মুক্তকথা প্রথমদিনের স্বাস্থ্যবিধি মানার সফলতা ধরে রাখতে পারবে তো কমলাপুর?

৩১-০৫-২০২০, ২২:৫১

নাজমুস সালেহী

fb tw
প্রথমদিনের স্বাস্থ্যবিধি মানার সফলতা ধরে রাখতে পারবে তো কমলাপুর?
অন্তত আজকের বিচারে শতভাগ সফল ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন। পুরো স্টেশন এলাকা লোহার পাইপের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়েছে। স্টেশনের বহুদূরে সড়ক সংলগ্ন প্রবেশ মুখেই পিপিঁই পরিহিত রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছে। সেখান থেকেই বিনা টিকিট কিংবা মাস্ক ছাড়া যাত্রীদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। 
সেখান থেকে হেটে কাউন্টারের কাছাকাছি নিয়ন্ত্রণ করা হয় প্লাটফর্মের ভিতরে প্রবেশ। সেখানে তিন ফিট দূরত্বে দাঁড়িয়ে থাকে যাত্রীরা। একে একে টিকিট হাতে এগিয়ে যায় সামনের দিকে, প্রবেশপথ একটিই সেই লাইনেও তিন ফিট দুরত্ব। স্টেশনের প্রবেশ মুখে দাঁড়িয়ে আছে রেলপুলিশ, আর এন বি ও টিকিট চেকাররা, সবাই পিপিই পরিহিত। হাতে তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র। সেখানে প্রতিটি যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয়, মাত্রাতিরিক্ত তাপ থাকার কারণে অনেককে টিকিট থাকার সত্ত্বেও ফিরিয়ে দেয়া হয়। 
তাপমাত্রায় উত্তীর্ণ যাত্রীরা ভিতরে প্রবেশের অনুমতি পাওয়ার পর যেতে হচ্ছে লাল ফিতা দিয়ে নিয়ন্ত্রিত রেখার মধ্য দিয়ে যেখানে পায়ের নীচে রাখা হয়েছে জীবানুনাশক পানি। আর পাশে টেবিলে রাখা হ্যান্ড স্যানিটার ছিলো সবার জন্য বাধ্যতামূলক। 
এভাবে তিন স্তরের স্বাস্থবিধির মধ্য দিয়ে যাত্রীরা প্রবেশ করে প্লাটফর্মে। ভিতরে আগে থেকেই ওয়াশপিটে জীবানুনাশক দিয়ে ওয়াশ করা ট্রেন অপেক্ষা করছে যাত্রীদের জন্য। দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের মেঝে, হাতল ও সিটেও জীবানুনাশক স্প্রে করা হয়। একে একে যাত্রীরা সামাজিক দূরত্ব মেনে প্রবেশ করেন ট্রেনে। শতভাগ নিশ্চিত হতে দেখেছি এক সিট পর পর দূরত্ব রেখে আসন গ্রহণের বিধান। টিকিট চেকাররাও দেখেছি পিপিই পরিহিত।
কোন ট্রেনেই রেলের খাবার সরবরাহ করা হয়নি। দেয়া হয়নি স্লিপিং বার্থের বিছানাপত্র। একটি ট্রেনেও কোন অসুস্থ ব্যক্তিকে ভ্রমণ করতে দেয়া হয়নি। ট্রেনের ভিতর ছিলো না কোন হকার বা ভাসমান ব্যবসায়ী। এমনকি স্টেশন এলাকায় রাস্তার ধারে যে পান বিড়ির দোকান বসতো, তার একটিও বসতে দেয়া হয়নি।
কথামত বিমানবন্দর, টংগি কিংবা গাজীপুর স্টেশনে থামেনি একটিও ট্রেন। কমানো হয়েছে সব রুটেরই স্টপেজ স্টেশনের সংখ্যা। 
এর আগে ঢাকার বাইরে থেকে কমলাপুর স্টেশনে প্রবেশ করা যাত্রীদেরও সামাজিক দূরত্ব মেনে একে একে বের করা হয়। প্লাটফর্ম থেকে বাইরে যাওয়া পর্যন্ত, স্টেশনে প্রবেশ করার সময় যাত্রীরা যে তিন স্তরের স্বাস্থবিধির মধ্য দিয়ে গেছেন বের হওয়া যাত্রীদেরও একই প্রক্রিয়ায় বের করা হয়। মাস্কবিহীন দেখিনি একজনকেও। সকাল থেকেই পুরো স্টেশন এলাকা, প্লাটফর্ম জীবানুনাশক দিয়ে ধুয়ে দেয়া হয়।
অন্তত কমলাপুর স্টেশনে শতভাগ সাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেছে এটা বলতেই হবে। যাত্রীরাও দেখেছি সার্বিক ব্যাবস্থাপনা নিয়ে বেশ খুশি। কিন্তু ঢাকার বাইরের স্টেশনগুলোর অবস্থা কি ছিল জানি না। কোন প্রকার ব্যত্যয় বা স্বাস্থবিধির লংঘন হয়েছে এমন কিছু আপনার চোখে পড়লে বলতে পারেন। 
আজ মাত্র ৮ টি আন্তঃনগর ট্রেন চলেছে বলে হয়ত সম্ভব হয়েছে পুরোপুরি স্বাস্থবিধি প্রতিপালনের। আগামী ৩ জুন থেকে চালু হচ্ছে আরও ১১ টি ট্রেন। তখন আসলে কতটা সম্ভব হবে, সেটা প্রশ্ন সাপেক্ষ।
লেখক: নাজমুস সালেহী, সাংবাদিক
*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। সময় সংবাদের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতে পারে। লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় সময় সংবাদ নেবে না।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop