স্বাস্থ্য করোনা প্রতিহত করার ওষুধগুলো কী কী হতে পারে?

২৬-০৫-২০২০, ২১:১৭

স্বাস্থ্য সময় ডেস্ক

fb tw
করোনা প্রতিহত করার ওষুধগুলো কী কী হতে পারে?
তিনটি আলাদা ধরনের ওষুধের একটি সংমিশ্রণ করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় কার্যকর হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটেনের ব্র্যাডফোর্ড রয়াল ইনফারমারি-র (বিআরআই) চিকিৎসক ডা. জন রাইট।
তিনি বলেন, বিআরআইতে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য মোট আটটি পরীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে। করোনার চিকিৎসায় বিশ্বে যতগুলো পরীক্ষা চলছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি হচ্ছে এখানে। প্রায় ১০ হাজার রোগী এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, যেখানে তাদের উপর কোন না কোন চিকিৎসা পদ্ধতি বা ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
অ্যাস্ট্রাজেনেকা নামে কোম্পানির তৈরি একটি ওষুধ নিরাপদ ও কার্যকর কি না সেটি জানতে এখানে পরীক্ষা করা হবে। একে বলা হয় অ্যাকর্ড ট্রায়াল- এটি হচ্ছে বড় ধরনের পরীক্ষার জন্য ওষুধ বাছাইয়ের জন্য ছোট পরীক্ষা বিশেষ। আশা করা হচ্ছে অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি এই ওষুধটি যার এখনো কোন নাম দেয়া হয়নি, সেটা হয়তো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কিছু জটিল প্রতিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়ক হবে। আক্রান্ত খুব কম সংখ্যক রোগীর মধ্যে এ ধরণের উপসর্গ দেখা দেয়। এগুলো হচ্ছে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন ফুসফুস, হৃদপিণ্ড, শিরা ও ধমনী এবং কিডনির কার্যক্ষমতা বন্ধ করে দেয়া।
এই উপসর্গগুলোর নাম দেয়া হয়েছে "সাইটোকিন স্টর্ম"। সাইটোকিন হচ্ছে কোষের এমন ক্ষুদ্র অংশ যা শরীরে সংক্রমণের উপস্থিতি জানান দেয়। নতুন এই ওষুধ আইএল-৩৩(ইন্টারলিউকিন-৩৩) নামে একটি সাইটোকিনকে অচল করে দেয়।
মার্ক উইন্টারবোর্ন নামে একজন স্বেচ্ছাসেবী যিনি আইএল-ব্লকার হিসেবে পরিচিতি এই ওষুধটি নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি এরই মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছে গেছেন।
ধারণা করা হচ্ছে তার উপসর্গগুলো হয়তো পিত্ত-থলিতে পাথরের কারণে হয়েছে। তবে এই উপসর্গগুলো শুধু তার মধ্যে কোভিড-১৯ শনাক্ত হওয়ার পরই দেখা দিয়েছে।
মার্ক বলেন, আমি নিজে থেকেই স্বেচ্ছাসেবক হতে রাজি হয়েছি। আমার মনে হয় যে, কোভিড-১৯ এর প্রতিষেধক আসতে এখনো বছর খানেক সময় লাগবে। আর তাই চিকিৎসার সন্ধানে চালানো পরীক্ষাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকরা এমন একটি সময়ের অপেক্ষায় রয়েছেন যা হয়তো খুব বেশি দূরেও নয় যখন মৃদু উপসর্গ নিয়ে কেউ আসলেও তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হবে। নমুনা নেয়া হবে ও শীঘ্রই ফল পাবেন এবং তাকে কয়েকটি ওষুধের সমন্বয়ে একটি প্রেসক্রিপশন দেয়া হবে যেটি তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়া থেকে রক্ষা করবে।
এসব ওষুধের মধ্যে থাকতে পারে একটি অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে রক্ষা করার মতো একটি ওষুধ এবং একটি ওষুধ যেটা প্রদাহ কমাবে। অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ দুই ধরনের হতে পারে। যার একটি করোনা ভাইরাসের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটানো ঠেকাবে এবং অন্যটি শরীরের অন্যান্য স্থানে এর ছড়িয়ে পড়া ঠেকাবে।
রোগ প্রতিরোধ শক্তিশালী করার ওষুধগুলো সাইটোনিক স্টর্ম বা ভাইরাসের প্রতি কোষের অতি-প্রতিক্রিয়াকে রোধ করবে। যদি পরীক্ষায় থাকা আইএল-৩৩ কার্যকর হয় তাহলে এটি একটি ভাল ওষুধ হবে। প্রদাহ কমানোর ওষুধের মধ্যে রয়েছে স্টেরয়েড যেমন ডেক্সামেথাসন।
অধ্যাপক জন রাইট একজন চিকিৎসক এবং মহামারি বিশেষজ্ঞ। তিনি ব্র্যাডফোর্ড ইন্সটিটিউট ফর হেলথ রিসার্চ প্রতিষ্ঠানের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি কলেরা, এইচআইভি এবং আফ্রিকা এলাকার মহামারি ইবোলা নিয়েও কাজ করেছেন।
তার মতে, কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় এখনো একক কোন ওষুধ কার্যকর নয়। বরং বেশ কয়েকটি ওষুধের একটি সমন্বিত ডোজ দরকার হবে। যেমন আগে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসায় বেশ কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিকের সমন্বয়, কিংবা এইচআইভি রোগের ক্ষেত্রে কয়েকটি অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ একসাথে ব্যবহার করা হয়েছে। তার মনে হচ্ছে এই রোগের ক্ষেত্রেও এ ধরণের কিছুই কাজ করবে।
বিআরআই এর বক্ষব্যাধী বিষয়ক কনসালটেন্ট দিনেশ সারালয়া বেশ আশাবাদী। তিনি মনে করে গ্রীষ্মকাল শেষ হওয়ার আগে আগেই হয়তো এ ধরণের কয়েকটি ওষুধের একটি সমন্বয় আসবে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি আমরা অন্তত দুটি বা তিনটি ওষুধ খুঁজে পাবো যেগুলো সেবন করলে হয়তো রোগীকে আর হাসপাতালেই আসতে হবে না।
এই প্রতিষ্ঠানের চার কনসালটেন্টদের আরেক জন অন্য আরেকটি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এটি হচ্ছে অ্যান্টিবডি দানের একটি পরীক্ষা।
ডেবি হর্নার মহামারি শুরুর দিকে কোভিড-১৯এ আক্রান্ত হন এবং খুব তাড়াতাড়ি সেরেও ওঠেন। দুই সপ্তাহ আগে যখন রক্তের প্লাজমা দান করার খবর আসে তখন তিনি সেটি শুনেই রাজি হয়ে যান।
এটা এখন প্রমাণিত যে, যাদের শরীরে সবচেয়ে বেশি অ্যান্টিবডি রয়েছে তারা হচ্ছে পুরুষ, ৩৫ বছরের বেশি বয়সী এবং যাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সেবা নেয়ার প্রয়োজন হয়েছিল। এনএইচএস ব্লাড এন্ড ট্রান্সপ্লান্ট এমন সবার কাছ থেকে প্লাজমা নিতে আগ্রহী যারা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে সেরে উঠেছেন, হয় তারা পুরুষ কিংবা ৩৫ বছরের বেশি বয়সী এবং যারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক মাইক মারফি বলেন, প্লাজমা পরিবর্তনটা ভাল ভাবে বোঝার জন্য এটা খুবই ভাল একটি সুযোগ। তিনি জানান, ২০০০ সালের দিকে প্লাজমা সংগ্রহ শুরু হয় এটা দেখতে যে প্লাজমা ইবোলা এবং ফ্লু আক্রান্তদের চিকিৎসায় কাজ করে কি না।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop