ভাইরাল আইজিপিকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের খোলা চিঠি

০৭-০৫-২০২০, ২২:০৯

সময় সংবাদ

fb tw
আইজিপিকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের খোলা চিঠি
সংস্কারের মধ্যদিয়ে পুলিশ বাহিনীকে দুর্নীতিমুক্ত করারর দাবিতে নবনিযুক্ত আইজিপি বরাবরে খোলা চিঠি লিখেছেন এক মুক্তিযোদ্ধা। বুধবার (৭ মে) নিজের ফেসবুক আইডিতে খোলা চিঠি প্রকাশ করেন গাইবান্ধা সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আলী আকবর মিঞা। তার লেখা খোলা চিঠি হুবহু তুলে ধরা হলো-
বরাবর,
ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার)
সম্মানিত মহা পুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি)
বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা
মহোদয়, 
আপনি বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি নিযুক্ত হওয়ায় গাইবান্ধা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে আপনাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন। একই সঙ্গে আপনার মত একজন দক্ষ, যোগ্য, জ্ঞানী, বিদ্বান, লোভহীন, চৌকস ও সাহসী ব্যক্তিকে আইজিপি নিয়োগ করায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়কে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
আপনি বাংলাদেশ পুলিশের একজন সাহসী ও উজ্জ্বল নক্ষত্র। আপনার নামটি বাংলাদেশের সকল স্তরের জনগণের নিকট সুপরিচিত। কারণ আপনি র‌্যাব এর মহাপরিচালক থাকাকালীন আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গজিয়ে উঠা  সন্ত্রাসীদের পতন ঘটেছে এবং বাংলাদেশ বর্তমানে সন্ত্রাস মুক্ত। আপনি আপনার দক্ষতা ও মেধা বলে সন্ত্রাসীদের উৎপাটন করতে সক্ষম হয়েছেন এ জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে আপনার সদয় অবগতি ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিম্নে বর্ণিত বিষয়গুলো আপনার সমীপে উপস্থাপন করছি। 
মহোদয়, পুলিশ বাহিনী একটি রাজকীয় বাহিনী ও পুলিশ বাহিনী সরকারের ছায়া। সরকার এবং পুলিশ বাহিনী, সরকারের এপিঠ-ওপিঠ। পুলিশ বাহিনী ছাড়া সরকার পঙ্গু অচল ও খোঁড়া।
যেহেতু পুলিশ বাহিনী একটি রাজকীয় বাহিনী, তাই পুলিশ বাহিনীতে সবকিছু রাজকীয় হওয়া বাঞ্ছনীয়। পূর্বে পুলিশ বাহিনীতে সাব-ইন্সপেক্টর ও কনস্টবল পদে নিয়োগের প্রক্রিয়াটি ছিল সম্পূর্ণভাবে নোংরা, দুর্নীতিমুক্ত ও অনিয়মতান্ত্রিক। ২০১৯ সালে প্রাক্তন আইজিপি ডক্টর মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী মহোদয়ের আমলে কনস্টবল নিয়োগে দূর্নীতি প্রায় ৫০% নেমে এসেছে। গত কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মাঠ পর্যবেক্ষণ করে বর্ণিত তথ্য জানা গিয়েছে। আপনার আমলে যেকোনো নিয়োগের সময় দুর্নীতি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হবে বলে আশা করছি। ভবিষ্যতে যেন রাজকীয় বাহিনীতে দেশ প্রেমিক শিক্ষিত ও যোগ্য ব্যক্তি গন দেশের সেবা করার জন্য পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন।
মাঠ প্রশাসনে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পদ দুটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কাজগুলোতে জেলা প্রশাসক এর চেয়ে পুলিশ সুপার পদটি অধিক ক্ষমতাশালী ও গুরুত্বপূর্ণ বলে বাংলাদেশের জনগণ মনে করেন। বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগে অনেক ন্যায়পরায়ণ, দুর্নীতিমুক্ত, দেশ প্রেমিক ও সাহসী কর্মকর্তা রয়েছেন। দেশের স্বার্থে তাদেরকে বাছাই করে পুলিশ সুপার পদে নিয়োগ প্রদান করলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটবে ও দেশ থেকে দুর্নীতির অবসান ঘটবে। দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন হচ্ছে পুলিশের প্রধান কাজ। এ নীতির আলোকে সভ্য দেশে পুলিশের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে নির্দোষ ব্যক্তিগণ হয়রানির শিকার হয়। এ ধরনের হয়রানি বন্ধ করা একান্ত আবশ্যক। আইন এর ভাষায় যদি কোনও দেয়াশী ব্যক্তি রেহাই পায় পাক, কিন্তু কোন ক্রমেই যেন একজন নির্দোষ ব্যক্তি শাস্তি না পায়। আবার কেউ যেন লঘু অপরাধে গুরুদণ্ড না পায়!
মহোদয়, বর্তমানে করোনাভাইরাস ব্যতীত বাংলাদেশের মূল সমস্যা হচ্ছে মাদক, জুয়া ও দুর্নীতি। বর্তমানে মাদকের প্রভাবে বাংলাদেশের যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আবার পুলিশ বিভাগে কিছু মাদকসেবী ও মাদক পাচারকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীর লুকিয়ে আছেন। দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য। তাদের কারণে যেন পুলিশ বিভাগের বদনাম না হয় এজন্য শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে তাদেরকে শনাক্ত করে, তাদেরকে মাঠ প্রশাসন থেকে প্রত্যাহারসহ তাদের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ ও জাতীয় স্বার্থে মাদক সেবন ও সরবরাহ বন্ধ করা আবশ্যক।
যেখানে দুর্নীতি থাকে সেখানে মানুষ কখনো ন্যায় বিচার পায় না! আবার রক্ষক ভক্ষক হলে ন্যায় বিচারের পরাজয় ঘটে, এ বিষয়টি আমলে নেয়ার জন্য আপনাকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। 
মহোদয়, পুলিশ বাহিনীতে কনস্টবল থেকে নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রমোশনের ক্ষেত্রে অনেক সময়ে ক্ষেত্রবিশেষে অনেককে মোটা অংকের টাকা গুণতে হয় বলে জনশ্রুতি আছে। মোটা অংকের বিনিময়ে লাভজনক জায়গায় বদলি বা প্রমোশন হলে ভুক্তভোগীগণ টাকা উঠানোর জন্য পরবর্তীতে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পরেন। এর ফলে অনেক যোগ্য প্রার্থী টাকা দিতে না পেরে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। আবার অনেক যোগ্য ও অযোগ্য ব্যক্তি বাড়িতে জমিজমা এবং স্ত্রীর গহনা বিক্রয় করে টাকা দিয়ে পদোন্নতি প্রাপ্ত হয় এবং টাকা উঠানোর জন্য পরবর্তীতে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পরেন। এর ফলে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।
দুর্নীতির মাধ্যমে প্রাপ্ত টাকাগুলোর গন্তব্য স্থান কোথায় উহা চিহ্নিত করে গন্তব্য স্থানের প্রাসাদ ধ্বংস করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। দুর্নীতির গন্তব্য স্থান ধ্বংস হলে দুর্নীতির উৎস স্থান আপনা আপনি ধ্বংস হয়ে যাবে।
বর্ণিত দুর্নীতি ও অনিয়ম গুলো প্রমাণ করা কঠিন। কারণ দাতা ও গ্রহীতা কেউ অবৈধ লেনদেনের কথা কোনদিন স্বীকার করবে না। শুধুমাত্র গোপন তদন্ত করলে অনিয়ম ও দুর্নীতি গুলো উদঘাটিত হবে। অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিগণ অবৈধ টাকা গ্রহণ না করলে কম ক্ষমতাশালী ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণ অবৈধ লেনদেন করতে কোনদিন সাহস পাবেন না। পচন শুরু হয় মাছের মাথা থেকে। মাথায় পচন ধরলে উহা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ছড়িয়ে পড়ে। মাথায় যেন পচন না ধরে এজন্য কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।
আপনি বাংলাদেশ পুলিশের একজন সিংহ পুরুষ ও উজ্জ্বল নক্ষত্র। আপনাকে আইজিপি হিসেবে পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশের সকল স্তরের জনগণ ভীষণ উজ্জীবিত হয়েছে। আমি নিজেও উজ্জীবিত হয়ে পুলিশ বাহিনীতে ঘুণে ধরা ও আষ্টেপৃষ্ঠে বাধা কিছু দুর্নীতি ও অনিয়ম গুলো দূরীকরণের জন্য আপনার সমীপে পেশ করলাম এজন্য যে আপনার দ্বারাই সমস্যাগুলো সম্পূর্ণরূপে সমাধান সম্ভব। কারণ যে কাজগুলো অন্য কেউ করতে পারবে না সে কাজগুলো আপনি করতে পারেন।কারণ আপনি অতীতেও র‍্যাবের মহাপরিচালক থাকাকালীন এর প্রমাণ দিয়েছেন।  তবে এরুপ দুঃসাধ্য কাজ গুলো করতে সরকারের সদিচ্ছার প্রয়োজন।
১৯৭১ সালে পুলিশরাই প্রথম পাকিস্তান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছিলেন। তেমনি বাংলাদেশে করোনাভাইরাস চিহ্নিত হওয়ার পর বাংলাদেশ পুলিশই প্রথম করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে শহীদ হয়েছেন এবং অনেক পুলিশ বাহিনীর সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।এর ফলে বর্তমানে পুলিশের ইমেজ বহু গুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বর্তমানে ডাক্তার সাহেবগণও পুলিশ বাহিনীর সাথে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছেন।
আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত জয়লাভ করে পুলিশের ইমেজ আরো বৃদ্ধি পাক এ আশা পোষণ করছি।
বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পর আইন প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আপনি দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। আপনি আপনার ক্ষমতা প্রয়োগ করে পুলিশ বিভাগের দুর্নীতি ও সমস্যাগুলো দূর করলে আপনি ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন এবং বাংলাদেশ পুলিশের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে ও বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগের উন্নয়ন ঘটবে।
পুলিশ মানুষের শেষ ভরসাস্থল। কেউ যেন অন্যায় করে পার না পায় এবং সবাই যেন ন্যায় বিচার পায় উহা নিশ্চিত করণ ও আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ অনন্য উচ্চতায় উঠুক এবং আধুনিক পুলিশে  রূপান্তর হোক এই আশা পোষণ করছি।
আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ সত্যিকার অর্থে যেন রাজকীয় বাহিনীতে পরিণত হয় ও বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্ন বাংলাদেশ যেন সোনার বাংলায় রূপান্তরিত হয় এ আশা পোষণ করছি। এ পৃথিবীতে আমরা যেন বাংলাদেশ পুলিশকে নিয়ে গর্ববোধ করতে পারি।
পরিশেষে আপনার সফলতা ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। আল্লাহ আপনার সহায় হোক। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।
অনুলিখন:
আলী আকবর মিঞা 
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (সাবেক) 
সদর উপজেলা, গাইবান্ধা।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

stay home stay safe
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop