ভাইরাল তিনি এখন ‘ক্যানভাসার ম্যাজিস্ট্রেট’

১৩-০৫-২০২০, ১৫:১৭

ভাইরাল

fb tw
তিনি এখন ‘ক্যানভাসার ম্যাজিস্ট্রেট’
করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ফ্রন্টলাইনের যোদ্ধা হিসেবে ভূমিকা রাখছেন সেনাবাহিনী, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, সরকারি কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। জনগণের সেবায় অনেকে সীমাহীন পরিশ্রম করছেন। তেমন একজন ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান মাহমুদ রাসেল।
দিন-রাত মাঠে কাজ করতে করতে এখন ওই এলাকায় তার নাম হয়েছে ‘ক্যানসাভার ম্যাজিস্ট্রেট’।
নিজের এই অভিজ্ঞতা সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেছেন মো. আহসান মাহমুদ রাসেল। তার স্ট্যাটাসটি পাঠকের উদ্দেশে তুলে ধরা হলো;
“ঝুঁকি সামলিয়ে বেঁচে থাকা এবং প্রতিপদেই জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও প্রতিদিন নব উদ্যমে প্রাণান্ত কাজ করে যাওয়াতেই জীবনের স্বপ্ন ছোঁয়ার স্বাদ আস্বাদিত হয়।
প্রতিটি সূর্য ওঠা ভোর যে আলোকছটায় প্রকৃতিকে উচ্ছ্বসিত করে তোলে, তার চেয়ে আঁধার মাখা রাত্রি অধিক বিষাদের ছোয়া দিয়ে যাবে বারংবার, যদি না আমি ঐ রাতের আঁধারের রূপে ডুবতে না পারি। রাতের আধার কেটে সকালে সূর্য উঠবেই, এ কথা বলে ঐ আধারের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করবার সুযোগ নেই। তাই দুঃসময়কে উপভোগ করতে হবে তার সাথে মোকাবিলা করে টিকে থাকতে হবে সংগ্রাম করে। সুসময়ের ন্যায় দুঃসময়ও জীবনের অবসম্ভাবী প্রাপ্তি। তাকে তার মত করে গ্রহণ করতে হবে জীবনের তরেই।
এমনই দুঃসময়ের ঝান্ডাবাহী করোনা পুরো পৃথিবীতে তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছে স্বমহিমায়। তাকেতো আমরা অস্বীকার করতে পারবো না। তাই চলছে যুদ্ধ, কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে আমাদের করোনা যুদ্ধ। এ যুদ্ধের শুরুর কাল থেকেই নগরকান্দা উপজেলায় কর্মরত সকল কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, স্থানীয় সাধারণ মানুষসহ সকলকে সাথে নিয়ে উপজেলা প্রশাসন সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে থেকে যুদ্ধ করে চলেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নগরকান্দা এর করোনাযুদ্ধের দিন-রাত্রি কাজের ভীরে যেন মিলেমিশে একাকার। রাত আর দিন বলে কথা নেই, নেই অফিস বন্ধের দিনের বেড়াজাল।
সহযাত্রী হয়ে সহযোদ্ধা হয়ে এই যুদ্ধের সম্মুখ সমরে সহকারী কমিশনার (ভূমি), অফিসার ইনচার্জ(এবং তার সহকর্মীবৃন্দ), হাসপাতালের ডাক্তার ও অন্যান্য চিকিৎসা কর্মী, সাংবাদিকবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, অন্যান্য কর্মকর্তাসহ অনেকেই রয়েছেন।
শিক্ষার হার কম থাকাসহ নানান কারণে নগরকান্দা উপজেলায় দাঙ্গা হাঙ্গামার বিষয়টি সর্বজন বিদিত। মানুষ ভালো কথাও শুনতে চায় কম। নানান প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করেই করোনাকালে অতন্দ্র প্রহরী হয়ে কাজ করে চলেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সাথে সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ অন্যান্য সহযোদ্ধারা।
প্রতিদিন দিনর শুরুতেই আলাদা দলে বিভক্ত হয়ে বেরিয়ে পরা, এবং হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট, চায়ের দোকান সব জায়গাতেই পাহাড়াদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া। সবাইকে করজোড়ে অনুরোধ করে বুঝিয়ে বলা যে, "সু্প্রিয় নগরকান্দাবাসী দয়া করে বাড়িতে অবস্থান করুন, যারা স্বল্প প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে এসেছেন দয়া করে বাড়িতে ফিরে যান, যারা খুব বেশি প্রয়োজনে বাইরে এসেছেন দ্রুততম সময়ে আপনার প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরে যান।" হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন জায়গাতে কখনো হ্যান্ড মাইকে, কখোনো খালি মুখে মানুষকে সচেতন করতে বুঝিয়ে এসব কথা বলতে গিয়ে শুনতে হয়েছে "ম্যজিস্ট্রেট যখন ক্যানভাসার" ইত্যাদি ইত্যাদি।
তবুও নিয়ম করে সকাল, দুপুর, বিকাল -রাত্রি সব বেলাতেই কখনো নমনীয় হয়ে, মানুষেরই জীবনের কথা ভেবে কখোনাবা সরকারি নির্দেশনা মেনে কঠোরতার পথ অবলম্বন করে চেষ্টা করে গেছে এই করোনা যোদ্ধারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীবনকে বাঁচাতে। সরকার নির্দেশিত সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে মানুষকে দিনের পর দিন বহুভাবে বোঝতে চেষ্টা করা হয়েছে। হাট-বাজারে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে নেয়া হয়েছে নব নব উদ্যোগ। তার মধ্যে অন্যতম, উপজেলার সকল সাপ্তাহিক হাট বন্ধ রাখা, কাঁচা বাজার নিয়মিত বাজারের কাছাকাছি কোন বড় ময়দানে স্থানান্তর এবং প্রত্যেক দুইটি দোকানের মাঝখানে ২০ ফুট ও দুইটি কলামের মাঝখানে ৩০ ফুট দূরত্ব নির্ধারণ করে দেওয়া।
মাছের বাজারটিকে বাজারের ফাঁকা হওয়া গলি পথে সম্প্রসারিত করা, যেন প্রতি দুই দোকানের মাঝে যথেষ্ট পরিমাণ দূরত্ব বজায় থাকে। আর ক্রেতাসাধারণ নিজেদের মাঝে শারিরীক দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন।
নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে নগরকান্দা উপজেলায় কর্মরত দুজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট যথাক্রমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রাণান্ত চেষ্টা করেছেন যেন, মহামারির সুযোগ নিয়ে কোন অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে না পারে।
করোনা ভাইরাস মারাত্মক সংক্রমণের প্রধান অন্তরায় যেহেতু মানুষের বাড়িতে অবস্থান করা, সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, তাই এ বিষয়গুলি নিশ্চিত করতেও উপজেলার আনাচে-কানাচে দিনরাত ঘুরে ঘুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রাণপণ চেষ্টা করা হয়েছে। এক পর্যায়ে জানা গেল, বাজারে বাজারে চায়ের দোকান খোলা রাখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করায়, দোকনীরা নতুন কৌশল অবলম্বন করছেন। নিজ বাড়িতে অথবা কেটলি ভরে ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকান চালু করা হয়েছে। কি আর করা খুব গোপনে খোঁজখবর নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেইসব বাড়িতে যেখানে চায়ের দোকান বানিয়ে আড্ডা জমানো হয়েছে। আড্ডরত মানুষগুলি হয়তো ভেবেছে, কি বেরসিক ম্যাজিস্ট্রেট। আর বেচারা দোকানী হয়তোবা ছুড়েছে অভিশাপের তীর। এসব ভেবে প্রথমেই সকল চায়ের দোকানীর ঘরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ পৌছে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয় ভাষায় "চক" (চাষের মাঠ) হয়ে উঠেছিল সারাদিন হোম কোয়ারেন্টাইন শেষে বন্দীদশা থেকে মুক্ত হয়ে বিকালের আড্ডার নিরাপদ স্থান। বেরসিক ম্যাজিস্ট্রেট কাঁদা ভেঙে সেখানেও উপস্থিত!
এসবের মাঝে মানুষের বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের খবরে সেসবও ভন্ডুল করা হয়েছে। আবার অবৈধ ড্রেজার মেশিন চালিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করাতো আরেক যুদ্ধ। সবই করতে হয়েছে করোনা সংক্রমণের বড় ঝুঁকি মাথায় নিয়েই। টিসিবির পণ্য সরবরাহ করার সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাও যেন ম্যাজিস্ট্রেট সশরীরে উপস্থিত না থাকতে হবার নয়। ধর্মপ্রাণ মানুষের মসজিদ -মন্দিরে উপস্থিত হয়ে প্রার্থনা করার বিষয়ে সরকারি পরামর্শ সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং এ বিষয়ে বুঝিয়ে বাড়িতে প্রার্থনা করার অনুরোধ করাতো নিজের বিবেকের সাথেও এক যুদ্ধ। এসময় ধর্মপ্রাণ বা ধর্মভীরুতা আর ধর্মান্ধতা শব্দগুলির অর্থ খুজতে ঠেই না পাওয়ার যন্ত্রণা কাকে বলে বোঝাবো?
যাহোক সে চেষ্টাও করা হলো। এবার আসি ত্রাণের তালিকায়। অনেক দিন এসব করোনা যোদ্ধাদেরকে স্বাক্ষী রেখে সাথে নিয়েই রাতের সাক্ষাৎ পেয়েছে আবার পেয়েছে পরদিন সকালেরও সাক্ষাৎ। মনের চাওয়াতেই এই প্রচেষ্টা, তবু্ও সরকারি এই ন্যায্য উপহার পাক উপযুক্ত মানুষটি। এ যুদ্ধ আজও চলছে, চলবে কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে আমাদের করোনা যুদ্ধ। শেষে, রাতের আঁধারকে সংগ্রামের মাধ্যমে অর্থবহ করে সুন্দর দিনের আলোকে করবো আলিঙ্গন। সকল করোনা যোদ্ধার কপালে এঁকে দিব ভালোবাসার চুম্বন, তাঁদের বিজয়ের হাসিতে।”

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

stay home stay safe
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop