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাতহানে।
বর্তমানে ঝড়ে লণ্ডভণ্ড গ্রামের বিভিন্ন স্থানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমা আশরাফিসহ সরকারী কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দেন। 
ঘূর্ণিঝড়ে সবকিছু হারিয়ে বিলাপ করছিলেন নাসিরনগর পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা বিধবা অনিতা দাস। তিনি জানান, কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার বসত ঘর, রান্নাঘর উড়িয়ে নিয়ে যায় প্রলয়ঙ্করী ঝড়। ঘরের আসবাব পত্র, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র অবশিষ্ট কিছু নেই। তিনি এখন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। 
তিনি বলেন, স্বামী-হারা সংসারে ছেলে সন্তান নিয়ে তিনি এখন অনেকটাই নিরুপায় অবস্থায় রয়েছেন। তিনি সরকারের কাছে সহায়তা কামনা করেছেন।
শুধু অনিতাই নয়, একই গ্রামের জালাল মিয়া, রতিলাল দাস, মূল চান বেগম চানের ঘরটিও ঝড়ে মুহূর্তে উড়িয়ে নিয়ে যায়। এতে ঘরের নিচে চাপা পরে আহত হন রতিলাল এবং মূলচাঁন বেগম।
আহত রতিলাল জানান, ঝড়ের সময় তিনি খাটের নিচে অবস্থান নেন। এসময় তিনি টিনের চালা পরে কিছুটা আহত হন। তার ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিস পত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় চলাকালে বুড়িশ্বর ইউনিয়নের আশুরাইল গ্রামের যীশু মিয়া (৫৫) আতংকগ্রস্থ হয়ে স্ট্রোক করে মারা যান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা আশরাফি জানান, ঝড় চলাকালে তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে অচেতন হয়ে পরেন। পরে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি প্রাণ হারান। 
এদিকে ঝড়ের পর ক্ষতিগ্রস্ত নাসিরনগর সদরের পশ্চিমপাড়া, গাঙ্কুল পাড়া এবং পার্শ্ববর্তী বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর আশুরাইল, বেনিপাড়া সহ ১০টি গ্রাম পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমা আশরাফি। 
পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, দুটি ইউনিয়নের অন্তত ১০ গ্রামের অন্তত শতাধিক ঘরবাড়ী পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। ঝড়ের কবলে পড়ে আশুরাই গ্রামের যীশু মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। তিনি আরো জানান, গাছ এবং ঘর পরে ১০ জন আহত হয়। আহতদের সবাই শঙ্কা মুক্ত।
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে। এসময় নাসিরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসেন, পিআইও অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শম্ভুনাথ আচার্য সহ সরকারী কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন।
নাসিরনগর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল ম্যানেজার হিমেল কুমার সাহা জানান, ৩৫টি পয়েন্টে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। দুটি স্থানে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিকল হয়েছে। ঝড়ের পর পরই আমরা বৈদ্যুতিক লাইন মেরামতের চেষ্টা করছি। তবে বিদ্যুৎ কখন আসবে এখনই সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছেনা। 
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন জানান, ঘূর্ণিঝড়ে
নাসিরনগরের ১০টি গ্রামের শতাধিক এবং সরাইল উপজেলার দুটি গ্রামের ৩০টির বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। আমাদের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে। প্রতিটি পরিবারকে নগদ টাকা, ঢেউটিন, খাদ্যসামগ্রী দেয়া হবে। তিনি বলেন আমাদের পক্ষ থেকে যা যা প্রয়োজন সবই করা হবে। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছি। কারো ভয়ের কোনো কারণ নেই।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop