মহানগর সময় বিশ্ব পরিবেশ দিবস: মহামারি প্রমাণ করেছে প্রকৃতিই মানুষের নিয়ন্ত্রক

০৫-০৬-২০২০, ১৩:০৩

কেফায়েত শাকিল

fb tw
বিশ্ব পরিবেশ দিবস: মহামারি প্রমাণ করেছে প্রকৃতিই মানুষের নিয়ন্ত্রক
প্রকৃতি মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে না মানুষ প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে-এ প্রশ্ন নিয়ে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে বিতর্ক। এবার করোনা ভাইরাস এসে পুরোপুরি প্রমাণ করল প্রকৃতির ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ খুবই সামান্য তার বিপরীতে প্রকৃতিই মানুষকে বেশি নিয়ন্ত্রণের শক্তি রাখে।
করোনা ভাইরাসের মাধ্যমে পুরো বিশ্বকে থামিয়ে দিয়ে প্রকৃতি তার সেই শক্তিই জানান দিয়েছে। আর এমন পরিস্থিতিতে এসেছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। তাই "সময় এখন প্রকৃতির" এ স্লোগানে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস।
জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির তথ্য বলছে বিশ্বে প্রতি চার মাসে একটি করে ভাইরাসের জন্ম হয়। যার ৭৫ শতাংশই আসে বিভিন্ন প্রাণীর শরীর থেকে। গবেষকরা বলছেন, মানুষ তার নিজের স্বার্থে প্রাণীর বাস্তুসংস্থানে প্রবেশ করা এবং প্রাণীর সংস্পর্শে আসায় এসব ভাইরাস মানুষের শরীরে আসছে। করোনা ভাইরাস মানুষের প্রকৃতি সংক্রান্ত দায়িত্বহীনতার কারণেই ছড়িয়েছে। করোনার শিক্ষায় সচেতন না হলে প্রতি বছর এমন অনেক মহামারির শিকার হতে হবে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
তাই মানুষকে নিজের স্বার্থে বন উজার, বন্যপ্রাণী ও তাদের আবাসস্থল ধ্বংস, অতিমাত্রায় কৃষি সম্প্রসারণ বন্ধ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে এখনি সচেতন হতে বলছেন তারা।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রকিবুল আমিন সময় সংবাদকে বলেন, প্রাণীরা তার নিজস্ব পরিবেশে বাঁচতে চায়। এরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মানুষের নানা উপকার করে থাকে। কিন্তু উন্নয়নের নামে অত্যাধিক হারে বন নিধনের কারণে বন্যরা মানুষের কাছাকাছি চলে আসছে, অনেক ক্ষেত্রে মানুষও বন্যদের সংস্পর্শে যাচ্ছে যার মাধ্যমে ছড়াচ্ছে এসব ভাইরাস।
করোনা ভাইরাস মানুষের প্রকৃতি সংক্রান্ত দায়িত্ববোধের অভাবে ছড়িয়েছে বলে উল্লেখ করে, পরিবেশ ও প্রকৃতিকে ধরে রেখে টেকসই উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কারুজ্জামান মজুমদার বলেন, যুগ যুগ ধরে মানুষ প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে এসেছে। আজ আমরা এমন একটা অবস্থায় পরিবেশ দিবস উদযাপন করছি যখন অনায়াসে স্বীকার করতে হচ্ছে প্রকৃতিই মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে। করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বকে থামিয়ে দিয়ে তা প্রমাণ করে দিল। সত্যিই সময় এখন প্রকৃতির, মানুষ এখন প্রকৃতির কাছে অসহায়।
তিনি বলেন, লকডাউনের দিনগুলোতে পরিবেশের যে উন্নতি হয়েছে তাতে আমরা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছি আমরা কতটা পরিবেশ নষ্ট করেছি। কতটা দূষণ করেছি। এখন লকডাউন নেই আমারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। তবে সেই ঘুরে দাঁড়ানোতে যদি লকডাউনের শিক্ষা প্রাধান্য না পায় তাহলে আমাদের ভবিষ্যাৎ আরও কঠিন হতে পারে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা অনেক উন্নয়ন করেছি। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে তবে উন্নয়নের সময় আমরা পরিবেশকে সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি। এখন আর গদবাধা উন্নয়ন নয়, পরিবেশ ও প্রকৃতি ঠিক রেখে টেকসই উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। নয়লে আমাদের আগামী হবে অনেক ভয়ংকর। প্রকৃতি রক্ষা না করলে বছর বছর আসবে এমন অনেক করোনা ভাইরাস আর প্রাকৃতিক দুর্যোগতো আছেই।
১৯৭৪ সাল থেকে প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়। এবারে করোনা মহামারিতে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জীববৈচিত্র্য’। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি এ বারের পরিবেশ দিবসের স্লোগান দিয়েছে ‘ইটস টাইম ফর নেচার’ অর্থাৎ ‘সময় এখন প্রকৃতির’।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop